সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ব্যক্তি ও সমাজ ভাবনা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বই কেনা ও প্রযুক্তি সঙ্গ

আমার একটি চিরায়ত অভ্যাস হচ্ছে—বই কেনা। টাকা থাকলে বই কিনি—না থাকলে ধার করে কিনি। পরে টাকা হাতে আসলে—পরিশোধ করি। কথা সেটা নয়—কথা হচ্ছে—কতিপয় জ্ঞানপাপী লোকজন—এটাকে ফাও খরচ মনে করে। নিরুৎসাহিত করে। বড়ই দুঃখজনক ব্যাপার! সৈয়দ মুজতবা আলীর “বই কেনা” ও প্রমথ চৌধুরীর “বই পড়া” প্রবন্ধ পড়ে—এত বেশি বই কেনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি—গো-গ্রাসে বই কেনা শুরু করি। খাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে বই কিনি—পোশাক কেনার টাকা বাঁচিয়ে বই কিনি। শুরুর দিকে যখন বই কিনতাম—তখন পড়া অত হতো না। একটা সময় চোখের সামনে অজস্র বই—খুলে দেখতে দেখতে—কখন সব পড়ে ফেলতাম তার ঠিক থাকতো না। এখনো বই কেনা—বই পড়ার অভ্যাসটা জারি রয়েছে। মৃত্যু অবধি এভাবে বই পড়ে কাটিয়ে দিতে চাই। সত্যিকারার্থে, বই পড়ার স্বাদ—একবার যে আস্বাদন করতে পেরেছে—সে বাঘের নর-মাংসের স্বাদ পাওয়ার মতই—উন্মাদ হয়ে বই পড়ে। ‍টাকা তার কাছে কোনো বিষয় না—ধার করেও সে বই কিনে পড়ে। আমার এটাই হয়েছে। এমনও হয়েছে—দূরের লাইব্রেরিতে ৫০ টাকা নিয়ে—বাই-সাইকেল চালিয়ে বই কিনতে চলে গেছি। আমার পড়ার মত বই—হাতের নাগালে না থাকলে—এটাই করতাম। একবার ৫-৫ কিলোমিটার পথ হেটে বই কিনে নিয়ে এসেছিলাম। বাস্তবতা বড়ই কঠিন...

‍দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবন গড়তে হলে

  অযথা কেনো আপনি নিজেকে নিয়ে এত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ‍দুশ্চিন্তা কখনো আপনার সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। সমস্যার আশু সমাধান করার জন্য আপনাকে সমাধান সুত্র আবিষ্কারের পথে অগ্রসর হতে হবে। আর আপনাকে সমাধানের পথ আবিষ্কারের জন্য—পড়ালেখা (বই-পত্র ও পত্রিকা) এবং প্রচুর টিউটোরিয়াল দেখতে হবে। ব্যবহারিক জ্ঞানার্জনের জন্য—বর্তমানে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখার বিকল্প নেই। সাধারণ কোনো অফলাইন কোর্সের চেয়ে হাজার গুণ বেশি কার্যকর এটা। একটা প্লে-লিস্ট দেখে বুঝতে না পারলে—লক্ষ লক্ষ ভিডিও রয়েছে। সেগুলো দেখে আপনি অনায়াসে যেকোনো কাঙ্খিত বিষয় শিখতে পারেন। শুধু আপনার আগ্রহ এবং লেগে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। হাল ছাড়া যাবে না। অযথা আড্ডাবাজি আর কালক্ষেপণ করে সময়—অপচয় করলে—আপনার জীবন হবে—করুনার পাত্র। নির্দিষ্ট সময় পরে—দয়া-দক্ষিণা গ্রহণ করে—জীবনাতিপাত করতে হবে। যেটা আসলে মাহুতের হাতির মত—জীবনাচারের সামিল। অতিকায় হয়েও সে—ছোট্ট মানুষের কাছে পরাধীন। আড্ডাবাজি কমিয়ে—নিজের দক্ষতা বাড়াতে সময় ব্যয় করুন। কাজে ‍দিবে। চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা বন্ধ করে—আপনার হাতের স্মার্টফোন ও পিসিটা অন করে বসে পড়ুন। অবাঞ্চিত চ্যাটিং-চাটাং ব...

