সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মতামত ও পরামর্শ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডাকসু নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি কথা

বাংলাদেশে বিগত জরিপ অনুযায়ী—৪ কোঁটি ৫৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ টি খনা (পরিবার) রয়েছে। প্রত্যেক খনায় ২/৩/৪ টা করে—স্মার্টফোন রয়েছে। প্রত্যেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই—এখন চাক্ষুস ঘটনাবলী দেখতেছে—কিছু হলেই স্মার্টফোনের ক্যামেরা হাজির—উন্মুক্ত বিশ্ব-ব্যবস্থায় এখন আর কোনো কিছুই গোপন নয়। কাজেই বিগত বছরগুলোতে—যে বস্তাপচা চেতনা, ট্যাগিং, বুলিং, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, ইণ্ডিয়ান ন্যারেটিভ আর দেশি-বিদেশী প্রোপাগান্ডার রাজনীতি চলেছে; তা থেকে মানুষ বেরিয়ে এসেছে। যদি এটা কেউ অনুধাবন না করে—তাহলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মুখ থুবড়ে পড়বে। খুবই সিম্পল! বড় বড় দলগুলোর জন্য এটা অশনি সংকেত। ছোট দলগুলো ধীরে ধীরে ফ্রন্ট লাইনে চলে আসতেছে। বিশেষ করে ইসলামপন্থীদলগুলো। যাদেরকে মানুষ একটা সময় ভোটের রাজনীতিতে গোনায় ধরতো না। অদ্ভূতই বঁটে! বড় দলগুলোর ব্যর্থতার পয়েন্ট ধরেই তারা অগ্রসর হচ্ছে। আর বড় দলগুলো পূর্বতন কড়চা নিয়েই রাজনৈতিক আবর্তনে চলার চেষ্টায় রত। এখন শিক্ষিত-সচেতন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে অনেক হয়ে গেছে। কেউ আপনাকে কিছুই বলবে না। তারা শুধু পর্যবেক্ষণ করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই, ঠিকই তারা আপনার কর্মের প্রতিদান হাড়ে হাড়ে বুঝি...

এককথায় সফলতা ও ব্যর্থতার সংজ্ঞা

সফলতা বলতে বোঝায় লক্ষ্যের দিকে নিরন্তর ছুটে চলা। লক্ষ্যের পিছে সেঁটে যাওয়া। লক্ষ্যচ্যূত হয়ে থেমে যাওয়া, ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করার সামিল। যেখানে থেমে যাবেন, সেখান থেকেই আপনার ব্যর্থতার রথকেতুর উড়ান উপক্রম হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে ৫ লাখ বা ১০ লাখ টাকা আসলেই কি কামানো সম্ভব?

যে বা যারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন; তাদের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, এখানে সফলতার হার খুবই কম। সকল বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে সফলতার সাথে টিকে থাকে মাত্র ২ শতাংশ। ক্যারিয়ারে ভালো করে ১ শতাংশ। পরিসংখ্যানগত দিক থেকে দেখলে সেটাই প্রমাণিত হয়। আমি কাউকে নিরুৎসাহিত করছি না। সত্যটা শুধু উপস্থাপন করছি মাত্র। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে যদি কেউ ঝাপিয়ে পড়েন; আপনার কপাল পুড়েছে বলতেই হয়। স্ক্যামের শিকার হলে, লোভের মাত্রা বেড়ে যায়। তখনই মানুষ উন্মাদের মত ঝাপিয়ে পড়ে এবং ক্ষতি করে, ক্ষতির শিকার হয়। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে সময়, শ্রম দেয়ার ও প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা থাকতে হবে এবং এটা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া। যারা ভালো করছে, দেখবেন তারা একাগ্রচিত্তে দীর্ঘ দিন ধরে লেগে ছিল। বর্তমানে স্বেচ্ছাই অন্তর্জাল ঘাটাঘাটি করে ফ্রিল্যান্সিং শেখা সম্ভব; তবে, মনে রাখতে হবে এটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। সামগ্রিকভাবে বললে দু'মাস, ছ'মাসে এখানে ভালো কিছু করা একেবারেই অসম্ভব। সর্বনিম্ন দু'বছর লেগে থাকার মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে। তবুও, টিকে থাকতে পারবেন কিনা সন্দে...

