সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ব্যবসায় পুঁজি ব্যবস্থাপনা নানান দিক

ব্যবসা করতে হলে প্রথমে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হয়। তারপর, টার্গেট মার্কেট এনালাইজ/ যাচাই করতে হয়। টাকা থাকলেই ব্যবসা হয় না বা ব্যবসা করা যায় না। ব্যবসার জগতটা অনেক জটিল; মেধা-প্রজ্ঞা দ্বারা প্রযুক্তির সহায়তায় সহজ করে নিতে হয়। ব্যবসার জগতে সফল মানুষের চেয়ে, ব্যর্থ মানুষের সংখ্যাই বেশি। কারণ, বেশির ভাগ মানুষ ব্যবসার শুরুতেই টাকা নিয়ে ভাবে। মাঝখান দিয়ে পুঁজির টাকা কোনটা কোন দিকে যায়, তার আর হিসাব থাকে না। গ্রস মার্জিন টেনে লভ্যাংশ আর বিনিয়োগকৃত মূলধন কোনটা কি তা আর বুঝতে পারে না; টার্নওভারের কথা দূরে থাক। দিনশেষে দেউলিয়া হয়ে যায়। অনেক আগে ব্যবসার জগতে মাড়োয়ারদের মধ্যে একটা কথা খুবই প্রচলিত ছিল। দেড়-টাকা, পাঁচ-সিকির ব্যবসা বলে। একবার এক লোক এক টাকা দিয়ে কিছু পণ্য কিনলো। কিনে সে পাঁচ সিকি (মানে এক টাকা পঁচিশ পয়সা) বিক্রি করলো। তার মানে তার পঁচিশ পয়সা লাভ হলো। কিন্তু, দিনশেষে দেখা গেলো লাভের টাকা তার হাতে নেই। কোথায় গেলো, কোথায় গেলো! মহা মুশকিল! হিসাব করে দেখা গেলো, পণ্য পরিবহনে পঁচিশ পয়সা লেগেছিল, সেটা ধরে সে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেনি। ক্রয়কৃত দামের উপর পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে। যা...

নতুন উদ্যোগে প্রতিবন্ধকতা আসে কেন?

আপনি যখন নতুন কোন কাজে অগ্রসর হবেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী কিছু প্রতিবন্ধকতার শিকার হবেন। তন্মধ্যে, প্রাথমিক অবস্থায় হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হবেন বেশি। এগুলোকে মোটেও পাত্তা দেয়া যাবে না। দিলে এগুতে পারবেন না মোটেও। একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। সম্ভবত এটা মিথ। বাস্তব ভেবে ভুল করবেন না। ভাবলে তা একান্তই আপনার দায়। অনেক আগে। তখন সম্ভবত জমিদারী আমল। এলাকার একজন বিখ্যাত জমিদার এলাকায় পঞ্চমন্দির নির্মান করেন। ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে নিজের প্রভাব বাড়ানোর জন্য। যাহোক, তার উদ্দেশ্য সফল হলো। হঠাৎ, একদিন দক্ষিণ দিক থেকে একজন লোক আসলেন। মন্দিরের দর্শনার্থী হয়ে। জমিদার সাহেবের লোকটার গতিবিধি ভালো লাগলো না। অনেক্ষণ লোকটার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে, প্রশ্ন করলেন। "ভাই, তুমি এত ঘাটাঘাটি করে কি দেখো?" তখন, লোকটি বললেন, "আমিও এমন একটা মন্দির নির্মাণ করতে চায়।" জমিদার মহাশয় বললেন, "কত টাকা জমিয়েছো শুনি।" লোকটি বললেন, "ধান রাখা ডোলের কত ডোল টাকা লাগবে।" জমিদার লোকটির কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বললেন, "ভাই, তুই পারবি। কিন্তু আমার চেয়ে একহাত নিচু করে বানাবি।" কি বুঝলে...

