সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পরিমিতিবোধ


নশ্বর পৃথিবীতে যতদিন আপনি বেঁচে থাকবেন; ততদিন আপনাকে নিজের পরিবার ও নিজেকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব বহন করে বেড়াতে হবে। ছোট্ট ভুলে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের খুব সহজেই বিপদ-আপদের মুখে ফেলে দিতে পারেন আপনি। মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।-দার্শনিক টমাস হবসের কথাটি মোটেও মিথ্যা নয়। সুযোগ পেলে সবাই আপনাকে ব্যবহার করে চলে যাবে। প্রয়োজনে তারা আপনার ক্ষতি করে স্বস্বার্থ হাসিল করতেও কসুর করবে না। আমি সামাজিক চেতনার বিরোধীতা করছি না। শুধু সামাজিক চেতনার নামে ভণ্ডামি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চরম বিরোধীতা করছি।
স্বাধীনতা কখনোই নিরঙ্কুশ বা অবাধ হতে পারে না। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত ধর্মীয় গ্রন্থ বা আইন গ্রন্থ রয়েছে সেগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষের অবাধ স্বাধীনতাকে খর্ব করে সামাজিক শৃঙ্খলার বিকাশ সাধন। কিন্তু, সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে যা হয় আর কি!
যাহোক, বেঁচে থাকতে গেলে সব কিছু আমার  জন্য না; এ বোধটুকু ধারণ করতে জানতে হবে। এটা নিতান্তই সাধারণ জ্ঞান। না থাকলে, সেটা একান্তই আপনার মূর্খতার পরিচয় বহন করবে।
তবে হ্যাঁ, ইহকালীন জীবনে আপনাকে রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। না জেনে লাফালাফি করাটা একান্তই মূর্খতা।
এক্ষেত্রে ৪টি বিষয় মেনে চলি আমি।
১. কথা কম বলাঃ যারা কথা কম বলেন, তাদের প্রতি মানুষের একধরনের কৌতুহল কাজ করে। তাই বলে এমনটা নয় যে প্রয়োজনেও রাম গড়ুড়ের ছানা হয়ে থাকতে হবে।
২. বেশি বেশি শোনাঃ যারা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তারা খুব সহজেই মানুষের প্রিয়-পাত্র হয়ে ওঠেন। প্রথমে একটু কষ্ট হলেও পরে ভালো লাগবে। তাছাড়া, সৃষ্টিকর্তা আমাদের একটি মুখ দিয়েছেন, যাতে আমরা কথা কম বলি। আর দুটো কান দিয়েছেন, যাতে আমরা বেশি বেশি শুনি।
৩. প্রতিক্রিয়া না দেখানোঃ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা কোন কিছু দেখলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। পশুর মত অনিয়ন্ত্রিত আচরণ শুরু করি। প্রতিক্রিয়া দেখানো লাগবেই। প্রতিক্রিয়াশীল লোকদের কেউই পছন্দ করে না। এরা কীট-পতঙ্গের ন্যায় অনিষ্টকর প্রাণী।
৪. বেশি বেশি পর্যবেক্ষণ করাঃ কথায় বলে, পর্যবেক্ষণশীল লোক খুব একটা বিপদে পড়েন না। তাই বলে, অকেজো কোন কাজের প্রতি অতিমাত্রায় পর্যবেক্ষণ সৃষ্টি করা যাবে না। যেকোন কাজে পরিমিত পর্যবেক্ষণে অভ্যস্ত হতে হবে।