সামাজিকীকরণের ধারণা

সমাজ পর্যবেক্ষনের যায়গা থেকে যতটুকু বুঝেছি, আপনার দাদা খেতে পেত না। আপনার বাবাকে কষ্ট করে, নিজে না খেয়ে, খাওয়ায়ে বড় করে গেছে। আপনি বাপের ধনে পোদ্দারি করেন। এই আর কি! বাপের ধনে পোদ্দারি করা সহজ। বাপের না থাকলে, বুঝতেন। একবিংশ শতকে যখন কামলা দেওয়া লাগতো, তখন বুঝতেন। রোদে পোড়ার জ্বালা কত! বাপের ধনে পোদ্দারি করে, মানুষকে ছোট ভাবা চিন্তার অস্বাভাবিক দীনতা। বোদ্ধাগণ আপনাকে কার্টুন মনে করে। মানে ভাড় মনে করে, বিনোদন ও হাসির পাত্রে পরিণত করে। আপনার প্রয়োজন না হলেও, সব পেশা পৃথিবীর প্রয়োজন। পৃথিবীর সব মানুষই সমান। পেশাগত কারণে কেউ ছোট-বড় হয় না। এটা একধরণের শঠতা। শোষন-শাসনের অপচেষ্টা। তবে হ্যাঁ, মানুষ তার চিন্তার সমান বড় বা ছোট হয়। বয়সের নিরিখে ছোট বড় হতে পারে। পেশা একটি বিষয়-নিরপেক্ষ ভাবমূলক ধারণা। ব্যক্তিভেদে আলাদা। একই কাজ বিভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে করে থাকেন। মেলে না। আপনি পেশাগত কারণে কাউকে ছোট ভাবলে, আপনার পূর্বপুরুষ ছোট ছিল, এটাই প্রমাণিত হয়। সব কথার এককথা, চিন্তার সংকীর্ণতা অন্যকে ছোট-বড় জ্ঞান করতে উৎসাহিত করে। নিজেকে ছোটলোক প্রমাণ করতে এটুকুই যথেষ্ট। যাদের সামাজিক দক্ষতার ঘাটতি রয়...

ইনস্যুরেন্সের রূপান্তরিত রূপ

♥ ইনস্যুরেন্স সেক্টরে বড় দাগে তিনটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে। এক . কোম্পানির মোবাইল  অ্যাপসে গ্রাহক তার সকল সেবা পাচ্ছে। দুই . মোবাইল ফাইন্যানসিয়াল সিস্টেম (নগদ, বিকাশ, রকেট) এর মাধ্যমে প্রিমিয়ামের টাকা স্বহস্তে বাড়ি বসে জমা দিয়ে ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল রিসিপ্ট পাচ্ছে। কোম্পানির অ্যাপসের মাধ্যমে চেক করেও দেখা যাচ্ছে যে তার জমাকৃত টাকা তার পলিসিতে ঠিকমত জমা হয়েছে কিনা। প্রিমিয়াম ডিউ (বকেয়া) আছে কিনা। তিন . সরকারের 'ইনস্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এণ্ড রেগুলেটরি অথরিটি'র সরাসরি নিয়ন্ত্রিত মোবাইল অ্যাপস 'বীমা তথ্যে'র মাধ্যমেও নিজের ইনস্যুরেন্সের সকল তথ্য নিজেই দেখতে পাচ্ছে। ♥ এখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় গ্রাহকের সাথে কোম্পানির সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যায়গা তৈরি হয়েছে অনেক বেশি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সব কিছুই চাক্ষুষ প্রমাণ। সংশয় বা দ্বিধা থাকলে, আসুন দেখিয়ে দিচ্ছি, প্রমাণ সহকারে। কোন লুকাছুপ্পি নেই। আপনার কষ্টার্জিত টাকায় কেনা আর্থিক নিরাপত্তার সকল তথ্য এখন আপনার হাতের মুঠোয়। কারো যদি সন্দেহ হয় এ মর্মে যে ইনস্যুরেন্সের টাকা ফেরত পাওয়া যায় না; কতজনের সাক্ষাত লাগবে? আসুন...

ভালোটা খুঁজতে হয়। খারাপ, সেতো বারবার কড়া নাড়ে!

