সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আসুন নিজেকে জানি; অন্যকে বোঝার চেষ্টা করি

খুবই সংক্ষেপে বলছি! একবার একজন বিমান বন্দরের কেরানি বিমান চালানোর উপর একটি বই কিনলো; যা হয় আর কি! কিতাবী পাণ্ডিত্য জাহির করতেই হবে! বই কিনে, মনের আনন্দে একখান বিমান নিয়ে উড়াল দেয়ার ফন্দি এটে; একপাতা পড়ে, আর সেটা অনুযায়ী স্টেপ বাই স্টেপ বিমান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। মনের আনন্দে নিজের ইচ্ছা মত আকাশে উড়াল দিতে থাকে। বইয়ের পাতা শেষ হওয়ার পথে। এখন নামার প্রক্রিয়া। পড়তে পড়তে শেষ পাতায় গিয়ে দেখে লেখা আছে, বিমান নামানোর প্রক্রিয়া জানতে বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড পড়ুন।  কিরাম ডা লাগে! সেটা তো কিনে নাই! এজন্য বলা হয়, অনুকরণ, মুখস্তবিদ্যা আর স্বেচ্ছাচারী-মূর্খ-আচরণ; সব সময়ই ক্ষতির কারণ। বাস্তবতার আলোকে নিজেকে বুঝতে শেখা আর নিজের প্রয়োজন ও অন্যের মনস্তত্ব অনুধাবন এবং কর্মপন্থার অনুশীলনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বোঝো নাই ব্যাপারটা!

ঈশান কোণের ঈশানী

শুনেছি, আকাশের উদারতা নাকি মহান। তবুও কখনো কখনো তার হৃদয় কালো মেঘে ঢেকে যায়। অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়। পোড়া মেঘ তাকে বৃষ্টিতে ভরিয়ে দেয়। আমারও তাই হয়। কখনো ভাবিনি বিয়োগান্তক কোন ঘটনা ঘটতে পারে, আমার হৃদয়ের সাথে। বাস্তবতার রূপ বড়ই রূঢ় হয় শুনেছি। কিন্তু এতটা হয়, জানতাম না। পাখিটা রোজ সকালে নীড়ের বন্ধন ছেড়ে ডানা মেলে সামনে দিয়ে উড়ে যেত। রাস্তাটা একই বলে জানতাম। কিন্তু সে বা আমি কখনো জানতাম না যে চিরচেনা পথ দুমড়ে-মুচড়ে ভাগ হয়ে যাবে। আকাশটা উদার হলেও পৃথিবীটা একচোখা। হয় কেউ আপনার পক্ষে সাফাই গেয়ে চলে যাবে; নতুবা, বিরোধীতা করতেই থাকবে। বিষয়টা বিয়োগান্তক না হয়ে, মিলনের সুসমাধানের পথে কেউ এগিয়ে দেয় না এখানে। ঈশানী। শরতের শুভ্র মেঘও হার মেনে যায়। সদ্য ফোটা শুভ্র গোলাপ। কৃত্রিমতা নেই। সবই প্রকৃতি প্রদত্ত। দেখেছিলাম সেই চৈত্রের মেলায়। নম্র চোখাচোখি আর হৃদয়ের কোমলতায় বিয়োগ ঘটে সেদিন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি। ঈশান কোনে বাড়ী। তাই তাকে ডাকতাম, ঈশান কোণের ঈশানী বলে। যা হয় আর কি! তারপর থেকে ডানামেলা পক্ষীটাকে দেখার জন্য প্রত্যহ প্রভাতে পথে অপেক্ষা করতাম। বহুবার চোখাচোখি হয়েছে। সে সময় হৃদয় ঝংকার মেরে উঠতো। ছুটির...