ব্যবসা করতে হলে জানতে হবে, বুঝতে হবে অনেক কিছু

ভাই ব্যবসা করতে চাই; কিন্তু টাকা নাই। কিভাবে ব্যবসা করবো? টাকা না থাকাটা ব্যবসার অন্তরায় না। সমস্যাটা হচ্ছে, ব্যবসা করতে কি কি লাগে এটা না জানা। চুরি করে বেশিদিন সংসার চালানো যায় না। পরিশ্রম করেই সংসার টিকিয়ে রাখতে হয়। জেনে বুঝেই ব্যবসা করা লাগে। তানাহলে, বেশিদিন ব্যবসায় টিকে থাকা যায় না। ব্যবসা করতে গেলে যা যা দরকার তা এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। ১. জানাশোনার পরিধিঃ যার জানাশোনার পরিধি যত কম, তার ভয় ও সন্দেহের প্রবনতা তত বেশি। ব্যবসা করতে গেলে জানাশোনার পরিধি বাড়ানোর বিকল্প পৃথিবীতে কিছুই নেই। কি কি জানতে হবে তা নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করি। ২. অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গঃ আপনার টার্গেট মার্কেটের ব্যাপারে যে সকল লোক অভিজ্ঞ তাদের সাথে মিশুন। তবে, নিজস্বতা হারাবেন না। নিজেকে ধরে রেখেই মিশুন। জানার চেষ্টা করুন। বোঝার চেষ্টা করুন। তারা কি বলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অভিজ্ঞ লোকের সামনে বেশি কথা বলবেন না। শুধু শোনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ছোট ছোট প্রশ্ন করুন। তবে, তাদের বিরক্ত করা যাবে না। তারা যেভাবে বলেন, সেভাবে নিজের মত করে বোঝার চেষ্টা করুন। ৩. নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোঃ এরপর নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য বাস্তব...

ব্যবসায় পুজির সংস্থান কিভাবে করবেন?

ব্যবসা দাড় করানোর সবচেয়ে সহজ সূত্র হচ্ছে, " প্রথমে নিজের ইচ্ছাকে শক্ত-পোক্ত করতে হবে এবং পুঁজির সংস্থানের জন্য কাজ করতে হবে। তারপর, ব্যবসার সরঞ্জাম গুছিয়ে ব্যবসা দাড় করানোর চেষ্টা করতে হবে। তারপর, ব্যবসা সম্প্রসারনের কাজ করতে হবে। সমস্যাগুলো ধরে ধরে চিহ্নিত করতে পারলে, সমাধান করা যায় খুব সহজে। তখন ব্যবসা ফ্লপ করে না।" ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োগকৃত এর চেয়ে সহজ সূত্র আমার কাছে আর কিছু মনে হয়নি। পুঁজির সংস্থান বলতে মোটামুটিভাবে বলা যায় বিনিয়োগের নিমিত্তে অর্থ (টাকা) সংগ্রহ করা। পুজির সংস্থান বিনিয়োগকারীর দৌড় কতটুকু তার উপর নির্ভর করে। শিক্ষা-অশিক্ষায় বাধে না, বোধে গিয়ে বেধে যায়। জানাশোনার পরিধি কেমন, অভিজ্ঞতা, খবরাখবর, বিনিয়োগ, অটোমেশন-প্রযুক্তি, অর্থসংস্থান, কর্মীবাহিনী, সরকারী নীতি, বাজার-ব্যবস্থা, বিপণন সহ শিল্পের বিষয়াদি সম্পর্কে বুঝতে হবে। এখন মোটামুটি অর্থের উৎসগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করছি- অর্থের সম্ভাব্য উৎসগুলো হচ্ছে, ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় বস্তুর বিক্রয়োত্তোর অর্থ, বন্ধু বা সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণ, বন্ধকী ঋণ, ক্ষুদ্র ঋণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ...