♣ ইনস্যুরেন্স কর্মী হিসেবে আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, মানুষ দেশীয়-আন্তর্জাতিক লেভেলের ভুল-ভাল, লোকাল, হায়হায়, এমএলএম, বাটপার টাইপের নামসর্বস্ব কোম্পানিতে বেশি লাভের লোভে পড়ে বেশি টাকা বিনিয়োগ করে ঠকে দু'দিন পরেই বলে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি খারাপ। ♣ আমি খোঁজ-খবর নিয়ে গবেষণা করে দেখেছি যেগুলো আসলেই ইনস্যুরেন্স কোম্পানি না। তারা ক্ষেত্র বিশেষে বেআইনিভাবে ইনস্যুরেন্সের নাম করে টাকা নেয়। এমনকি অনেক সংস্থা রয়েছে, যাদের আমানত গ্রহণের এখতিয়ার নেই। তবুও, মানুষ না জেনে বেশির লোভে সংগোপনে সেখানে টাকা বিনিয়োগ শুরু করে, সঞ্চয় করে। এটা নিছক মূর্খতা! ♣ ব্যাটা, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি খুলতে দম লাগে! ৪০০ কোটি টাকা সরকারকে জামানত দিয়ে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি খুলতে হয়। শর্ত মেনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক-এক্সেঞ্জের তালিভুক্ত হতে হয়। প্রতি মাসে প্রিমিয়াম আয়ের ৩০ শতাংশ সরকারী বন্ড কেনা বাধ্যতামূলক; যেটাকে গ্যারান্টি মানি বা লাইফ ফান্ড বলে। কমিশন, ব্যবস্থাপনার খরচ, স্টাফদের বেতন-ভাতার পরেই না আসে বিনিয়োগ; তার উপর নামসর্বস্ব কোম্পানিগুলোর ক্ষুরধার আঁচড় তো আছেই; আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অসম প্রতিযোগিতা; সবকিছু সহ্য করে লা...

ব্যাংক DPS ও লাইফ ইনস্যুরেন্সের মধ্যে পার্থক্য

১। কত বছরের জন্য DPS করবেন? ♦ ব্যাংকে ১০ বছর। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১০ বছর। ২। কত হাজার টাকা মাসে জমা করবেন? ♦ ব্যাংকে ৫০০০ হাজার। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫০০০ হাজার। (লাইফ ইনস্যুরেন্সে অল্প কিছু টাকা যোগ করে চিকিৎসা খরচও নেয়া যেতে পারে।) ৩। ১০ বছরে কত টাকা জমা দিবেন? ♦ ব্যাংকে ৬ লাখ টাকা।  ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৬ লাখ টাকা। ৪। কেন জমা করবেন? ♦ ব্যাংকে জমানো টাকায় একটি বাড়ি তৈরি করবেন। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে জমানো টাকায় একটি বাড়ি তৈরি করবেন। ৫। মেয়াদ শেষে কত পাবেন? ♦ ব্যাংকে ধরে নিলাম ০৯ লাখ হতে পারে। ♦ লাইফে ইনস্যুরেন্সেও ধরে নিলাম ০৯ লাখ+ হতে পারে। ৬। কোন কারণে ১ বছর পর জরুরী টাকার দরকার, এখন কি করবেন? ♦ ব্যাংকে সার্ভিস চার্জ কেটে নিয়ে আপনার জমা দেয়া টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আপনি কোন টাকা ফেরত নিতে পারবেন না। ৭। আপনার স্বপ্নের বাড়ি তৈরির টাকা? ♦ ব্যাংক থেকে ফেরত নেয়া টাকা খরচ হয়ে গেল। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে অনিচ্ছায় জমা হয়ে থাকল। ৮। হঠাৎ কঠিন কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেন, তখন? ♦ ব্যাংক আপনাকে কিছুই দিবে না। ♦ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১.৫ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত...