ভালো থাকার মানে

  ভালো থাকার মানেটা অন্য রকম। অতি-সম্পদ থাকা মানেই—আপনি ভালো থাকবেন—এমনটা নয়। মানসিক শান্তির যায়গাটা—আগে নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার সম্পদ যদি আপনার শান্তির যায়গা নষ্ট করে দেয়—তাহলে আপনার সব কিছুই বৃথা। শত পরিশ্রম করেও কোনো লাভ নেই। বৈধ-পন্থায় টাকা-সম্পদ অর্জন খুবই মহৎ কাজ—নিঃসন্দেহে। তবে, এটার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশটা আরো বেশি জরুরি। কারণ, এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ আপনাকে মানসিক শান্তির যায়গা তৈরি করে দেয়। বর্তমানে মানুষ না খেয়ে মরে না—মানসিক অশান্তিতে ভুগে—কায়ক্লেশে মারা যায় বেশি। যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ—তার বেশিরভাগই এই অশান্তির কারণেই নেয়। মানসিক অশান্তি আপনার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে—নিকৃষ্ট জীবনাচারে উদ্বুদ্ধ করে। বহু কেস স্টাডি থেকে জেনেছি—মানসিক অশান্তির কারণে—ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষ তার স্বাভাবিক-মসৃণ জীবনাচার থেকে ছিটকে পড়েছে। আবার একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে—যারা অন্যের ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী যে নিজের বিপদ-আপদের কথা পর্যন্ত ভুলে যায়। নিজের আত্ম-পরিচয় ভুলে—পৃথিবীর মানুষ কি করে—সেটা নিয়ে সারাদিন কটু-কথায় কাল-যাপন করতে থাকে। হুশ ফেরার পরে দেখে—দু...

জ্বলে উঠুন, আপন শক্তিতে

আপনি যদি আত্মিক ও আর্থিকভাবে (দুটোই সম্পূরক) নিজেকে আরো বেশি সমৃদ্ধশালী মানুষে পরিণত করতে চান—তবে আপনার নিজস্বতাকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে। এর বিকল্প নেই। পরিবেশ-প্রতিবেশে—আপনার প্রত্যেকটা কৃতকর্মের—অপরিণত মস্তিষ্কের সমালোচকের অভাব নেই। এগুলো হলো উচ্ছিষ্ট—এরা “বাবার খেয়ে, বনের মহিষ তাড়িয়ে বেড়ায়”। যদিও এরা আপনার নিজস্বতায় কখনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না—যদি আপনি সে সুযোগটা না দেন কখনো। আর সেটা দেওয়াটা মোটেও উচিত নয়। প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব জগত থাকা উচিত—কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির যুগে—এটা মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। এটা যে শুধু হারানো গেছে তা নয়; এটা অত্যন্ত মর্মান্তিকও বটেও। নিজস্বতা না থাকার কারণে—নিতান্তই প্রভাবিত হয়ে—ভুল পদক্ষেপে মানুষের জীবনহানিকর ঘটনাও ঘটছে। আমার সবচেয়ে বিস্ময় লাগে—এখনকার অটো বাঁশ খাওয়া জেনারেশন ( Gen-Z) স্বেচ্ছায় তার নিজস্বতাকে আত্মহুতি দিয়ে দেয়। এরা হুজুগের বশে সব কিছু বিবেচনা করতে শিখেছে। হুজুগের বশ হচ্ছে—তড়িৎ বিবেচনা—যেটা ভয়ঙ্কর—মানসিক দাসত্বের নামান্তর। যে কারণে নিজের কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনা করার সক্ষমতা তদের মধ্যে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষা-ব্যবস্থার ন্যাক্কারজনক ধ্বংসের...

সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোড়

সময় উপযোগী দক্ষতা অর্জন করলে, তা কখনো বিফলে যায় না। শুধু দক্ষতা অর্জন নয়, সময় উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তবেই, আপনি সবার থেকে এগিয়ে থাকবেন। ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাবেন না। নিজেকে ভিন্ন ভাবে গড়ে তুলতে যত ধরণের ভালো মানের উত্তোরাধুনিক দক্ষতা রয়েছে অর্জন করতে হবে। টাকার পিছে না দৌড়ে, দক্ষতার পিছে দৌড়ান। যখন আপনার কাজে আপনি পটুত্ব অর্জন করবেন, টাকা এমনিতেই চলে আসবে। টাকার নেশা বড়ই জটিল এক নেশা। আপনার পুরো অর্থনৈতিক ও পারিবারিক জীবনকে ঠেলে দিতে পারে হুমকির মুখে। দেখবেন, টাকার নেশায় পড়ে মানুষ জুয়া খেলে নিজের পকেটের টাকাও শেষ করে ফেলে ফতুর হয়ে যায়। এজন্য বলি অভাব ভালো, টাকার নেশা খুবই খারাপ। অভাববোধ মূল্যায়ন সৃষ্টি করে। দেখবেন, যারা জীবনে অভাব কি জিনিস দেখে নাই, তারা টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের কদর করে না; মানুষকে সম্মান করে না। পাশ দিয়ে মুরুব্বি ধরনের লোক হেটে গেলে ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। এজন্য মানব মস্তিষ্কে অভাববোধ সৌজন্য ও পরিমিতিবোধেরও জন্ম দেয়। অভাব মানুষকে অন্যের দারস্থ করে। জীবনবোধ শেখায়। টাকার নেশায় পড়ে বহু মানুষ পড়ালেখা করে নাই। দেখেছি, তারা চিরকালই একই ধরনের পেশা অবলম্বন করে বেঁচে থাকার চেষ...

বাস্তব জীবন বোধ

সবার জীবনের গতি এক রকম হবে না। এটাই স্বাভাবিক। অপরদিকে, ব্যক্তিভেদে সব কিছুই আলাদা হবে। এটাও স্বাভাবিক। দেখা যায়, একজন ব্যক্তি খুব দ্রুতই জীবনে এগিয়ে যাচ্ছে; হঠাৎ দেখা গেলো তার গ্রোথ স্লো হতে হতে হারিয়ে গেছে। চরম হতাশ! আবার একজন কচ্ছপের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে; জীবনের শেষ পরতে দেখা যাচ্ছে সে জয়ী। জয় সে ছিনিয়ে এনেছে। জীবন তাকে অনেক কিছুই দিয়েছে, দিচ্ছে। কারণ, যে দ্রুত আগায় সে কিছুক্ষন পর শক্তি ও উৎসাহ দুটোই হারিয়ে ফেলে। তাছাড়াও, তার চলার পথটা অজানাই থাকে। গাড়ি দ্রুত চললে যেমন আশপাশের কোন কিছুই ভালোভাবে দেখা যায় না; ঠিক তেমনি। জীবনে যত গতি, তত ক্ষতি। আর যে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করে; চলতে চলতে সে তার আশপাশের প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে গ্রহণ-বর্জন করতে পারে। জানাটা সহজ হয়। জেনে, বুঝে অগ্রসর হলে কেউ আপনাকে আটকাতে পারবে না। আর এই জানা-বোঝাটা থাকলে আপনার জয় নিশ্চিত। এর সাথে শুধু সময়ের সদ্ব্যবহারটা জানলেই বাজিমাত। দুনিয়ার কেউ ঠেকাতে পারবে না। কাজেই, যা করবেন ভাবছেন তা জেনে, বুঝে করুন; ধীরে ধীরে অগ্রসর হোন; সময়ের সদ্ব্যবহারটা শিখুন। এখান থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে জীবনের জন্য।

আপনার সম্পদ

পৃথিবীতে আপনার জন্য সবকিছু নিস্ক্রিয় হয়ে গেলেও, দুটো জিনিস কখনোই স্থবির হবে না। এক. ব্যক্তিগত দক্ষতা। দুই. অর্জিত জ্ঞান। এ দুটোর যথাযথ ব্যবহার আপনাকে করে তুলতে পারে অনন্য। আর এ সব কিছুর উর্ধ্বে 'সময়'। যা আমরা হেলায় নষ্ট করি। ছদ্মবেশী বন্ধুর পিছে অপচয় করি। এটা একান্তই বোকামী বৈ কিছুই না। ভালো বন্ধুর চেয়ে দক্ষ-সৎ-বুদ্ধিমান বন্ধু উত্তম। বর্তমানে মেলে না। পেয়ে যে হারায়, সে মহা বোকা। আমার ক্ষেত্রে বিষয়টা পর্যবেক্ষণের। যত্রতত্র মিশে যাওয়াটা রপ্ত করেছি তজ্জন্যে। গবেষণার খাতিরে অনেক কিছুই খতিয়ে দেখতে হয়। মানুষের প্রতিটি আচরণ, কথা ও কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ কঠিনতর একটি কাজ। যেটার চেষ্টা করি। তবে, দীর্ঘদিনের চর্চার ফলে বিষয়গুলো এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।