ব্যয় ব্যবস্থাপনা শিখুন আগে

সবেমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। হলে উঠেছি ২/৩ মাস হয়েছে। এর কিছুদিন পর আমার রুমে মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন বড় ভাই এসেছিলেন। উনি বোটানির স্টুডেন্ট ছিলেন। এমফিলে ভর্তি হওয়ার জন্যই মূলত এসেছিলেন। ভাই, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিলেন আমাকে। সব কথাই গুরুত্ববহ ছিল। তন্মধ্যে একটা কথা আমার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কথাটা হচ্ছে, ভাই বলেছিলেন, 'প্রত্যেকেরই জীবনে সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করে ব্যয় ব্যবস্থাপনা শেখাটা একান্তই জরুরি। তানাহলে জীবনে সুখ ও শান্তি পাওয়া অসম্ভব হবে।' চলতে চলতে বহু লোকের সঙ্গে দেখা হওয়াটা স্বাভাবিক। দেখি, অধিকাংশ মানুষই কিছু কিছু সময় ব্যয় সংকোচন করতে করতে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। আরে ভাই, ব্যয় সংকোচনের কোন দরকারই তো পড়ে না। ব্যয় ব্যবস্থাপনা না জানলে, আয় বাড়িয়ে বা ব্যয় সংকোচন করেও কোন লাভ হয় না। আমার বাবা সব সময়ই বলেন, 'আয় করার আগে ব্যয় করা শিখতে হয়। তানাহলে কষ্টার্জিত অর্থ চিল-শকুনে খেয়ে ফেলে। দিনশেষে নিজে হয়ে যেতে হয় কুয়োর ব্যাঙ।' তাই বলে কেউ ভাববেন না যে, আমি কৃপণ বা অসামাজিক হয়ে যেতে বলছি। শুধু কিভাবে ব্যয় করলে আপনার আয়-ব্যয়ের সমন্বয় করে সুন্...

আলোকিত জীবনদর্শন

কুত্তা হন্যে হয়ে অন্যান্যদের খুঁজে কামড়ালে, তাতে জলাতঙ্ক হয়। মারাত্মক অসুখের ব্যাপার। কিন্তু, আপনি হন্যে হয়ে বই খুঁজলে, আপনার কামড়ে দুনিয়া বদলে যেতে পারে। সেটা বৈপ্লবিক ব্যাপার। বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের কিছু সমস্যা দেয়া হয়। এখানে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটা এমন যে কে কত সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারে। সৃষ্টিকর্তা মানুষের জীবনের শ্রীবৃদ্ধি প্রকল্পে কিছু সমস্যা দিয়েছেন। যে যত দ্রুত, সহজ-সরল ও সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারে; সৃষ্টিকর্তা তাকে তত সুন্দর ও সম্মানজনক জীবন ও কর্মফল উপহার দেন। আসুন, জীবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে শিখি। সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা ও ভালোবাসা অর্জন করি। জন্তু-জানোয়ারের সরল ভাবনা ও সরল কর্মের সাথে মানুষের মৌলিক পার্থক্যটা হচ্ছে মানুষ জটিল ভাবনা ভাবতে পারে এবং জটিল সমস্যা ও জটিল কর্মের সমাধান করতে শেখে। মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য নেই। কাঁটলে লাল রস সবারই বের হয়। কিন্তু, জীবনের হিস্যায় পার্থক্য টেনে দেয়, দেহের সর্বোপরে অবস্থিত গোল পিণ্ডাকারের মস্তিষ্কটাই। চিন্তার পার্থক্যই মানুষের পার্থক্য। চিন্তার পার্থক্য তৈরি করে ইতিবাচকতা আর নেতিবাকতায়। ইতিবাচক আর নেতিবাচক হয় পঠ...