লাইফ ইনস্যুরেন্স সমাচার

লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা কেন করবেনঃ মানুষের জীবন বা মৃত্যু যেটাই বলেন, সবই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হাতে। আমরা কেউই প্রিয়জনদের হারাতে চাই না; তবুও, আমাদের এই নির্মম সত্যের সম্মূখীন সবারই হতে হয়। এমনকি এটি সবার ক্ষেত্রে ঘটা স্বাভাবিক। কোন কারণে যদি এমনটা ঘটে যায়, তখন প্রিয়জনের মৃত্যুজনিত মানসিক বেদনার সাথে আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হতে হয় সকলের পরিবারকে। ঠিক এই সময়ে একটি লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক বিপদ মোকাবেলায় বড় ভূমিকা পালন করে। লাইফ ইনস্যুরেন্সের নিয়মানুযায়ী, ইনস্যুরেন্সের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে যদি গ্রাহকের মৃত্যু হয়, তাহলে তার পরিবার ইনস্যুরেন্স পলিসির সম্পূর্ণ টাকা পায়। ধরুন, আপনি ২ লাখ টাকা সমমূল্যের একটি লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ইনস্যুরেন্সের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আপনি মারা গেছেন; সেক্ষেত্রে আপনার পরিবার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি থেকে পুরো ২ লাখ টাকা পাবে, যা আপনার পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে। আসুন পরিবারকে ভালোবাসি, এটাই চিরন্তনঃ আমরা মানুষ। আমাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পরিবারকে কেন্দ্র করে। আপনি মারা গেলে পরিবার ...

কমনসেন্স বা কাণ্ডজ্ঞান

পড়ালেখা আর কাজের চাপে বহুদিন লেখার সুযোগ পাইনি। আজ নিজেকে আর সামলে রাখতে পারিনি। তাই লিখতে বসলাম। যাহোক, ধরুন, আপনি ভাবছেন আমি যদি এ কাজটা করি তাহলে মানুষ কি বলবে বা মানুষ কি ভাববে। অদ্ভূত! কাজ করবেন আপনি আর মানুষের ভাবনা নিয়ে আপনি চিন্তিত হয়ে নিজেকে অসুস্থ করছেন! যে কাজ করে তারই তো ভুল হয়। আর ভালোর চেয়ে ভুলের অল্প-বিস্তর সমালোচনা উপমহাদেশের কালচার। খারাপ খুঁজে বের করাটা এখানকার মজ্জাগত ব্যাপার। দেখুন, সোজা বাংলা হিসাব! আপনার কর্মের জবাবদিহিতা একান্তই আপনাকে করতে হবে। সুতরাং, নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়াটাই কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয়। যেটাকে আমরা ইংরেজিতে বলি কমনসেন্স। কমনসেন্সহীন মানুষ নির্বোধ হয়। যা তাকে পশুতে পরিণত করে। সাথে অসভ্যতা ফ্রিতে মেলে। তাছাড়া, আপনি যে কাজই করুন; সে ব্যাপারে কোন না কোন বিরোধী লোক জুটে যাবেই যাবে। আর দেখবেন, এ ধরনের লোকের সাধারণত খেয়ে-দেয়ে কোন কাজ নেই। তাই লোকের ফসল নষ্ট করে। খোদার খাসি বলা চলে। কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য না করলে এদের পেটের ভাত হজম হয় না। কোথায় থামতে হয় তাও এদের অজানা। তাছাড়া, এদের জানাশোনার পরিধি তো একেবারেই শূন্যই বলা চলে। এদের এড়িয়ে চলতে হয়। না হলে সাদা কা...

একজন চাচার সাক্ষাৎকার

গত কয়েক মাস ধরে করোনা মহামারী চলছে। সময়টাতে গ্রামে থাকতে হলো। যার কারণে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার ও পর্যবেক্ষণের একটা মোক্ষম সুযোগ হয়। হাতছাড়া করিনি মোটেও। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মত-পথ জানার চেষ্টা করেছিলাম। সেগুলো একটু সাজিয়ে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ্। এদেশের রাজনীতিতে ধর্ম খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও ধর্মানুভূতির একটা বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে এখানে নির্বিঘ্নে সাধারণ রাজনীতি করা যায়। এটাই এখানকার সংস্কৃতি। দু'একজন লাফালাফি করলেও, হালে পানি পায় না। দেশের সাময়িক ক্ষতি সাধন করে; এই আর কি। একবার এক চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম যে চাচা ধর্ম বলতে কি বুঝেন? চাচা বলেছিলেন, আমি মুসলমান। এটাই আমার ধর্ম। জিজ্ঞেস করলাম যে ইসলাম বলতে কি বুঝেন? বললেন, দেখো বাবা, আমি মরে গেলে আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে। আমি ভালো কাজ না করলে আমি পরকালে মুক্তি পাবো না। আমার সন্তানও আমাকে মুক্ত করতে পারবে না। এমনকি আমার পিতামাতা যারা ছিলেন তারাও না। সুতরাং, ধর্ম নিয়ে রাজ্যের খবর জানার দরকার আছে। নিজের কাজগুলো নিজের যায়গা থেকে যতটুকু পারি ততটুকুই ধর্মসম্মত উপায়ে কাউকে আঘাত না করে প...