মিনিমালিজম

নিত্য নতুন আবিষ্কারের ফলে মানুষ তার প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে সচেতনতা হারিয়ে ফেলছে। মানুষের প্রত্যাশার মাত্রা এতই বেড়ে গেছে যে সব কিছু থাকার পরও শুধু নেই নেই নেই। আগেকার মত মানুষ এখন আর না খেয়ে মরে না। অতিরিক্ত খেয়েই রোগে ভুগে মরে। ধারালো চিন্তা-ভাবনা করে দেখলাম, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝেই হতাশা। অযাচিত প্রত্যাশা করে কোন লাভ নেই। হতাশা বাড়তে থাকে। হতাশা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আরে ভাই, আপনার তো এত কিছুর দরকার নেই। সুখ-শান্তি পেতে হলে আশা করা ছেড়ে দিন। নিজের কাজটুকু করে যান, ফল নিশ্চিত পেয়ে যাবেন। কাজ না করে ফলের প্রত্যাশা করাটা বোকামী। যাহোক, এ থেকে মুক্তির পাথেয় হিসেবে এসেছে "মিনিমালিজম"। গত ৭-৮ বছর চর্চা করে এটাই উপলব্ধি হয়েছে, এর চেয়ে সুন্দর অর্থনৈতিক জীবনদর্শন আর নেই।  মিনিমালিজম বলতে অনেকে কৃপণতা বুঝে থাকেন। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। মিনিমালিজম প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে সচেতন করে মাত্র। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে শেখায়। বৈধ পন্থায় প্রয়োজনকে পূরণ করতে শেখায়। অপ্রয়োজনকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে শেখায়। প্রয়োজনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই এখানে। অপ্রয়োজনকে প্রশ্রয়ের সু...

অর্থনৈতিক জীবনে সুখী হতে হলে করণীয়

অর্থনৈতিক জীবন যার ভালো না, সে কখনো সুখ-শান্তি পায় না। অর্থনৈতিক জীবন মানে শুধু টাকা থাকা নয়। অর্থনৈতিক জীবনে সুখ-শান্তি পেতে হলে আপনার নিন্মোক্ত কয়েকটি বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানার্জন করতে হবে। ১. লেনদেনঃ ধন-সম্পদশালী লোকের লেনদেন দেখবেন অনেক সময় খুবই বাজে হয়। সামাজিকভাবে মানুষ তাকে হেয় জ্ঞান করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। সৃষ্টিকর্তা সম্পদ গড়ার সুযোগ দেয় এধরনের লোকের, কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক সম্মান দেন না। লেনদেনের স্বচ্ছতা দরকার। ২. ব্যাংকিংঃ ব্যাংকিং বিষয়টার সাথে অনেক কিছুই জড়িত। এ সম্পর্কে ইন্টারনেট দুনিয়া একটু ঘাটাঘাটি করলে সবই জানতে পারবেন। নতুন করে বলার কিছু নেই। বর্তমানে দেশে তফসিলভুক্ত ৬১টি ব্যাংক রয়েছে। এবং অতফসিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬টি। আপনার এলাকায়ই দেখুন দু'চারটে ব্যাংকের শাখা রয়েছে। তাছাড়া, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরো সহজ করে দিয়েছে। জানুন, বুঝুন; অর্থনৈতিক জীবনে সমৃদ্ধি আনুন। ৩. অর্থনৈতিক নিরাপত্তাঃ আগে ঘরে টাকা রাখার কারণে চুরি-ডাকাতির ভয় ছিল। পরবর্তীতে ব্যাংকে প্রচুর চেক চালিয়াতি হতে থাকে। এখন শুরু হয়েছে ডিজিটাল প্রতারণা। সাবধানতা অবলম্বনের কোন ...

পরিমিতিবোধ

নশ্বর পৃথিবীতে যতদিন আপনি বেঁচে থাকবেন; ততদিন আপনাকে নিজের পরিবার ও নিজেকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব বহন করে বেড়াতে হবে। ছোট্ট ভুলে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের খুব সহজেই বিপদ-আপদের মুখে ফেলে দিতে পারেন আপনি। মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।-দার্শনিক টমাস হবসের কথাটি মোটেও মিথ্যা নয়। সুযোগ পেলে সবাই আপনাকে ব্যবহার করে চলে যাবে। প্রয়োজনে তারা আপনার ক্ষতি করে স্বস্বার্থ হাসিল করতেও কসুর করবে না। আমি সামাজিক চেতনার বিরোধীতা করছি না। শুধু সামাজিক চেতনার নামে ভণ্ডামি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চরম বিরোধীতা করছি। স্বাধীনতা কখনোই নিরঙ্কুশ বা অবাধ হতে পারে না। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত ধর্মীয় গ্রন্থ বা আইন গ্রন্থ রয়েছে সেগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে খর্ব করে সামাজিক শৃঙ্খলার বিকাশ সাধন। কিন্তু, সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে যা হয় আর কি! যাহোক, বেঁচে থাকতে গেলে সব কিছু আমার  জন্য না; এ বোধটুকু ধারণ করতে জানতে হবে। এটা নিতান্তই সাধারণ জ্ঞান। না থাকলে, সেটা একান্তই আপনার মূর্খতার পরিচয় বহন করবে। তবে হ্যাঁ, ইহকালীন জীবনে আপনাকে রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে ...