প্রত্যুজ্জীবন

মানুষ যখন নানান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে; তখন সে টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। সে তখন নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মুখোমুখি হয়ে বহুধা বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে থাকে। এ অভিজ্ঞতাগুলো চলার পথের মহা পাথেয় হয়ে থাকে সারাজীবন। জীবনে আপনি যতবার সমস্যার সম্মুখীন হবেন; ততবার আপনি নিত্য নতুন সমাধানের পথ আবিষ্কার করবেন। এ আবিষ্কারগুলো আপনার জীবনের মহা মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে। টাকা-পয়সা হাতের ময়লা; হাতে আসলে হাত ফস্কে বের হয়ে যায়; থাকে না; এটা সাময়িক, চিরকালীন নয়। কিন্তু, জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা ও আবিষ্কারগুলো থেকে যাবে চিরদিন। এগুলোই আসল সম্পদ। এগুলোই ব্যক্তি-মানুষকে সম্পদে পরিণত করে। যারা নিজেদেরকে সম্পদে পরিণত করতে পারে, তারা মরে গিয়েও মানবকুলে বেঁচে থাকে দীর্ঘকাল। কাজেই, জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যাগুলোকে অবহেলা নয়; আবিষ্কার করুন নতুন নতুন সমাধানের; নিত্য নতুন পথের। দেখবেন, সমস্যাকে আর বিপদ মনে হবে না; তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে হবে; সমাধান করে নিজেকে নিয়ে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়।

আধিপত্যকামী মানুষ ও বিরোধীতত্ত্ব

পৃথিবীর এমন কোন প্রাণী বা বস্তু নেই যে যার শত্রু নেই। একটু ভেবে দেখুন তো, আসলেই কথাটা কতটা যুক্তিযুক্ত। আপনিই হয়তোবা একটু আগেই কারো বিরোধীতা করে কথা বলেছেন। আবার কেউ হয়তোবা আপনার বিরোধীতা করে কটুক্তি করছে; যা আপনার অজানা। পৃথিবীতে সব কথা ও কাজের, প্রতিপক্ষ বা বিরোধী রয়েছে। চাইলেই আপনি তা নির্মূল করতে পারবেন না। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এটা ছিল, আছে এবং থাকবে। তদনুসারে বুঝে এগিয়ে চলা বুদ্ধিমান লোকের পরিচয়। একে-অন্যের বিরোধ শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। আধিপত্য বিস্তার সকল প্রাণীকুলের সমাজে চিরাচরিত রীতি। সেটা বুদ্ধিবৃত্তিক হোক বা বাহ্যিক অথবা অন্য যেকোন ধরনের। নিজের চিন্তা জগতেরও বিরোধ রয়েছে প্রতিটি মানুষের। আধিপত্যকামিতা মানুষের এক চরমতম রোগ। যার কারণে সমাজে নানান ধরনের অসঙ্গতি বিরাজমান ও সমাজ সমস্যা সংকুল। নিজস্ব ভাবনার যায়গা থেকে মানুষ হিসেবে যখন আপনি অন্য কাউকে অবমূল্যায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত হবেন; বিপত্তিটা বাধে ঠিক তখনি। অবমূল্যায়নের চেতনা জাগে নিজেকে জাহির করা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মনোবাসনা থেকে। নিজেকে অন্যের উপর জোর করে প্রতিষ্ঠা করা; নিজের ভালো লাগা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়াটা...

অবাঞ্ছিত লোক পরিত্যাজ্য

যারা আপনাকে সম্মান দিয়ে কথা বলে না। যারা আপনাকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে তুই-তুকারি করে কথা বলে। আপনার শারীরিক গঠন নিয়ে রসিকতা করে। আপনার পরিবার নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করে। আপনার সামাজিক অবস্থানকে হেয় করে। আপনার বংশ মর্যাদাকে খাটো করে দেখে। আপনার সামনে এসে প্রবল আত্মপক্ষ সমর্থন দেখায়। এক কথায়, এ ধরনের ছ্যাচড়া লোকজন জীবন থেকে চূড়ান্তভাবে পরিত্যাগ করুন। পৃথিবীতে বিকল্প সৎ মানুষের অভাব নেই। এরা আপনার বিপদে বন্ধুর পরিচয় দেবে না। আপনার মধু চেটে খাওয়া শেষ হয় গেলে শূণ্য মৌচাক ফেলে আপনাকে সহ রেখে চলে যাবে। আপনার দুঃসময়ে ফিরেও তাকাবে না। আপনার উপকারের কথা তখন উল্টো অপকারের গল্পে পরিণত করবে। এরা চিরকালীন কৃতঘ্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এরা অসামাজিক, অসভ্য, অমানুষ। সময় গেলে মানসিক কষ্টে ভুগবেন; সময় থাকতে পরিত্যাগ করা শ্রেয় বলে বোধ করি। আমাদের মূল সমস্যা আমরা এখনো সভ্যতার আলোয় আলোকিত হতে পারেনি। পড়ালেখা যারা শিখছে, তারা কিছুটা বুঝতে শেখে। আর যারা জানে না বা অল্পই জানে তারা তো রীতি মত অসভ্যতার নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে রয়েছে। এরা মূল্যবোধহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মূল্যবোধহীন। শ্রদ্ধাশীলতা...