সভ্যতার চর্চা হোক বারোয়ারি

রাজনীতি হলো রাজার নীতি। এ নীতি সবার বোধগম্য হওয়ার নয়। এটা বোঝার জন্য উন্নত মানসিকতা গড়তে হয়। তার জন্য পড়তে হয়, দেখতে হয়, শুনতে হয়, ভাবতে হয়, উপলব্ধি করতে হয়। হ্যাডম দিয়ে, গালি দিয়ে রাজনীতির র-ও বোঝা যায় নারে পাগলা। ব্যবসা করতে গেলে বিজনেস পলিটিক্স, বিজনেস ডিপ্লোমেসি, জানা লাগে, বোঝা লাগে। জব করতে গেলেও অফিস পলিটিক্স, অফিসিয়াল ডিপ্লোমেসি বুঝতে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটার বহুবিধ প্রয়োগ রয়েছে। এজন্যই তো মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীব হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। যারা রাজনীতি বোঝে, তারা রাজ করে। আর যারা বোঝে না, তারা ইস্যূতে হিস্যূ করে। রাজনীতির উপাদান হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সবখানেই এটা হয়। রাজনীতি যারা বোঝে না, তারাই রাজনীতির মোক্ষম উপাদান। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এদের হাতে ইস্যূ ধরিয়ে দিলে, সারাদিন হিস্যূ করতেও তাদের বাঁধে না। ভেতরে কাজ করা যায় স্বাধীনভাবে। অফিসিয়ালি একটা ইস্যূ এটাচড করতে পারলেই এরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে ওটার পিছে নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে। দেশের জিডিপিতে যেটুকু অবদান রাখার সুযোগ ছিল, তা হারায়। দিনশেষে, দেশের ব্যাপারে কন্ট্রিবিউশন বলতে ইস্যূতে হিস্যূ। বলার মত তাদের কিছু...

ধর্মনিরপেক্ষতা ও তার স্বরূপ; ব্যক্তিগত অনুসন্ধান

অনেকে মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। এটা একটা ভুল ধারণা। আবার, অনেকে মনে করেন। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে নাস্তিকতা। এটা মহাভুল ধারণা। আস্তিকতা বা নাস্তিকতা এ দুটো ধর্মীয় ধারণা। কিন্তু, ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চিন্তাধারা। আস্তিককে নাস্তিক ভাবা যায় না; আবার, নাস্তিককে আস্তিক ভাবা যায় না। কিন্তু, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কৌশল হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা আস্তিক-নাস্তিকসহ সকল মানুষের সব ধরণের চিন্তাধারাকে শালীনতার মধ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি সর্বজনবিদিত রাজনৈতিক ধারণা। ধর্মীয় আইনের পক্ষপাতকে ধর্মনিরপেক্ষ আইন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের মত একটি জড় ভাবনার কোন ধর্ম থাকার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে নিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গিতে অধিকার সংক্রান্ত রাজনৈতিক চিন্তাধারা হিসেবে এর উৎপত্তি। রাষ্ট্রের গায়ে সুনির্দিষ্ট ধর্মের ট্যাগ দিলে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী (ঐ ধর্মের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ নয়) রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগের অলিখিত একচেটিয়া অধিকার পেয়ে যায়। যা ইতিহাস থেকে জানা যায়। কিছু কিছু অধিকারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন ভালো করলেও, পক্ষপাতহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়। ফলশ্রুত...