গরু লালন-পালনে ঘাসের গুরুত্ব

মানব জাতির ইতিহাসে গরুই একমাত্র প্রাণী, যা ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পবিত্র কোরানের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম সারির সুরা হচ্ছে, 'বাকারা'। যার অর্থ গরু। আবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণের নিকট গরু দেবতাতুল্য এবং পূজনীয়। অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও কোন না কোনভাবে এটা জড়িত রয়েছে। তাছাড়া, গরু এমন একটি প্রাণী যার দেহের প্রতিটি অংশ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়। বাদ যায় না কিছুই। গরুর দুধকে বলা হয় সুষম খাবার। যাতে সকল ধরনের পুষ্টি বিদ্যমান। আমিও খুব ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবে গরু লালন-পালনের সাথে জড়িত। গরুর হাট ও গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনার সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার কারণে, কিভাবে এটাকে আরো সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করা যায়, নিজের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার পাশাপাশি সেটা নিয়ে নিরন্তর পড়ালেখা করছি ও ভাবছি। এমনকি, এখনো সরাসরি জড়িত রয়েছি। সব কিছু দেখে, পড়ে, শুনে, বুঝে দেখেছি, গরু লালন-পালনের ক্ষেত্রে ঘাসের বিকল্প কিছুই হতে পারে না। ঘাসের বিকল্প, একমাত্র ঘাসই। ব্যবহারিক দিক বিবেচনা করেও দেখেছি, ধানের বিচালি বা খড় গরুর কোন খাদ্যই না। এটাতে কোন পুষ্টি বিদ্যমান থাকে না। যারা বিচালি খা...

উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর সমস্যা

উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির যায়গাটি হচ্ছে, শুরুতে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থির রাখতে পারা। কারণ, একজন উদোক্তা যখন তার কল্পিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন, তখন নিজের সাময়িক ব্যর্থতাগুলোর সাথে পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিবেশও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করে দেয়। ঐ সময়টাতে সবাই, সবকিছু দূরে চলে যেতে শুরু করে, চলে যায়। তবে, যাওয়ার আগে একটু করে উদ্যোক্তার মানসিক অবস্থানে ক্ষত সৃষ্টি করে যায়। এটি একটি অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, এ থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, মানুষকে বেশি বেশি করে পড়তে উদ্বুদ্ধ করা। সেটা যেকোন মাধ্যম বা উপায়ে হতে পারে। এককথায়, আল্লাহ্ বলেছেন পড়তে, তাই পড়তে হবে। ব্যক্তির জানাশোনার পরিধি যত বাড়বে, ততই সমস্যা সমাধান সহজ হবে। এছাড়া, একজন উদ্যোক্তাকে গণমানুষের সঙ্গে সাবলীল মেলামেশায় অভ্যস্ত হতে হবে। নিজস্বতা ধরে রেখে এটা করতে হবে। আপনাকে কফির মত হতে হবে। নিজের সু-রং দিয়ে পুরো পরিবেশটাকে রাঙিয়ে দিতে হবে। যখন এটা পারবেন; বুঝবেন, উদ্যোক্তা হিসেবে সার্থকতার দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে রয়েছেন।