শিষ্টাচারবোধ ও সামাজিক অসভ্যতা

ব্যক্তির অসভ্যতা ও অসামাজিক আচরণ পরিমাপের সহজবোধ্য উপায় হচ্ছে তার শিষ্টাচারবোধের পারদ নিরেখ করা। যেটাকে কর্পোরেট দুনিয়ায় এটিকেট বলে। এটা সবার মধ্যে থাকে না। এটা সম্পূর্ণটাই শিখনফল। ছোটবেলা থেকে পরিবার ও শিক্ষালয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। সবার পারিবারিক কাঠামো সমান না; আবার বিভিন্ন কারণে সবাই উন্নত শিখন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায় না। তবে, চেষ্টা করলে যে কেউ শিষ্টাচারবোধ অর্জন করতে পারে; স্বশিক্ষার মাধ্যমে। যদিও এটার দেখা মেলা ভার। যার বোধের পারদ যত উচ্চ, তার শিষ্টাচারবোধ তত উন্নত। দেখবেন, কিছু অসভ্য রয়েছে যারা সব মানুষের সাথে একই অসভ্য আচরণে অভ্যস্ত। আপনি যেই হোন, ব্যক্তিভেদে আপনার আচরণের পারদ আলাদা করতেই হবে। কারণ, সব মানুষই আলাদা; কেউ কারো মত নয়। ১৯/ ২০ হতে পারে। তাই বলে কারো সাথে অসদাচরণ করা যাবে না। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্বোধন পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হওয়া জরুরি। আপনার যোগাযোগের দক্ষতার উপর এটা মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। উন্নত মস্তিষ্কের সঙ্গ হাতছাড়া হয়ে যাবে। বহু সৎসঙ্গ আপনাকে পরিত্যাগ করবে। সময়ের ব্যবধান মাত্র। আর যদি আপনার শিষ্টাচার বোধের পারদ নিম্নগামী হয় এব...

সুখ-শান্তির প্যাঁচ

আপনি হয়তোবা ভাবছেন, আপনার পাশের লোকটি কতই না সুখ-শান্তিতে আছে। কিন্তু, ঐ ব্যক্তিই জানে সে কতটা কষ্ট আর অশান্তি নিয়ে জগতে বাস করছে। আমরা আসলে অন্যকে নিয়ে কাল্পনিক চিন্তা-ভাবনা করতে, বেশি ভাবতে পছন্দ করি; আর অন্যের দুঃখ-কষ্টকে তুচ্ছ করে দেখি। এটা ঐ কাল্পনিক সুখ অনুভবেরই অংশ। যা আসলে বাস্তবে পাওয়া যায় না। সম্ভবত, অন্যকে ভেবে কাল্পনিক সুখ অনুভব বাঙালিপনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির রক্তে-মাংসে মিশে আছে মিথ্যে সুখ অনুভবের কেচ্ছা। চিরাচরিত ব্যাপার। জগতের সব মানুষ ভালো আছে; আমি যে ভালো নেই, এটা বাস্তবে হোক আর কথাচ্ছলে হোক বুঝাতে হবেই। অনুভূতি এতই প্রবল যে পান থেকে চুন খসলেই সব শেষ, এমন একটা ভাব নিয়ে চলে। জীবন মানেই দুঃখ-কষ্ট এবং সমস্যা। আর সমাধান করে এগিয়ে যাওয়ার নাম মানুষ। প্রাণ থাকলে প্রাণী; সাথে বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞান-প্রজ্ঞা থাকলে হয় মানুষ। এগুলো মানুষকে প্রাণীর কাতার থেকে প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত করে। আমার পিতামহ বলতেন, "ভালমন্দ মিলিয়েই মানুষ। এর ব্যত্যয় ঘটবে না। দুটোই সব মানুষের জীবনে থাকবে।" একবার ভেবে দেখুন তো, আপনার কি কি আছে। যেটা অন্যদের থেকে আপনাকে আলাদা করে; আপনার স্বাতন্...

