সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কমনসেন্স বা কাণ্ডজ্ঞান


পড়ালেখা আর কাজের চাপে বহুদিন লেখার সুযোগ পাইনি। আজ নিজেকে আর সামলে রাখতে পারিনি। তাই লিখতে বসলাম। যাহোক,
ধরুন, আপনি ভাবছেন আমি যদি এ কাজটা করি তাহলে মানুষ কি বলবে বা মানুষ কি ভাববে। অদ্ভূত! কাজ করবেন আপনি আর মানুষের ভাবনা নিয়ে আপনি চিন্তিত হয়ে নিজেকে অসুস্থ করছেন! যে কাজ করে তারই তো ভুল হয়। আর ভালোর চেয়ে ভুলের অল্প-বিস্তর সমালোচনা উপমহাদেশের কালচার। খারাপ খুঁজে বের করাটা এখানকার মজ্জাগত ব্যাপার। দেখুন, সোজা বাংলা হিসাব! আপনার কর্মের জবাবদিহিতা একান্তই আপনাকে করতে হবে। সুতরাং, নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়াটাই কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয়। যেটাকে আমরা ইংরেজিতে বলি কমনসেন্স। কমনসেন্সহীন মানুষ নির্বোধ হয়। যা তাকে পশুতে পরিণত করে। সাথে অসভ্যতা ফ্রিতে মেলে।
তাছাড়া, আপনি যে কাজই করুন; সে ব্যাপারে কোন না কোন বিরোধী লোক জুটে যাবেই যাবে। আর দেখবেন, এ ধরনের লোকের সাধারণত খেয়ে-দেয়ে কোন কাজ নেই। তাই লোকের ফসল নষ্ট করে। খোদার খাসি বলা চলে। কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য না করলে এদের পেটের ভাত হজম হয় না। কোথায় থামতে হয় তাও এদের অজানা। তাছাড়া, এদের জানাশোনার পরিধি তো একেবারেই শূন্যই বলা চলে। এদের এড়িয়ে চলতে হয়। না হলে সাদা কাপড়ে কাঁদা মাখিয়ে ছাড়ে। সম্ভব না হলে চুপ করে থাকি আমি। অসভ্য লোকে অসভ্যতা করে। তাই বলে তার জবাবে আমিও অসভ্যতা তো করতে পারি না। নিরবতায় অসভ্যতার সভ্য প্রত্যুত্তর।
যিনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ নন; তার সে ব্যাপারে কথা না বলাটাই সমীচীন। ক্ষেত্র বিশেষে সেটা ব্যক্তির সভ্যতার প্রতীক হয়ে দাড়ায়।
আমাদের এখানে তো অজ্ঞ লোকের বিজ্ঞের মত সমালোচনা করতে দেখি। যেটা সভ্য সমাজে অজ্ঞতা বলে সম্বোধন করতে শুনি।
তাছাড়া, করণীয়, বর্জনীয় ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ব্যক্তির ব্যক্তিগত সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যে কাজই করেন না কেন; আগে ভেবে দেখবেন, 'সেখানে আপনার ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বজায় থাকবে কিনা।'
প্রযুক্তি-আসক্তি মানুষকে বিকৃত ও বিকারগ্রস্ত করে তুলছে। সচেতন মহলকে দায়িত্ব নিতে হবে; কারণ, পৃথিবীতে সব মানুষ দায়িত্ব সচেতন হবেন; ভাবনাটাই ভুল। সবাই না; কেউ কেউ করে বলে টিকে আছি আমরা।
জীবনের প্রত্যেকটা স্টেজের আলাদা আলাদা মোটিফ রয়েছে। তার উপরেই প্রত্যেকটা সম্পর্কের ভিত্তি নির্ভর করে। এগুলো না বুঝতে পারলে, সম্পর্কগুলো খুব বেশিদিন টেকসই হয় না। কৌশলগত কারণে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে, যত্ন না নিলে যে তা টেকসই হয় না; এটা হয়তোবা সবার বোধগম্য নয়। অথবা, স্বার্থপরতার চরম শিখরে উঠে গেলে মানুষ যত্ন নিতে ভুলে যায় বলে বোধ করি।
তবে, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা মানুষকে সব কিছু সহজলভ্য করে দিলেও, মানুষকে একাকিত্বে ভোগাচ্ছে। যার পাশে যায়, সে বলে ভাই ভাল্লাগে না! অদ্ভূত লাগে কথাটা শুনতে! এত মানুষের ভালো না লাগার যথাযথ কারণ উদ্ধার করতে না পারলেও সবার ভালো না লাগার বিশেষত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি বলে মনে হয়।