ব্যাঙের আধুলি

একবার এক কুনো ব্যাঙ রাস্তা দিয়ে লাফাতে লাফাতে গর্ত অভিমূখে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে হঠাৎ করে খেয়াল করে, এক 'আধুলি' পড়ে আছে। ওটা পেয়ে বেচারা বেজায় আনন্দে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে দিল। রাজ্যের রাজাকেও সে পাত্তা দেয় না। কিএক্টাযাতাবস্থা! মনের আনন্দে লাফাতে লাফাতে ঝিলের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় ঝিলের ফাটলে আধুলি খানা পড়ে আটকে যায়। আধুলি দেখা যায়; কিন্তু বেচারার হাত এতোটাই খাটো যে শত চেষ্টার পরও আধুলি খানা সে আর একবার ছুয়েও দেখতে পারেনি। রাজা মহাশয় কুনো ব্যাঙের কাণ্ড দেখে বেজায় কৌতুকানুভব করলেন। ব্যাঙ বাবাজি মনের দুঃখে নিজের প্রতি নিজের ক্ষোভ ঝাড়তে লাগলো। অনুশোচনায় বেচারা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে অসুস্থ হয়ে হঠাৎ একদিন মারা গেলো। ইন্নালিল্লাহ!

রেডিও, এফএম শোনার গল্প

আমাদের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরে হওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ব্যাপারে অনেক কিছুর মিল রয়েছে। তাছাড়া, বহু বাঙালি মুসলমান রিফিউজি হয়ে এখানে চলে আসে; ভারত ভাগের সময় ও তৎপরবর্তী দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময়গুলোতে। তাদের প্রভাব নিতান্তই কম নয়। যাহোক, মেড ইন জাপানের তৈরিকৃত রেডিও ছিল আমাদের মত ৯০ দশকের শুরুতে জন্ম নেয়া ছেলে-মেয়েদের বিনোদনের মোক্ষম মাধ্যম। টেলিভিশনও তখন গ্রামীণ জীবনধারার সাথে অতটা খাপ খাওয়াতে পারেনি। তবে, সে সময় রেডিওর আলাদা একটা জৌলুস ছিল। রেডিও শুনে কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়াতাম। মনে হতো আমি পক্ষীরাজ। অল্প সংখ্যক সরকারী চ্যানেলে বহুসংখ্যক অনুষ্ঠান হতো। গানের অনুষ্ঠান দূর্বার, ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান। রম্য নাটক আয়নাতে ময়না ভাবি, ইজ্জত, সুরত আলীদের ঢঙের তালে অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরা বেশ বোধে পেত। রমজান মাসে ইফতারের আগে ক্বারীদের কুরআন তেলাওয়াত, দোয়ার অনুষ্ঠান, রমজানের ফজিলত নিয়ে আলোচনাসহ সেহরির সময় নজরুলের গজল ও ফজিলতমূলক আলোচনা, পাঁচ ওয়াক্তের আজান শোনাসহ বিভিন্ন ঘরানার বাংলা গান; যেমন, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, লালন গীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বাউল গ...

কথার কথা

→ ফাজিল পোলাপান। দু'দিনের ছেলে-মেয়ে। গ্রামের রাস্তার পাশে বসে প্রেম করে। কি করা উচিত এদের? বলো তো খোকা। তুমি তো অনেক পড়ালেখা শিখেছো। এদের কি করা উচিত তুমিই বলো। সমাজের মাথা খেয়ে এরা বাপ-দাদার আমলের রীতি-নীতি সব ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সব অমানুষ। এখনকার ছেলে-মেয়েগুলো খুব খারাপ। এলাকার বিখ্যাত ইদরিস চাচা আমাদের গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে বসে এসব বয়ান করছিলেন। তাকে খুব হতাশ দেখাচ্ছিলো। মনে হয় কোন একটা সমস্যা আছে। চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, > কি সমস্যা চাচা? কি হইছে? → আর বলো না। রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলাম আমার ছেলে আর ঐ পাড়ার রহমতের মেয়ে দাড়িয়ে প্রেমালাপ করে। বলো তো দেখি এসব সহ্য করা যায়। > চাচা, এসব তো এখন অহরহ চলে। তাছাড়া, এগুলোতে এখন আর খুব বেশি লোকে বিস্মিতও হয় না। আপনাকে এত বিচলিত দেখাচ্ছে কেনো, চাচা? → আপন ছেলে তো তাই কেমন কেমন লাগছে। বোঝো তো এখনো আমরা পুরাতনকে ছাড়তে পারেনি। তাই বুঝি এমন লাগে। তোমরা তো ডিজিটাল হয়ে গেছো সব। হাতের মুঠোয় সব পাওয়া যায়। > জ্বি, চাচা। এখন সবই হাতের মুঠোয়। সবই জানেন বোঝেন তাহলে আপনি ওসব বলছিলেন কেন? → না, কথার কথা বললাম আর কি!