রাজকীয় মস্তিস্কে, রাজপ্রসূত ভাবনা

রাজনৈতিক ব্যাপার। মানুষ বলে, শালার পশ্চাতে বাঁশ দিয়েছে, আসলেই কি বাস্তবের বাঁশ পশ্চাতে ঢোকানো সম্ভব! সম্ভব না। কৌশলে বোঝানো হচ্ছে, ঢোকানো হচ্ছে অনেক কিছু। বুঝতে হবে, বোঝার চেষ্টা করতে হবে। রাজনীতি রাজার নীতি, বুঝতে হলে রাজকীয় মস্তিষ্ক দরকার! কথার কথা বললাম। কারণ, কথার পশ্চাতে অনেক কথা থাকে। খুঁজে বুঝতে হয়। অপরিণত মস্তিস্কে রাজপ্রসূত ক্রিয়াকলাপ বোঝা মুশকিল। অভাববোধের যায়গা থেকে দুড়ুম করে গালি দেয়া সহজ। কিন্তু, বোধের পারদ উঠিয়ে বোঝা ভয়ানক কঠিন। রাজনীতির কোন কলকাঠি কখন নাড়াবে বা নড়বে বোঝা বোদ্ধার কাজ। না বুঝে গালি দেয়া, নির্বোধের কাজ। যথাযথ চর্চা ব্যতিরেকে তা বোঝা মুশকিল। রাজনীতির র বোঝার জন্য জানতে ও বুঝতে হবে, উদ্দেশ্য-বিধেয়। যে চলে আর যে চালায়, পার্থক্য রয়েছে উভয়ের। বোধ শিকেয় তুলে গালি-গালাজ করা আর মানুষ চরানো আকাশ-পাতাল ভাবনা ও বোধের ব্যাপার।

অপরিণামদর্শী চেতনার আস্ফালন

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি, মধ্যযুগের ইউরোপের ইতিহাসের প্রায় পুরোটা ধর্মযুদ্ধের ইতিহাস। প্রায় প্রত্যেকটা যুদ্ধে কোন না কোনভাবে ধর্মীয় চেতনার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। মধ্য যুগে ইউরোপে খ্রীষ্টানরা বর্তমানের মুসলমানদের মতই নিজেদের মধ্যে ব্যাপকতর ফেতনা-ফাসাদে লিপ্ত হত। যা তাদের ধর্মকে বিকৃত করেছে এবং অপরিণামদর্শী ধর্মবিদদের ধর্মীয় চেতনার অনাচারে অতীষ্ঠ হয়ে সাধারন ধর্মাচারীর বিরাট এক অংশ ধর্মচ্যূত হয়ে গেছে বা ধর্ম বিকৃতির শিকার হয়েছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে যারা ধর্ম সম্পর্কে বেশ অবগত ছিল, তারাই কিন্তু ধর্মীয় ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল; অর্থাৎ, তদানীন্তন খ্রীষ্টান পাদ্রীরা। কারণ, যে জানে না, তার মাথায় সে বিষয় আসবেই না। এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে খ্রীষ্টান জগৎ একেবারে ঠান্ডা মাথায় ধর্মাচারে লিপ্ত। মুসলমান মানে উত্তপ্ত। কিন্তু, কুরআন, সুন্নাহ অনুযায়ী মুসলমানের যে বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিৎ, তা নাই বললেই চলে। নিজে ঠিক থাকে না, অন্যকে নিয়ে বেজায় ব্যস্ত আমরা মুসলমান। কিন্তু মরে গেলে, আল্লাহ বান্দার নিজের কর্মের হিসাব নিবেন। অন্যের হিসাব আপনাকে দিতে হবে না। নিস্তার পেতে অন্যকে নিয়ে ন...