মানুষের মাঝে এখন প্রত্যাশার পাল্লা অনেক বেশি উচু। চাহিদার পর চাহিদা মানুষকে ভালো না লাগা রোগে ভোগাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা অপ্রয়োজনীয় চাহিদার প্রতি মানুষ বেশি ঝুঁকে গেছে।
স্বাদ আর সাধ্যের মধ্যে মানুষ সমন্বয় করতে ভুলে যাচ্ছে। যা ভালো না লাগার অন্যতম কারণ মনে হয়।
ভেবে দেখুন তো, আপনার চেয়েও খারাপ পরিস্থির মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন; তাদের কথা। শুকরিয়া আদায় করুন। ভালোই তো আছেন। অযথা, মানসিক সমন্বয়হীনতায় ভোগার কোন কারণ দেখি না। সমন্বয়হীন চাহিদায় লাগাম টানতে শিখতে হয়। প্রয়োজনে প্র্যাকটিস করতে হয়।
আপনি যাই করতে চান না কেনো; আপনাকে পড়তে হবে প্রচুর; জানতে হবে প্রচুর। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়। আপনার প্রয়োজনেই আপনাকে শিখতে হবে, জানতে হবে। আপনার শেখা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আপনি সেটা প্রয়োগ করতে পারবেন।
এখন তো হরহামেশাই সার্টিফিকেটধারী লোক মেলে। কিন্তু, দক্ষ ও যোগ্য লোকের বড়ই অভাব। আপনি যদি স্রেফ সার্টিফিকেটধারী হোন, তাহলে কেউ আপনাকে কাজ দিবে না। কারণ, তাদের প্রয়োজন দক্ষ ও যোগ্য লোকের। নিজেকে আগে প্রস্তুত করুন, তারপর বলুন কিছুই তো হলো না। এর আগে নয়। তবে, নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে কাজের অভাব হয় না।
এখন তো খুব সহজ সবকিছু জানার ও শেখার। তবে, একটা বিষয় মনে রাখতে হবে; ভুলেও যেন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের কবলে না পড়েন। এ দু'ধরনের আগ্রাসন পরিচালিত হয় প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রযুক্তির প্রতি মানুষ যতই আসক্ত হয়ে পড়ছে, ততই আগ্রাসনের পথ তাদের জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছে।
এ স্রোত সার্বিকভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের দেশে খোলা ময়দানে যে পরিমাণ ধর্মীয় সমাবেশ হয়, এত অন্যকোন দেশে হয় না বা অননুমোদিত। তারপরও আমাদের দেশে অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক অনেক অনেক বেশি। হিসাবে দেশে খারাপ মানুষ থাকার কথা না, তারপরও পর্যাপ্ত আছে। উপদেশ শোনার চেয়ে বিদেশী সিরিয়াল, সিনেমা, ইউটিউব, ফেসবুক এগুলোতেই বেশি মত্ত মানুষ। আদৌও এগুলো বন্ধ করা অসম্ভব। এটা একটা প্রবহমান স্রোত। আর এ সুযোগটাই গ্রহণ করছে আগ্রাসনকারীরা। নিজেকে মুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায়; প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করা।
আপনার প্রয়োজন সম্বন্ধে জানুন বা জানার চেষ্টা করুন। যদি আপনি ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে ব্যবসা সম্বন্ধে জানতে হবে। প্রযুক্তিই বড় সহায়ক হতে পারে। যেকোন পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করুন। অযথা, সময় নষ্ট করবেন না। পরে পস্তাবেন। যখন বুঝবেন, তখন আর সময় থাকবে না।
কাউকে গালি দিয়ে লাভ নাই। যারা বোঝে, তারা নিজের ও পরিবারের জন্যই সবকিছু করে।