বিসাত্ যখন বিষাদ

গল্পটা এখান থেকে ১৫ বা ২০ বছর আগের। আমাদের এলাকার একজন ব্যক্তির হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ অবস্থা। জমি কেনা, নতুন ইটের ছাদওয়ালা বাড়ি তৈরি, মোটরগাড়ি কেনা আরো নিত্য ফর্দ-ফরমায়েশ। চোখকে বিশ্বাসের কাঠগড়ায় নিয়ে যেতে পারছিলো না কেউ। পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে কুঁড়ি-পঁচিশ বিঘা জমি কিনে ফেললো লোকটা। বয়সও বেশি না। কতই বা হবে আনুমানিক ত্রিশ-পয়ত্রিশ হবে। পড়ালেখাও খুব বেশি জানে না। এসএসসি পরিক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারেনি। তাই আর পড়ালেখা করেনি বলে বলত সে। কুঁড়ি-বাইশ বছর বয়সে বিয়েও করে সে। পরপর ৩ টা ছেলে সন্তান। প্রথম ছেলে সন্তান হওয়ার পর একটা মেয়ে সন্তানের আশায় পরে আরো ২ টা ছেলে সন্তান প্রসব করে তার বউ। এতে করে সংসারের আকারও বেড়ে যায়। ৪র্থ বারে তারা সফল হয়। তাদের ঘর আলো করে ভূমিষ্ঠ হয় এক কন্যা সন্তান। নাম রাখে ফাতেমা। মহা সমারোহে ছয় রাত পালন করে। এর ছয় মাস পরে গালে ভাত অনুষ্ঠান করে। দিন খুবই ভালো যাচ্ছিলো। বিপত্তি শুরু হয় যখন ৪ সন্তানে পড়ালেখা করতে স্কুলে যাওয়া শুরু করে তখন। সন্তানদের পড়ালেখার পিছে খরচ করার চেয়ে জমি কেনাটা তার কাছে লাভজনক মনে হয়। তাই সে হাইস্কুল লেভেলে উঠার পর ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। ছে...

৩০ দিনের একটি অসমাপ্ত প্রেম

(গল্প কিন্তু গল্পই। মিলে গেলে নিঃসন্দেহে তা কাকতালীয় বৈ কিছু নয়।) বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর সব কিছুতে নতুনত্বের ছোয়া কাজ করে। তখন অধিকাংশেরই ১৮ বছর পূর্ণ হয়। এ বয়সে সবারই সব কিছুতেই নতুনত্বের আভা বিকশিত হয়। এর মধ্যে বড় পরিবর্তন ঘটে জৈবিক পরিবর্তন। যার সুত্র ধরে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন সৃষ্টি হতে শুরু করে। যদিও স্কুল-কলেজ জীবনে এগুলোর ছোয়া লাগা শুরু হয়। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে মোটামুটি একটা পক্বতার দিকে যাত্রা শুরু করে। আর সবচাইতে বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাই-ব্রাদার। প্রেম ও জীবন সম্পর্কে তাদের এক এক মস্ত দর্শনের কবলে পড়ে জুনিয়ররা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাদের নিজস্ব দর্শন আরেকজনের উপর চাপিয়ে দিয়ে মজা নেয়া একটা প্রচলিত রীতি। তবে, বিপরীতে সবচাইতে মজার বিষয় কিছু ছোট ভাই এ সকল বড় ভাইদের চেতিয়ে মজা নেয়। তো যাইহোক, অন্য সবার মত আমার বন্ধু সিয়াম ও আমিও এর বাইরে নয়। আমাদেরও একই দশা। প্রেম করা যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাড়াল জীবনে। চেষ্টার কমতি নেই। কোন মতে একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে জমিয়ে কথা বলাতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করতাম। প্রেম সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনা ছিল না। বন্ধুবান্ধব যা বল...