ব্যক্তি চেতনার কিছু দিক

যে ব্যক্তি যে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে, সে ব্যক্তি সে কাজ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করে; মানুষের কাছে সে কাজকে সবচেয়ে উত্তমরূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। মানে তার মাথায় সেটা ঘুরপাক খায়। এটা স্বাভাবিক। তবে, সমস্যাটা হচ্ছে, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অন্যকে বা অন্যের কাজকে ছোট করে দেখার প্রবণতা। "মুই কি হনুরে; গো-ধরা"। ভাইরে, মানুষ সামাজিক জীব। একে-অন্যের উপর নির্ভরশীলতা মানুষকে যুথবদ্ধ হতে উৎসাহ যোগায়। প্রজ্ঞাবানের নিকট নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করার মানেই হয় না। আপনার কাছে যেটা অপ্রয়োজনীয়, আরেকজন সেটা হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে; কারণ, তার প্রয়োজন। আমি সব সময়ই বলি, "পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।" আসুন, বুঝতে শিখি।

সামাজিকীকরণের ধারণা

সমাজ পর্যবেক্ষনের যায়গা থেকে যতটুকু বুঝেছি, আপনার দাদা খেতে পেত না। আপনার বাবাকে কষ্ট করে, নিজে না খেয়ে, খাওয়ায়ে বড় করে গেছে। আপনি বাপের ধনে পোদ্দারি করেন। এই আর কি! বাপের ধনে পোদ্দারি করা সহজ। বাপের না থাকলে, বুঝতেন। একবিংশ শতকে যখন কামলা দেওয়া লাগতো, তখন বুঝতেন। রোদে পোড়ার জ্বালা কত! বাপের ধনে পোদ্দারি করে, মানুষকে ছোট ভাবা চিন্তার অস্বাভাবিক দীনতা। বোদ্ধাগণ আপনাকে কার্টুন মনে করে। মানে ভাড় মনে করে, বিনোদন ও হাসির পাত্রে পরিণত করে। আপনার প্রয়োজন না হলেও, সব পেশা পৃথিবীর প্রয়োজন। পৃথিবীর সব মানুষই সমান। পেশাগত কারণে কেউ ছোট-বড় হয় না। এটা একধরণের শঠতা। শোষন-শাসনের অপচেষ্টা। তবে হ্যাঁ, মানুষ তার চিন্তার সমান বড় বা ছোট হয়। বয়সের নিরিখে ছোট বড় হতে পারে। পেশা একটি বিষয়-নিরপেক্ষ ভাবমূলক ধারণা। ব্যক্তিভেদে আলাদা। একই কাজ বিভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে করে থাকেন। মেলে না। আপনি পেশাগত কারণে কাউকে ছোট ভাবলে, আপনার পূর্বপুরুষ ছোট ছিল, এটাই প্রমাণিত হয়। সব কথার এককথা, চিন্তার সংকীর্ণতা অন্যকে ছোট-বড় জ্ঞান করতে উৎসাহিত করে। নিজেকে ছোটলোক প্রমাণ করতে এটুকুই যথেষ্ট। যাদের সামাজিক দক্ষতার ঘাটতি রয়...

লক্ষ্যে যখন অবিচল থাকা কঠিন

ধরুন, আপনি লক্ষ্যে তীর তাক করেছেন; এমন সময় কেউ এসে আপনাকে কাতুকুতু দিল। আপনার অবস্থা কি হবে; আর তীরের অবস্থাই বা কি হবে? এই কাতুকুতু দেওয়া লোকের সংখ্যাই ঢের বেশি। লক্ষ্যে অটল থাকা কঠিন হয়ে যায় এদের জন্য। আরো একটা শ্রেনী আছে যারা শুধু প্রত্যাশার বাণী শুনিয়ে যারপরনায় হয়রানি করে মানুষকে। খুবই খারাপ, জঘন্য কাজ। প্রবাদে আছে, “বাচতে হলে, জানতে হবে।”

