ব্যবসা দাড় করানোর সবচেয়ে সহজ সূত্র হচ্ছে, " প্রথমে নিজের ইচ্ছাকে শক্ত-পোক্ত করতে হবে এবং পুঁজির সংস্থানের জন্য কাজ করতে হবে। তারপর, ব্যবসার সরঞ্জাম গুছিয়ে ব্যবসা দাড় করানোর চেষ্টা করতে হবে। তারপর, ব্যবসা সম্প্রসারনের কাজ করতে হবে। সমস্যাগুলো ধরে ধরে চিহ্নিত করতে পারলে, সমাধান করা যায় খুব সহজে। তখন ব্যবসা ফ্লপ করে না।" ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োগকৃত এর চেয়ে সহজ সূত্র আমার কাছে আর কিছু মনে হয়নি।
পুঁজির সংস্থান বলতে মোটামুটিভাবে বলা যায় বিনিয়োগের নিমিত্তে অর্থ (টাকা) সংগ্রহ করা। পুজির সংস্থান বিনিয়োগকারীর দৌড় কতটুকু তার উপর নির্ভর করে। শিক্ষা-অশিক্ষায় বাধে না, বোধে গিয়ে বেধে যায়। জানাশোনার পরিধি কেমন, অভিজ্ঞতা, খবরাখবর, বিনিয়োগ, অটোমেশন-প্রযুক্তি, অর্থসংস্থান, কর্মীবাহিনী, সরকারী নীতি, বাজার-ব্যবস্থা, বিপণন সহ শিল্পের বিষয়াদি সম্পর্কে বুঝতে হবে।
এখন মোটামুটি অর্থের উৎসগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করছি-
অর্থের সম্ভাব্য উৎসগুলো হচ্ছে, ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় বস্তুর বিক্রয়োত্তোর অর্থ, বন্ধু বা সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণ, বন্ধকী ঋণ, ক্ষুদ্র ঋণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ এবং ব্যক্তির কায়িক পরিশ্রম।
১. ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় বস্তুর বিক্রয়োত্তর অর্থঃ অনেক সময় দেখা যায়, বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় কিন্তু অর্থমূল্য রয়েছে (বিক্রি করলে টাকা পাওয়া যায়) এমন অনেক বস্তু ফেলানো থাকে। এগুলো বিক্রয় করে চাহিদানুপাতে না হলেও কমবেশি পুঁজির ঘাটতি মেটানো যায়। আবার অপচয়ও রোধ হয়। দেখা যায়, ঐ জিনিস বা বস্তুটি অনেকের খুবই প্রয়োজন। সেক্ষেত্র কম দামে লোকটি তার প্রয়োজন মেটাতে পারে, আবার আপনার পুঁজির সংকট কিছুটা লাঘব হয়।
২. বন্ধু বা সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণঃ এটা পাওয়াটা এখন একটু মুশকিল। তবে, বিশ্বস্ত হলে যে কেউই টাকা দেয়। নিজেকে আগে বিশ্বস্ততার মাপকাঠিতে ফেলে গড়তে হবে। তানাহলে, কেউ আপনার সাথে কাজ করতে আগ্রহী হবে না; দেখা যাবে কিছুদিন পর সবাই ছেড়ে চলে গেছে; একাকিত্বে ভুগবেন সারাটা জীবন। যদি বন্ধু বা সহযোগীদের কাছ থেকে অন্যকোন শর্ত ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে পরাশোধ করার শর্তে ঋণ পেয়ে থাকেন, তাহলে বলতে হয় "কপালের নাম গোপাল" তা একখান আপনার আছে।
৩. বন্ধকী ঋণঃ নিজের কোন স্থাবর সম্পত্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে চুক্তিতে ব্যক্তির নিকট বন্ধক রেখে পুজির সংস্থান করা যায়। ব্যক্তি আপনার সম্পত্তি ব্যবহারের শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদান করে। তবে, মৌখিক চুক্তিতে এখন আর কেউ টাকা দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে লিখিত চুক্তিতে আপনাকে টাকা নিতে হবে।
৪. ক্ষুদ্র ঋণঃ ক্ষুদ্র ঋণের ইন্টারেস্ট অনেক বেশি হওয়ায় এটা নিয়ে আপনি কতটুকু লাভবান হতে পারবেন, সেক্ষেত্রে সন্দিহান। তবে, যদি প্রচলিত বাজার ব্যবস্থায় অল্পতে ভালো মুনাফা করার সুযোগ থাকে ব্যবসায়, তাহলে নিতে পারেন। দেশের আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে প্রচুর ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
৫. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণঃ মূলত ঋণের মৌলিক উৎস বলা হয় ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। কম ইন্টারেস্টে এখানে বিভিন্ন রকমের ঋণ সেবা পেয়ে যাবেন আপনি। শুধু প্রক্রিয়াগুলো জানতে হবে, বুঝতে হবে।
৬. ব্যক্তির কায়িক পরিশ্রমঃ এখন অর্থের উৎস সন্ধানে যদি শূন্য থেকে শুরু করতে কেউ চায় এবং ঋণ সুবিধার আওতার বাইরে থাকে সেক্ষেত্রে ব্যক্তির কায়িক পরিশ্রমই একমাত্র বিকল্পহীন সম্বল। এর বিকল্প দুনিয়ায় আর কিছুই নেই। অর্জিত সম্পদকে সঞ্চয়ের মাধ্যমে মূলধনে পরিণত করতে হবে। তারপর একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হবে। তবে, এটা দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। সময়ের অপচয় হয় প্রচুর। তারপরও কিছু করার নেই। জিরো থেকে হিরো হতে গেলে, এটা মেনে নিতেই হবে।