ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে তেমন কিছু লিখবো না বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু, গণিত চর্চা করতে করতে একটা গল্প মনে পড়ে গেলো।
যাহোক, অনেক আগে এক ব্যক্তি নিজের নিরাপত্তার জন্য, অন্যদের থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য একটি ছোট বাচ্চা অ্যানাকোণ্ডা সাপকে লালন-পালনের চিন্তা করে। সে অনুযায়ী লোকটা একটি সাপের বাচ্চা লালন-পালন করে বড় করতে থাকে। সাপটিও তার অনুগত হয়ে তার সাথে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে।
সমস্যাটা হতে থাকে যখন সাপটি বড় হতে হতে যুবক বয়সে পৌছে যায় তখন। সাপটি মাঝে মধ্যে নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য জোরে জোরে ফোস ফোস করতে থাকে। এতে মালিকও একটু নড়েচড়ে বসে। এমনকি রীতিমত ভয় পেয়ে যায়।
মালিক মনে মনে ভাবতে থাকে দুধ-কলা দিয়ে কি কালসাপ পুষলাম। একদিন ঘরে খাদ্য দিতে গিয়ে দেখে সাপটি খাবার কম বলে মালিককে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটা ফ্রাঙ্কেন্স্ট্যাইনের দৈত্যের মত। খেতে খেতে প্রত্যাশার মাত্রা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে খাদ্যদাতাকেও খেয়ে ফেলার চেষ্টা! নির্বোধ দৈত্য বা কালসাপ জানে না; মালিক শেষ হয়ে গেলে, তারও কপালে শনি অপেক্ষা করছে।
যদিও নিজের নিরাপত্তার জন্য এসব কালসাপ বা মালিক খেকো দৈত্যের দরকার পড়ে না। বরঞ্চ, এগুলো সুই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হয়। তাছাড়া, কালসাপের ব্যাপারে সাধারণেরও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এদের ব্যাপারে মানুষ কখনো ইতিবাচক হতে পারেনি। ফোস ফোস করে মানুষকে হেনস্থ ছাড়া তারা কিছুই করতে পারে না।
মহান বিজয়ের দিনে দেশের ব্যাপারে সবারই সতর্ক থাকা দরকার। কালসাপ আর ফ্রাঙ্কেন্স্টাইনের দল যেকোন মূহুর্তে দেশ ও দেশের মানুষকে নির্মম পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে উদ্যত হতে পারে। ভৌগোলিক কারণে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার পায়তারা বহু আগে থেকে শুরু হয়েছে। এমনকি পাশ থেকে প্রতিবেশি সেজে থাকা লোকগুলোও সুযোগ তৈরির চেষ্টাটা সর্বদা জারি রেখেছে।
ভূ-রাজনীতির লীলাখেলার মধ্যে দেশ একবার ঢুকে গেলে, আপনিও ভালো থাকবেন না, আমিও ভালো থাকবো না; এককথায়, দেশের কেউই ভালো থাকবে না। সুতরাং, শয়তানী না করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এমন সব বিষয়ে কথা বলুন। সবাইকে সে ধরনের হেদায়েতের কথা বলুন। সবাই ভালো থাকবে। ইনশাল্লাহ্!