সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

উদ্যোক্তার ব্যাংকিং জ্ঞান থাকতেই হবে!


যে কেউই উদ্যোক্তা হতে পারেন। কিন্তু, সফল ও সার্থক উদ্যোক্তা হতে গেলে, একজন উদ্যোক্তার ব্যাংকিং জ্ঞান থাকতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, তাকে ব্যাংকিংয়ের উপর উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। এমনও দেখা গেছে, নাট্যকলা পড়ে নির্বাহী ম্যাজিট্রেট। এটা কোন বিষয় না। আপনার সময়, শ্রম আপনি কোথায়, কিভাবে, কতটুকু ব্যয় করছেন; তার উপর আপনার সফলতা, সার্থকতা নির্ভর করছে।

যাহোক, ব্যাংকিং লেনদেন সহজ হয়েছে; ডিজিটালাইজ করার কারণে। ডিজিটাল অর্থনৈতিক লেনদেন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে পারবেন বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইটে। গুগল আর ইউটিউবে সার্চ করলে তো হাজার হাজার আর্টিকেল ও ভিডিও পাবেন।

MFS (মোবাইল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস) এর কারণে মানুষের লেনদেন প্রক্রিয়া আরো সহজ হয়েছে এবং ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে গেছে। বলা যায়, ব্যাংকিং সেবা এখন মানুষ পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাকে আমরা প্রচলিত অর্থে মোবাইল ব্যাংকিং বলে জানি। এখানে বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করা থেকে শুরু করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যায় খুব সহজেই। একজনের একাউন্ট থেকে অন্যজনের একাউন্টে টাকা পাঠানো আরো সহজ। যেটাকে বলা হয় সেন্ড মানি। অনেক এমএফএস কোম্পানি ফ্রিতে বা স্বল্প মূল্যে এ সুযোগ দেয়। তাছাড়া, সেবা দেয়ার জন্য এজেন্টের ছড়াছড়ি। নগদ টাকা বহনের কোন ঝুঁকি ও ঝামেলা নেই। এমএফএস কোম্পানিগুলো তাদের মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সেবাগুলোকে আরো সহজ করে দিয়েছে। শুধু জানতে হবে!

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়েও এই সুবিধাগুলো পাওয়া যায়। শুধু প্রক্রিয়াগুলো জেনে স্বল্প খরচে ক্ষেত্র বিশেষ ফ্রিতে সেবা নেয়ার কোয়ালিটি থাকলেই আপনি সেবাগুলো পেতে পারেন খুব সহজেই, কোন ঝামেলা ছাড়াই। ঝামেলা নেই, কিন্তু ঝুঁকিটা নির্ভর করছে আপনার অজ্ঞতার উপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এখন আর ব্যাংকে গিয়ে চেক জমা দিয়ে লাইনে দাড়িয়ে থাকার ঝক্কি নেই। তারপরও মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে দেখি। এগুলো নিতান্তই অজ্ঞতার ফল ছাড়া কিছুই না। কার্ডের মাধ্যমে যে কেউই এটিএম বুথ থেকে যে কোন সময় যে কোন দিন টাকা তুলতে পারেন। এটা না জানার ফলে বা অনেকে পুরোনো মন-মানসিকতা ছাড়তে না পেরে ভোগায় ও ভোগান্তি পোহায় নিজের দোষে। তাছাড়া, নগদ টাকায় লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা সীমিত হয়ে এসেছে। দেখেছি, ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ থাকার পরও নগদ টাকাতে লেনদেন করে অনেকে।

কোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায় যে কোন স্থান থেকে ঘরে বসেই। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটা দিয়ে আপনি দুনিয়া জয় করতে পারেন। আবার অজ্ঞতা, মূর্খতার কারণে ধ্বংসও হয়ে যেতে পারেন এটার কারণে।

ধরুন, কেউ আপনার কাছে টাকা পাবে বা কোন বড় ধরনের লেনদেন করা লাগবে কারো সাথে, সেক্ষেত্রে নগদ টাকা বহনে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি উভয়েরই ব্যাংক একাউন্ট থাকে, তাহলে ঝক্কি, ঝামেলা আর ঝুঁকি ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। দুটো প্রক্রিয়ায় এটা সম্পন্ন করা যায়। RTGS (Real Time Gross Settlement) এবং Bangladesh Electronic Funds Transfer Network (BEFTN) পদ্ধতিতে। তাছাড়া, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেন্ড মানিও করা যায় ঘরে বসেই। অধিকাংশ ব্যাংকের এখন নিজস্ব মোবাইল অ্যাপস আছে। সেটা ব্যবহার করে ঘরে বসে ব্যাংকের বহু রকমের সেবা খুব সহজে, দ্রুত এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে ফ্রিতে পেতে পারেন; শুধু প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।