দারিদ্রতার সুযোগে উৎকোচ আদায় করা অন্যায়; অপরাধও বঁটে

শুনেছি, ইণ্ডিয়াতে একটা ফুসকাও কিনে খাওয়া যায়। এমনকি কাঠালের একটা কোয়াও কিনে খাওয়া যায়। একটুকরো মাছও কিনতে পাওয়া যায়। দামটাও কনফিগারেশন অনুযায়ী একই; ভাগ করে যেটা হয়, ওটাই। এটার কারণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী যেন সাধ্যানুযায়ী সব কিছুর নাগাল পায় এবং খেতে পারে। কিন্তু, আমাদের এখানে ঘটনা ঠিক এর উল্টো। আপনি যখন অল্প কিছু কিনতে যাবেন, তখন পাওয়া মুশকিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে মোটেও ভালো ব্যবহার করবে না। কখনো-সখনো পেলেও শর্তের শেষ নেই; তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ফ্রিতে মেলে। হিসাব অনুযায়ী দামও দেওয়া লাগে বেশি। আমাদের বিকিকিনিওয়ালারা বেশিরভাগই নৈতিকভাবে চির-অসৎ, অসভ্য। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। প্রতিবছর রোজার মাসে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে প্রতিটি খাদ্য পণ্যের দাম সিণ্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয়া হয়। যতটুকু জানি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজার মাসে ব্যবসায়ীগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে খাদ্য পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়। গরিবদের ফ্রিতে খাদ্য দেয়। আমাদের দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকজন, যাদেরকে আমরা গরিব বলি; তারা সব সময়ই ধোকা খেয়ে বোকা বনে যায়। হয় বোঝে না, নয়তোবা বেশি বুঝে ধোকা খায় বারবার।

আফগানিস্তান ও পরাশক্তির পরাভব

আফগানিস্তানের ঘটনাবলির উপর নজর রেখে বুঝলাম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবাই স্ব স্ব স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। কেউই আফগানিস্তানের জনগণের জন্য চিন্তিত নয়। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ধরণটাও আবার এমনি। কোন পক্ষই আফগানিস্তানে আপামর জনসাধারণের কথা চিন্তা করছে না। হাজার হাজার মানুষ তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর তালেবান খড়গ হস্ত হয় বেশি, এটা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখেছি। তাছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক কারণে আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়া নয়, সমগ্র পৃথিবীর কাছেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীত ইতিহাস ঘাটলে এটার প্রমাণ মেলে। এখানে তালেবানের চেয়ে আফগানিস্তানের ভূমির গুরুত্ব বেশি। প্রক্সি-ওয়ারের সেরা ক্ষেত্র হিসেবেও এর জুড়ি মেলা ভার। ঘটনাচক্রে তালেবান সামনে এসে হাজির। তাই সবাই চেষ্টা করছে তালেবানের সাথে দহরম-মহরম বজায় রেখে চলতে। তালেবানকে ব্যবহার করে সবাই স্ব স্ব স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। তালেবান এখন-তখন পরাশক্তিরগুলোর দাবার ঘুটি ছাড়া কিছুই না। পরাশক্তিগুলো এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে নেমেছে। কার কি লাভ ও ক্ষতি হবে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, তালেবানের যারা ভেতরে বাইরে সমর্থক আছে তাদের কাছে নিছক ধ...

অসভ্য লোক চেনার উপায়?

অসভ্য মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়; সমগ্র মানব জাতির জন্য অভিশাপ এবং বোঝা স্বরূপ। সুযোগ পেলেই এরা আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাতে উস্তাদ। প্রশ্ন হলো, অসভ্যতা পরিমাপের মাপকাঠি কি? কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে এটি। প্রথমত, অসভ্যতা সুনির্দিষ্ট পারদে উঠানামা করে। ঠিক তাপমাত্রা পরিমাপের কাঠির মত। দ্বিতীয়ত, অসভ্যতা প্রকাশ পায় দু'ভাবে। এক. কথাবার্তা ও আচরণে। দুই. কর্ম ও লেনদেনে। দেখবেন, কিছু মানুষ আছে, কথা বলার সময় প্রত্যেকটা বাক্যে খুব বাজে ধরণের শব্দ ও ইঙ্গিতের ব্যবহার করে। খুব সহজে গীবতে জড়িয়ে পড়ে। যেটা কোন আইনে বা ধর্মীয় আচারে স্বীকৃত নয়। বরঞ্চ, শাস্তিযোগ্য পাপাচার। এখন কথা হচ্ছে গীবত আসলে কি? সহজভাবে বললে, ‘গীবত’ শব্দের শাব্দিক অর্থ পরনিন্দা করা, কুৎসা রটানো, পেছনে সমালোচনা করা, পরচর্চা করা, দোষারোপ করা, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা। গীবতের চাইতে আরো বাজে কাজ হচ্ছে, বুহতানে লিপ্ত হওয়া। সহজভাবে বললে, মিথ্যা বলে মানুষকে ফাসানো, ভুল তথ্য দিয়ে বিপদে ফেলা, উৎকোচ আদায় করা, অন্যায়-অপবাদ দেয়। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এসকল বিষয় চর্চা হচ্ছে। অথচ, কেউই এ সকল ব...