যার ইগো যত, তার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত

আগে ইগো দূর করতে হবে। আপনার ইগোকে কেউ কখনো গুরুত্ব দেয়নি; আর দেবেও না। করোনা পরবর্তী বিশ্বে, মানুষ অনেক দ্রুত যে কোন পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করবে। নিজেকে দাড়িয়ে রেখে পিছিয়ে পড়া হবে চরম ভুল। তাছাড়া, শয়তানী; বড় ধরনের বোকামী; করলে, পরে পস্তাবেন। টিকে থাকতে গেলে, কিছু না কিছু করা লাগবে। তার জন্য আপনাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশা করতে হবে। সুতরাং, আচরণে সাবলীল না হলে, আপনি কখনোই নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বৈধ পন্থায় দেন-দরবার করে উদ্ধার করতে পারবেন না। অর্থাৎ, ব্যর্থ হবেন। ব্যর্থ মানুষের খোঁজ দুনিয়ার কেউ রাখে না। কাজেই, যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সর্বদা হালনাগাদ জ্ঞানের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। একজন সার্টিফিকেটধারী লোক অর্ধশিক্ষিত। তার শিক্ষার পূর্ণতা আসে তখনই, যখন সে তার অর্জিত জ্ঞানকে নিজের ও দশের কল্যাণে ব্যয় করার সক্ষমতা অর্জন করে। আর এটা একমাত্র মানুষের সঙ্গে সাবলীল মেলামেশা ও হালনাগাদ জ্ঞানের মাধ্যমেই সম্ভব। যে ব্যক্তি কমিউনিটির অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সাবলীলভাবে মেলামেশা করতে পারে না বা ইগোয় ছোটবড় জ্ঞান করে অজুহাত দেখিয়ে মেশে না বা সমালোচনার ভয়ে অ...

মানুষ, চেনা বড় দায়

আপনি যখন কর্মহীন হবেন, তখন সবাই ফেলনা ভেবে ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু, কেউই আপনাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে না। এরপর, আপনার চাঁকে যখন মধু জমবে, তখন মৌয়ালের অভাব হবে না। শুধু যোগ্য মৌয়ালদের উদার হস্তে তা থেকে দান করবেন। ফালতুদের কৌশলে বিদায় জানোটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ফালতুরা খেয়ে বলবে খায়নি। সুতরাং, যে লাউ সেই কদু। যোগ্যদের চিনতে পারাটাই তখন আপনার বড় কৃতিত্বের পরিচয় বহন করবে।

সিস্টেম লস

কাজের ক্ষেত্রে হোক আর সময়ের ক্ষেত্রে বা টাকার ক্ষেত্রে, আপনি যদি কৌশলে সিস্টেম লস কমাতে না পারেন, তাহলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে লভ্যাংশ কমে যাবে। একই সময়ে সিস্টেম লস কমাতে পারলে, লভ্যাংশ অল মোস্ট ডাবল হয়ে যাবে। প্রতিটি কাজের সিস্টেম লস কোথায় কোথায় হয়, ধরে ধরে সেগুলো ছাটাই করতে না পারলে, আপনি যে কোন মূহুর্তে লক্ষ্যচূত হয়ে যেতে পারেন। কারণ, যে কোন কাজেরই লক্ষ্য থাকে মুনাফা সৃষ্টি করা। যেটাকে আমরা সচরচার লাভ বলে থাকি। ধরুন, কেউ কোন কাজ করছে, সে অবশ্যই শুরুতে ভাবে যে এটা করলে আমার লাভ কি হবে! সুতরাং, লক্ষ্য যখন লভ্যাংশ তখন আপনাকে অবশ্যই কৌশলে সিস্টেম লস কমিয়ে লভ্যাংশ বাড়াতে হবে। অবশ্যই সেটা হতে হবে বৈধ এবং স্বীকৃত পন্থায়।

