সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ব্যবসা করতে হলে জানতে হবে, বুঝতে হবে অনেক কিছু


ভাই ব্যবসা করতে চাই; কিন্তু টাকা নাই। কিভাবে ব্যবসা করবো? টাকা না থাকাটা ব্যবসার অন্তরায় না। সমস্যাটা হচ্ছে, ব্যবসা করতে কি কি লাগে এটা না জানা।

চুরি করে বেশিদিন সংসার চালানো যায় না। পরিশ্রম করেই সংসার টিকিয়ে রাখতে হয়। জেনে বুঝেই ব্যবসা করা লাগে। তানাহলে, বেশিদিন ব্যবসায় টিকে থাকা যায় না।

ব্যবসা করতে গেলে যা যা দরকার তা এখানে আলোচনা করার চেষ্টা করছি।

১. জানাশোনার পরিধিঃ যার জানাশোনার পরিধি যত কম, তার ভয় ও সন্দেহের প্রবনতা তত বেশি। ব্যবসা করতে গেলে জানাশোনার পরিধি বাড়ানোর বিকল্প পৃথিবীতে কিছুই নেই। কি কি জানতে হবে তা নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

২. অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গঃ আপনার টার্গেট মার্কেটের ব্যাপারে যে সকল লোক অভিজ্ঞ তাদের সাথে মিশুন। তবে, নিজস্বতা হারাবেন না। নিজেকে ধরে রেখেই মিশুন। জানার চেষ্টা করুন। বোঝার চেষ্টা করুন। তারা কি বলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অভিজ্ঞ লোকের সামনে বেশি কথা বলবেন না। শুধু শোনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ছোট ছোট প্রশ্ন করুন। তবে, তাদের বিরক্ত করা যাবে না। তারা যেভাবে বলেন, সেভাবে নিজের মত করে বোঝার চেষ্টা করুন।

৩. নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানোঃ এরপর নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য বাস্তব জগতে হাটি হাটি পা পা করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগুতে হবে। কারণ, কল্পনার জগত আর বস্তবতার মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

৪. বিনিয়োগ বিষয়ক কিতাবাদি পঠনঃ এখন আর আগের মত নেই। আপনাকে জেনেই এগুতে হবে। আর জানতে হলে, পড়তে হবে। পড়তে না পারলে, ইউটিউব থেকে বিনিয়োগ বিষয়ক প্রচুর কার্যকরী ভিডিও দেখুন।

৫. ব্যবসার ধরণ বোঝাঃ আপনি যে ব্যবসাটা করতে চান, সেটা ট্রেডিং হবে নাকি উৎপাদনশীল হবে নাকি সেবা খাতের সেটা বুঝতে হবে সবার আগে। তারপর স্টেপ বাই স্টেপ কাগজপত্র সে অনুযায়ী গোছাতে হবে। কারণ, ব্যবসার বৈধতা আনতে হলে কাগজপত্রের বিকল্প নেই। আইনি জটিলতা ও ঝামেলা এড়াতে প্রয়োজনানুপাতে কাগজপত্র করতে হবে।

৬. সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাঃ প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে করে আপনাকে এ ব্যাপারে জানতে হবে। তার্গেট মার্কেটে প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রায়োগিক দিক কি কি তা বুঝতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার ব্যবসার মার্কেটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদি আপনি বুঝতে পারেন।

৭. সক্ষমতা যাচাইঃ ব্যবসা বা বিনিয়োগ যেটাই করেন, সবার আগে নিজের সক্ষমতা যাচাই করে নিতে হয়। তানাহলে, সেটা উদ্দ্যেশ্যহীন যাত্রার মত হয়ে যায়। উদ্দ্যেশ্যহীন যাত্রা চালকবিহীন চলন্ত গাড়ীর মত। কোথায় গিয়ে, কোন কো-খাদড়ে পড়বে, কেউ বলতে পারে না।

৮. বিনা লাভের ব্যবসায় বিনিয়োগঃ কখনো ভুলেও একাজ করা যাবে না। বিনা লাভে তুলা বয়ে বেড়ানো লোকের দিয়ে আর যাহোক ব্যবসা করা সম্ভব না। লাভ-লোকসান ব্যবসায় থাকবে। তবে, প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয় এমন ব্যবসায় ভুলেও বিনিয়োগ করা যাবে না।

৯. পুঁজি বা মুলধনঃ বাপের ধনে পোদ্দারী করা খুব খুবই সহজ। নিজে কিছু করতে গেলে, আগে আপনাকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এখন এটা বিনিয়োগকারীর দৌড় কতটুকু তার উপর নির্ভর করে। শিক্ষা-অশিক্ষায় বাধে না, বোধে গিয়ে বেধে যায়। পুঁজির সংস্থান নিয়ে অন্য একটি লেখায় আলোচনা করেছি। নিচে লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম।


১০. যোগাযোগ দক্ষতাঃ বর্তমানে যার যোগাযোগ দক্ষতা ও কানেকশন যত বেশি সে তত সম্ভাবনাময়। উপরে উঠতে গেলে সংযোগ সিড়ি ছাড়া উঠা অসম্ভব। এজন্য নিজস্বতা ধরে রেখে আপনার আশপাশের প্লাটফর্মগুলো কাজে লাগানো শিখতে হবে। প্লাটফর্মগুলোর পরিধি অনুযায়ী আপনার বেড়ে উঠা নির্ভর করবে। এজন্য চিন্তা-ভাবনার পরিধি প্রতিনিয়তই বাড়াতে হবে, বড় প্লাটফর্মগুলো ধরার জন্য।