দেশ ও ধর্ম

দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে সবচেয়ে সস্তা শব্দ হচ্ছে, 'নাস্তিক-মুরতাদ'। আলেম-ওলামাগণ যত্রতত্র শব্দগুলো ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষ ব্যক্তিগত কারণে মানুষ একে-অন্যকে এসকল অভিধায় অবহিত করতেও ভাবছে না। গতকালকে চিটাগাং-রোডে (নারায়ণগঞ্জ) কিছু একসেসরিজ ক্রয় করতে গিয়েছিলাম। দু'জন মুরুব্বি টুপি পরিহিত ছিলেন। সম্ভবত দু'জনেই নামাজ পড়ে বেরিয়ে একটু চা পান করার জন্য চা'র দোকানে বসেছেন। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে একজন বললেন, ভাস্কর্য বিষয়ে সবাই কেমন জানি বাড়াবাড়ি করে ফেলতেছে। তখন অপরজন হঠাৎ ঐ মুরুব্বিকে বলছেন, তুমি তো ব্যাটা নাস্তিকদের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছো। আরো কত বাজে কথা যে শুনতে হলো লোকটার! শুনে খুবই খারাপ লাগলো। মোটামুটিভাবে তাদের কথার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। প্রথমজন শুধু এটুকু বলেছিলেন। আমার  জানামতে, ইসলাম ধর্মের বিধি-বিধান অনুযায়ী কাউকে যত্রতত্র নাস্তিক-মুরতাদ বলা যাবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নিজে স্বীকার করে নেয়। এমনকি জোর করেও কাউকে স্বীকার করানো যাবে না। নিষেধ আছে। শুধু শব্দগুলোর যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে আজকে এ পরিস্থিতি। এক সময় ইহুদি-খ্র...

হালচাল (ডিসেম্বর ২০২০)

আপনি যেদেশে বাস করেন, সেদেশের আইন-কানুন যদি না মানেন বা সেগুলোকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন! তার মানে আপনি দেশদ্রোহী! ইসলাম ধর্ম কখনোই দেশদ্রোহী হওয়ার শিক্ষা দেয় না! তাই সেটা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে গেলেও! সেক্ষেত্রে আপনার জন্য মানসিকভাবে প্রতিবাদ করারও সুযোগ দিয়েছে ইসলাম ধর্ম। দয়া করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করবেন না! শিক্ষা ও বোধের পারদ নিম্নগামী হওয়ায়, এদেশের অধিকাংশ মানুষই আবেগের তাড়নায় ধর্ম পালনে উৎসাহিত বোধ করেন। কিছু কুচক্রি মহল এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে মত্ত হয়ে ওঠে। ইসলাম ধর্মের প্রথম শিক্ষা হচ্ছে শিষ্টাচার! সেগুলো যথাযথ ভাবে মেনে চলুন সকল মুসলমান। আমিন! গতকয়েকদিন ধরে একটি রাজনৈতিক ইস্যূ হিসেবে ভাস্কর্য খুব চাউর বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন কথা হচ্ছে, ভাস্কর্য তো বহুকাল ধরে আছে এদেশে, এতদিন পরে কেন এ লোকগুলো ভাস্কর্যকে হারাম বলে ধো তুলছে! এতদিন তারা কোথায় ছিল! ধর্ম রক্ষার বিষয় এতদিন কোথায় ছিল! ধর্ম রক্ষার নামে তারা এখন কেন জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড সমর্থন শুরু করেছে। ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে ইদানিং! একদম আইএসের স্টাইলে তারা মাঠে নামা শুরু করেছে! ভা...

হে মূর্খের দল শোনো

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা মানে, আস্তাবলে ঘা মেরে পাগলা ঘোড়ার নাচন দেখা! তারপরও, কিছু কথা না বলে থাকতে পারলাম না! যাহোক, তালেবান যখন বোমা মেরে নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করছিল, তখন সবাই সমসুরে বলে উঠলো, ওরা তো মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করে না! আবার যখন আমেরিকা তালেবানের মেরে শুটকি করে, আলোচনার টেবিলে বসালো তখন একশ্রেণীর কাঠমোল্লা সমসুরে বলে উঠলো, জয়তু তালেবান; তালেবান জিতে গেছে বলে রব তুললো; সেটাও এই বাংলাদেশে বসে! ছাগলের মাথায় ঘিলু কম, তাই বলে এত কম তা জানতাম না! ব্যাঁ ব্যাঁ করে ঠিকাছে, তাই বলে এত বিশ্রি ও কর্কশ আওয়াজে করে তা জানতাম না! সাকিব আল হাসান গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন! এটা মনে হয় অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন! চৌধুরী জাফরুল্লাহ শারাফাত সাহেব একদিন বলছিলেন, একবার ফুটবলের ধারাভাষ্য দেয়ার জন্য ওশেনিয়ার কোন একটি দেশে তিনি গিয়েছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি কোন দেশ থেকে এসেছেন? তখন তিনি বলেছিলেন, "বাংলাদেশ"! তখন প্রশ্নকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ওহ্ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের দেশ! তাছাড়া, সাকিব আল হাসানের মত একজন সেলিব্রেটি লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন...