মি ইন্ট্রোভার্ট

(গল্প তো গল্পই। সবই কাল্পনিক এখানে। মিলে গেলে তা নিঃসন্দেহে কাকতালীয় বৈ কিছু নয়।) নদীর ধারে গেলে মন ভালো হয়ে যায়; বলেছিলেন গুরু। এটা শুনে আমার প্রায়ই মন খারাপ হতো; কারনে অকারনে। মন ভালো করতে তাই প্রায়ই ছুটে যেতাম নদীর তীরে। একদা কোন এক রমনীযুগল হেঁটে যাচ্ছিলেন পাশ ঘেঁষে। এরপর মাঝে-মধ্যে ঐ পথে তাদের সাথে প্রায়ই দেখা হতো। শরমের মাথা কাঁটা। আর দিব্যি তারা হা করে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। আমিও একদা অভ্যস্ত হতে থাকি এতে। তারপর কতশত চখাচখি। বন্ধু-বান্ধব কম। ইন্ট্রোভার্ট। তাই বেশিরভাগ সময় একাকী ঘুরে বেড়ায়। গুরুর বাণীতে নদী আমার বন্ধু হয়ে ওঠে। আপন মনে উদ্ভট সব কল্পনার কলকাকলিতে আনমনে একদা হেঁটে চলেছি নদী তটে। হঠাৎ চাহনিতে চোখ-টিপুনি। আমি তখন হতচকিত হয়ে না দেখেছি ভান করে চলে যবো এমন সময় কন্যাদ্বয়ের একজন বলল, "এই যে জনাব এদিকে একটু আসেন।" বয়সে জুনিয়রই হবে। অন্য সবার মত আমিও তখন ইতি-উতি তাকাতে থাকলাম। শরম সম্পন্ন ছেলেদের ক্ষেত্রে একথা মনে হয় শতভাগ খাঁটি। তারপর কন্যাদ্বয়ের একজন বলল, "আপনার ফোন নম্বরটা দেন।" কিছুই বুঝলাম না। না শুনে, বুঝে ডিরেক্ট ফোন নম্বর। একটু অবাকই হলাম তখন। আমি...

মৃত্যুদণ্ড ও কিছু আলাপচারিতা

নতুন ভাবনাগুলো প্রজন্মে নয় প্রজন্মান্তরে গিয়ে কাজ করা শুরু করে। আজকে আপনি যে ভাবনাটাকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। আগামীকাল সেটা কেউ না কেউ সম্ভব করে তুলছে। দু'জনের ভেতরে পার্থক্য একটাই। সেটা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার। শৈশব-কৈশোর কেঁটেছে গ্রামে। একটা সময় ভ্যান-রিক্সাওয়ালার প্যাডেল পাঁকানো দেখে খুব কষ্ট পেতাম। প্যাডেল পাঁকাতে পাঁকাতে অঝোর-ধারায় শরীর দিয়ে ঘাম ঝরতো। খুবই কষ্ট পেতাম দেখে। তখন ভাবতাম যদি এটাতে মেশিন ফিট করা যেতো। এক সময় সেটা হলো! পরে ইঞ্জিন-ভ্যানে চড়তে ভয় লাগে। কারণ, খুবই ঝাঁকি মারে। তখন ভাবতাম যদি মটর ফিট করা যেতো। সেটাও হলো। তারপর ভাবতাম যদি ছাউনি দিয়ে গদিওয়ালা কোন ছোট মোটরচালিত গাড়ি হতো। এখন সেটাও বাস্তব। পরিবেশ-বান্ধব ইজিবাইক। ভ্যান-রিক্সাও এখন আর পায়ে পাঁকানো লাগে না। এগুলোতো স্বল্প পরিসরের, বিস্তৃতভাবে দেখলে অনেক পরিবর্তন আপনার চোখে ধরা দেবে খুব সহজেই। সময়ের সাথে সব কিছুতে পরিবর্তন সূচিত হয়। নিজেকে এবং নিজের পারিপার্শ্বিকতাকে পরিবর্তিতরূপের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মানব-সৃষ্ট কতিপয় বিষয়কে পরিবর্তন করতে হয়। তা না হলে, এডজাস্টমেন্ট প্রব্লেম দেখা দেয়। যেটা সমস্যাকে আরো বেশি প...

