নিত্য নতুন আবিষ্কারের ফলে মানুষ তার প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে সচেতনতা হারিয়ে ফেলছে। মানুষের প্রত্যাশার মাত্রা এতই বেড়ে গেছে যে সব কিছু থাকার পরও শুধু নেই নেই নেই। আগেকার মত মানুষ এখন আর না খেয়ে মরে না। অতিরিক্ত খেয়েই রোগে ভুগে মরে।
ধারালো চিন্তা-ভাবনা করে দেখলাম, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝেই হতাশা। অযাচিত প্রত্যাশা করে কোন লাভ নেই। হতাশা বাড়তে থাকে। হতাশা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আরে ভাই, আপনার তো এত কিছুর দরকার নেই। সুখ-শান্তি পেতে হলে আশা করা ছেড়ে দিন। নিজের কাজটুকু করে যান, ফল নিশ্চিত পেয়ে যাবেন। কাজ না করে ফলের প্রত্যাশা করাটা বোকামী।
যাহোক, এ থেকে মুক্তির পাথেয় হিসেবে এসেছে "মিনিমালিজম"। গত ৭-৮ বছর চর্চা করে এটাই উপলব্ধি হয়েছে, এর চেয়ে সুন্দর অর্থনৈতিক জীবনদর্শন আর নেই।
মিনিমালিজম বলতে অনেকে কৃপণতা বুঝে থাকেন। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। মিনিমালিজম প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে সচেতন করে মাত্র। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে শেখায়। বৈধ পন্থায় প্রয়োজনকে পূরণ করতে শেখায়। অপ্রয়োজনকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে শেখায়। প্রয়োজনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই এখানে। অপ্রয়োজনকে প্রশ্রয়ের সুযোগও নেই।
মিনিমালিজম হচ্ছে, 'স্বল্প সম্পদ সুন্দর ব্যবহারে সুচারু জীবনযাপন পদ্ধতি। যারা এটা চর্চা করেন তারা মিনিমালিস্ট।'
এটা চর্চা করলে চারিদিকে অশান্তির গরম হাওয়া বয়ে গেলেও আপনার ভেতর শান্তির পরশ ছুয়ে যাবে। অনেকে অনেক কিছু বলবে। বিকৃত মস্তিষ্কের প্রতিবেশিরা খোঁচা দিয়ে বিকৃত মজা নিবে। ছেলে একটু বড় হলেই বাবা সহযোগিতা দূরে থাক আয় ইনকামের খড়গ চাপিয়ে দিবে। কিন্তু, সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে এমনিতে সে সব করবে। হরহামেশা দেখেছি, সুশিক্ষার অভাবে অর্থনৈতিক জীবনে অসুখী হতে।
যে যা বলুক, পড়ালেখা শিখে আপনাকেই আপনার কাজ শিখে, করে এগিয়ে যেতে হবে। পড়ার বিকল্প দুনিয়ায় কিছু নেই। কেউ আপনাকে বসিয়ে খেতে দিবে না। তবে, অনেক কিছুই বলতে পারে, অসভ্য সমাজে এটা স্বাভাবিক। অর্থনৈতিক ব্যাপারগুলোতে ভালো মানুষের চেয়ে বিশ্বস্ত-বুদ্ধিমান মানুষ খুঁজে বের করুন। কাজে দিবে।
অর্থনৈতিক জীবনের শুরুতে একটু-আধটু হোচট খাবেন। ধীরে ধীরে সব শিখে যাবেন। তখন স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।
পড়ালেখা শিখতে হবে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য। চাকরির বিষয়টা উপরি পাওনা। অনেকগুলো সুযোগের মধ্যে একটি।