ভাস্কর্য ইস্যূ নিয়ে কিছু কথা

ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে তেমন কিছু লিখবো না বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু, গণিত চর্চা করতে করতে একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। যাহোক, অনেক আগে এক ব্যক্তি নিজের নিরাপত্তার জন্য, অন্যদের থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য একটি ছোট বাচ্চা অ্যানাকোণ্ডা সাপকে লালন-পালনের চিন্তা করে। সে অনুযায়ী লোকটা একটি সাপের বাচ্চা লালন-পালন করে বড় করতে থাকে। সাপটিও তার অনুগত হয়ে তার সাথে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। সমস্যাটা হতে থাকে যখন সাপটি বড় হতে হতে যুবক বয়সে পৌছে যায় তখন। সাপটি মাঝে মধ্যে নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য জোরে জোরে ফোস ফোস করতে থাকে। এতে মালিকও একটু নড়েচড়ে বসে। এমনকি রীতিমত ভয় পেয়ে যায়। মালিক মনে মনে ভাবতে থাকে দুধ-কলা দিয়ে কি কালসাপ পুষলাম। একদিন ঘরে খাদ্য দিতে গিয়ে দেখে সাপটি খাবার কম বলে মালিককে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটা ফ্রাঙ্কেন্স্ট্যাইনের দৈত্যের মত। খেতে খেতে প্রত্যাশার মাত্রা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে খাদ্যদাতাকেও খেয়ে ফেলার চেষ্টা! নির্বোধ দৈত্য বা কালসাপ জানে না; মালিক শেষ হয়ে গেলে, তারও কপালে শনি অপেক্ষা করছে। যদিও নিজের নিরাপত্তার জন্য এসব কালসাপ বা মালিক খেকো দৈত্যের দরকার পড়ে না। বরঞ্চ, এগুলো ...

বাস্তবতার রূপটা রূঢ়ই হয়

আমি সম্মানজনক চাকরি করি! অনেক টাকা-পয়সা আছে! আশে-পাশের নানান শ্রেণি পেশার মানুষ আছে! শুধু যারা আপন বলে পরিচয় দেয়, এদেরকে কখনোই আপন ভাবতে পারি না! সবাইকেই সাধারণ মনে হয়! বিশেষ কেউ নেই! একাকিত্বই যেন চিরন্তন সত্য! বিপদে যারা পাশে থাকে না; তারা আপন হয় কিভাবে! সবচেয়ে খারাপ লাগে, যখন ক্রাইসিসের সময় অনেকে অসৎ সুযোগ গ্রহণ করে তখন! আরো খারাপ লাগে, যখন দেখি সারা জীবন যাদের বন্ধু ভেবে এসেছি, তারা যখন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে! মনটা আমার হাতির মত, পড়ে গেছিলাম গর্তে! এ গর্ত হাতির জন্য কঠিন হলেও, আমি মানুষের জন্য কঠিন না! কখনো কখনো সময়টা খারাপ যায়, মানুষ কখনো ফেলনা হয় না! অর্থনৈতিক জীবনের শুরুতে সব মানুষেরই ক্রাইসিস থাকে! ভয় পাওয়ার কিছু নেই! শুধু মাথা ঠাণ্ডা রেখে, সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করে যেতে হয়! মানুষ হিসেবে, তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ বোধের পারদ। যার বোধের পারদ যত উচ্চ, সে তত উন্নত চিন্তা ও মননের অধিকারী হয়। অসভ্যতা দেখে কখনো সে ভয় পায় না। সুচিন্তিত উপায়ে কোন না কোন পথ খুঁজে বের করে। নিজেকে ভালো রাখার জন্য কখনো আয়ত্বের বহির্ভূত পরিকল্পনা গ্রহন করতে নেই এবং সে অনুযায়ী কাজ করলে সময় অপচয় ছাড়া কিছুই হয়...