উদ্যোক্তার সংজ্ঞা

যে ব্যক্তি কোন ব্যবসা বা ব্যবসায়িক উদ্যোগ আরম্ভ বা সংগঠিত করেন, তাহার তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করেন ও তাহার যাবতীয় আর্থিক ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা বা লাভক্ষতির দায় বহন করেন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়। একজন উদ্যোক্তার মূলত কিছু ইনোভেটিভ আইডিয়া থাকে। সেটাকে পুঁজি করে তিনি তার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নেয়ার প্রয়াস পান। উত্তরণযোগ্য সমস্যাকে উন্নত চিন্তা-ভাবনা দিয়ে সমাধানের জন্য একজন উদ্যোক্তা নিজের ও দেশের কল্যাণে তার মূল্যবান সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করেন। বিকল্পের দুনিয়ায় উদ্যোক্তা নিজেকে আলাদা ভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে নিজেকে সর্বদা হালনাগাদ রাখেন। এটাই একজন সার্থক উদ্যোক্তার বড় গুণ। সেবা খাত বা উৎপাদন খাত, যেটাই হোক, একজন উদ্যোক্তা সর্বদা সৃজনশীলতার পরিচয় দেন। প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজের মেধা ও শ্রমের সংমিশ্রণে সেবা বা উৎপাদনের মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করেন। © শেখ আব্দুর রহিম

উদ্যোক্তার ব্যাংকিং জ্ঞান থাকতেই হবে!

যে কেউই উদ্যোক্তা হতে পারেন। কিন্তু, সফল ও সার্থক উদ্যোক্তা হতে গেলে, একজন উদ্যোক্তার ব্যাংকিং জ্ঞান থাকতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, তাকে ব্যাংকিংয়ের উপর উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। এমনও দেখা গেছে, নাট্যকলা পড়ে নির্বাহী ম্যাজিট্রেট। এটা কোন বিষয় না। আপনার সময়, শ্রম আপনি কোথায়, কিভাবে, কতটুকু ব্যয় করছেন; তার উপর আপনার সফলতা, সার্থকতা নির্ভর করছে। যাহোক, ব্যাংকিং লেনদেন সহজ হয়েছে; ডিজিটালাইজ করার কারণে। ডিজিটাল অর্থনৈতিক লেনদেন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে পারবেন বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইটে। গুগল আর ইউটিউবে সার্চ করলে তো হাজার হাজার আর্টিকেল ও ভিডিও পাবেন। MFS (মোবাইল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস) এর কারণে মানুষের লেনদেন প্রক্রিয়া আরো সহজ হয়েছে এবং ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে গেছে। বলা যায়, ব্যাংকিং সেবা এখন মানুষ পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাকে আমরা প্রচলিত অর্থে মোবাইল ব্যাংকিং বলে জানি। এখানে বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করা থেকে শুরু করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যায় খুব সহজেই। একজনের একাউন্ট থেকে অন্যজনের একাউন্টে টাকা পাঠানো আরো সহজ। যেটাকে বলা হয় সেন্ড মানি। অনেক এমএফএস কোম্পানি ফ্রিতে বা স্বল্প ম...

স্টার্টআপ

স্টার্টআপ! একটি অসাধারন বিষয়। ঘটনাচক্রে একটি স্টার্টআপ দেশের জন্য অনেক কিছু বয়ে আনতে পারে। আবার অধিকাংশ স্টার্টআপ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায় এদেশে। অনেক পর্যবেক্ষণ আর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখলাম, উদ্যোক্তা বলেন আর ব্যবসায়ী বলেন; এগুলোর সামাজিক স্বীকৃতি কম বা নেই বললেই চলে। যে কারণে এসব বিষয়ে উচ্চ-শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে যেতে চায় না বা ভয় পায়। কিন্তু একটি বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, চাকরি করে খুব কম মানুষ। বেশির ভাগই কোন না কোন স্বাধীন পেশার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। দু'একটা সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারলে সবাই গতানুগতিক ধারায় ব্রিটিশদের পুশ করা পরাধীন পেশা বেছে নিতে উদগ্রীব হয়ে যায়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া, ছোট ছোট উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। চাকরি করে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখার যতটুকু সুযোগ রয়েছে, তার চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি সুযোগ রয়েছে নিজে কিছু করার মধ্যে। লোকাল রিসোর্সগুলো ব্যবহার করে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তবে, আপনাকে একটু বেশি সময় ও পরিশ্রম দেয়া লাগবে। লোকাল রিসোর্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে আপনার জানাশোনার পরিধি বিস্তৃত করতে হবে। নিচে সেগুলো আলোচনা করার চ...