কথোপকথন

→ কিয়া জামানা আগায়া ভাই! : ক্যান কি হইছে? → ছেলেরা মেয়েদের মাল বলে আর মেয়েরা ছেলেদের মাল বলে। মানুষও কি বস্তু নাকি ভাই! : সাত সকালে এইসব কি বলিস! → না ভাই বিষয়টা একটু ভেবে দেখেন! দুনিয়া-দারি সব বদলে গেছে ভাই! কই ছিলাম আর কই আসলাম! রক্ষা করো মালিক! : রাখ্ তোর ফালতু কথা! সাত সকালে কি সব ফাউল চিন্তা-ভাবনা! আমি চললাম! → ওকে, বাই! : ওকে!

হুজরামী

ডান পায়ে এবং ডান হাতে প্রচণ্ড ব্যাথা। ফুটবল খেলতাম এক সময়। ৭/৮ বছর পর আবারও একটু সাধ জেগেছিলো। তাই খালি হাত পা আর হাফ-প্যান্ট পরে বাড়ির পাশের খোলা মাঠে নেমে গেলাম। যা হওয়ার হাত পায়ে আঘাত পেলাম। বল ঘুরিয়ে পাস করতে পারেনি ঢপাস করে পড়ে গেলাম বলের উপর। লাগলো হাতে ব্যাথা। পরে একজন এসে দিলো পায়ে লাথি। পাও শেষ। এখন যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছি। অবশ্য কারো দোষ ছিলো না বলে আর ফাউল হয়নি। সিস্টেমের মার-প্যাঁচ। হাটতে তো পারতেছি না। লেখালেখিরও উপায় নেই। ডান হাতের তর্জনী দিয়ে মোবাইলের কি-বোর্ডে ঝড় তুলতাম আর আজকে হাতই তুলতে পারতেছি না। অগত্যা বা-হাতের তর্জনী দিয়ে শুরু করলাম দেখি ব্যাথা আমাকে কিভাবে আটকায়। পারলো না। অবশেষে এই লেখাটা লিখছি। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো আমাদের এলাকার টাকা দিয়ে হুজুর এনে মাহফিল করার কথা। তেমনি এক বক্তার ওয়াজ শুনতে গেলাম পাশের গ্রামে। ময়দানে লোক খুবই কম। পাশের চায়ের দোকান, খাবারের আর মনোহরির দোকানে লোক সমাগম বেশি। যাহোক, আমি ময়দানে বসে ওয়াজ শুনছি। হুজুর অনেকবার লোক ডেকে ময়দানে বসাতে পারেনি। তখন তিনি বিভিন্ন সুরে স্যাটায়ার করতে লাগলেন। এসময় একটা গল্প করেছিলেন। বললেন, এক লোক আরেক লোকের কাছে ২০...