করোনা পরবর্তী উৎপাদন ব্যবস্থায় সংকট অনিবার্য

করোনার কারণে বাজার অর্থনীতিতে পরবর্তী উৎপাদন ব্যবস্থায় উৎপাদন কমার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে! কারণ, এই করোনা মহামারী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে নারী ও সংখ্যালঘুদের। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের বিশাল একটা অবদান অক্ষত ছিল; যেটা ধীরে ধীরে মলিন হতে শুরু করেছে। কারণ, সংসার ও বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্বটা দেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা একহাতে সামলান! তদুপোরি, তারা গৃহস্থালীর কাজ সামলে উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশাল অবদান রাখেন। স্বীকৃতি মেলা ভার। সেটা গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি কাজ থেকে শুরু বর্তমান দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গার্মেস্টস শিল্পের পুরোটাই তো নারী শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত। এ নারীদের অনেকেই চাকরি থেকে অব্যহতি পেয়ে গ্রামে চলে গেছেন। বরঞ্চ, অনেকে সাংসারিক কাজ কর্মে মনোযোগ দিতে গেয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসার নিয়েছেন।

হে পথিক; একটু ভাবুন

পথিকের প্রয়োজনে পথ সৃষ্টি হয়! কাজেই, আপনি আপনার প্রয়োজনের বিষয়ে স্পষ্টতা অর্জন করুন! পথ খুলে যাবে! আপনার চারপাশটা কখনো কখনো আপনার প্রতি বক্র হয়ে আচরণ শুরু করবে। কখনো ইষৎ পিচ্ছিল হয়ে ফেলে দিবে। কখনো বৈরি আচরণ শুরু করবে। আপনাকে শুধু ইস্পাত সদৃশ দণ্ডায়মান থাকতে হবে। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, মানুষ তা মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে, দুনিয়ায় মানুষ তার রাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে যত ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন ঘটেছে, সেগুলোর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে অনেক সময় লেগেছিল। তবে, ঐ সময় বিশ্বব্যাপী এত দ্রুত সংক্রমণ ঘটেনি। এখন যতদ্রুত সংক্রমণ ঘটেছে, ততদ্রুতই প্রতিষেধকও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যেমন প্রযুক্তির অবদান রয়েছে, তেমনি দ্রুত প্রতিষেধক আবিষ্কারের পেছনেও প্রযুক্তির অবদান রয়েছে প্রচুর। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করুন। দেখবেন, কোন না কোন পথ খুলে গেছে।

বহুল প্রচলিত একটি কুযুক্তি

যখনই কোন বিষয়ে কাউকে বলা হয় যে সে এটা ঠিক করেনি; তখন সে সচকিত হয়ে বলে ওঠে, কেন শুধু আমি করলেই দোষ! আরো দশজন তো এটা করে। আসল কথা হচ্ছে, ভুল বা খারাপ যে বা যারাই করুক সেটা ভুল বা খারাপই! তাই সেটা একজন করুক আর দশজন করুক! নিজের বা নিজেদের কুকর্মের বৈধতা দানের জন্য আর দশজনের কুকর্মের উদাহরণ দেয়াটা শুধু ভুল না, মহাভুল! কারণ, দশজনের কাজটাও তো ভুল হতে পারে! ভুল বা খারাপের মানদণ্ডের সাথে দশজনের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে ফেলাটা মূর্খতা। মানদণ্ড আর কর্মকাণ্ড আলাদা দুটি বিষয়। মানদণ্ড কর্মকাণ্ডের সঠিকতা বা বেঠিকতা যাচাইয়ে প্যারামিটারের পারদ! ধরুন, একটি ছেলে বা মেয়ে মাদক সেবন করে। তাকে বলা হলো, সে যে কাজটি করে, সেটা খারাপ এবং ক্ষতিকর! তখন সে যদি বলে যে, এটা তো আরো দশজনে করে! তার মানে কি এটা দাড়ায় যে দশজনে করে বলে মাদক জিনিসটা বৈধ হয়ে গেল এবং সেটা খারাপ কিছু না! অবশ্যই না! মাদক খারাপ এবং অবশ্যই ক্ষতিকর বস্তু! যদিও এখন মানুষ জেনে-বুঝে গ্রহণ করে! আবার ধরুন, একজন কুলাঙ্গার আপনার মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করলো এবং সমস্ত দায় মেয়েটির উপর চাপালো এবং মেয়েটির যেহেতু বোধ শক্তি জাগ্রত হওয়ার আগেই এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার শিকার ...