নির্বোধ নিষ্পত্তি

দার্শনিকরা বলেছেন, Human life is not for own, Only others. একটু যদি গভীরভাবে ভাবো তবে বুঝতে পারবে যে মানুষ যুথচারী জীব। তুমি কি একা কখনো বাঁচতে পারবে। পারবে না। একক মনের মানুষ সে তো নির্বাসনের সমান। ধরো, তোমার পাশে কেউ নেই; তখন হয়তো তুমি দুঃখ পেলেও পেতে পারো। কিন্তু, আনন্দ। আনন্দ তুমি কিছুতেই পাবে না। আনন্দ পেতে গেলে পাশে আরেকটি মানুষের প্রয়োজন। সেই কারনেই তো বন্ধু-সান্নিধ্য আমাদের এত প্রয়োজন। প্রশ্ন থাকতে পারে যে, দুঃখের সময়, বিপদের সময় আমরা মানুষকে কাছে পায় না কেন? কে বলেছে পায় না! নিশ্চয়ই পায়। হ্যাঁ ঐ পাওয়ার সংখ্যাটাই হয়তো কম। সেই সংখ্যাটাই তো বাড়াতে হবে। এই দুঃখের সময় মানুষের পাশে থাকা মানুষের সংখ্যাটা বাড়াতে হবে। আর সেটা বাড়াতে পারো কিন্তু তোমরা তরুন-যুবারা। তোমরাই বাড়াতে পারো। দেখবে, দুঃখের সময় মানুষের পাশে দাড়াতে পারলে যে আনন্দ হয়, সুখের সময় কোন মানুষের পাশে দাড়ালে ঐ আগের আনন্দ কিন্তু তার অনেক অনেক বেশি। আর এই বোধটাই তো তোমাদের ভেতর সঞ্চারিত করতে চাইছি। এই বোধটা থাকলে নিজেদের ভেতরকার আমিটা ঠিকই এগিয়ে যাবে মানুষের কল্যানে এবং বিপদের সময়। গত রাতে একটা সিনেমা দেখছিলাম। সে সিনেমার স...

পড়ুয়ার আত্মকাহিনী

কবিতা লিখতে ভালো লাগে! তবে, গল্প লিখতেও তো মানা নেই! যদি সেটা জীবনকে ছুয়ে যায়! জীবনকে তো শুধু কবিতার অন্দরে আটকে রাখা ঠিক হবে না! জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে গল্প! তাই গল্পের বন্দরেও ভিড়াতে হয় তরী। সব সময় হয় না! তবে, উত্তাল সমুদ্রে তরীখানি মাঝে-মধ্যে এ বন্দরে ফিরে আসে নতুন নতুন বাস্তবতা নিয়ে! আজকে তেমনি এক বাস্তবতার গল্প বলি! চা-বিড়ির আড্ডায় প্রায়ই ছোট বড় সবাই আমি, আমরা মিলিত হই। তবে, সেদিন আমার খুব কাছের, খুব প্রিয়, ভালোবাসার ছোট-ভাই আর আমি ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিল না। অগত্যা দু'জনের কথা চালাচালিতে এগুলো বেরিয়ে আসে-- → ভাই আপনি তো বেকার মানুষ। পকেটে টাকা থাকে না। তবুও, আপনার মধ্যে এত রসবোধ, উদ্যম কোথা থেকে আসে? ভাই, দয়া করে একটু বলেন না ভাই! প্লিজ! : বেকারত্ব তো সেদিনের ঘটনা! খালি পকেটে ঘুরে বেড়ানো রপ্ত করেছিলাম অনেক আগেই। পুরানো অভ্যাস! আর সবচেয়ে বড় কথা, আমি ও সব দুঃখের ধার ধারি না। → এত পড়ালেখা শিখলেন। চাকরি-বাকরি কিছু করবেন না? ভাই! : আরে ব্যাটা শোন্, পড়ালেখা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার। অনেকে দেখ্ নিজের মৌলিক অধিকারটা পূরণ করতে পারে না। আমি হয়তোবা পেরেছি। চাকরি নিয়ে ভাবি না। ওটা জীবি...