আপনি যেদেশে বাস করেন, সেদেশের আইন-কানুন যদি না মানেন বা সেগুলোকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন! তার মানে আপনি দেশদ্রোহী! ইসলাম ধর্ম কখনোই দেশদ্রোহী হওয়ার শিক্ষা দেয় না! তাই সেটা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে গেলেও! সেক্ষেত্রে আপনার জন্য মানসিকভাবে প্রতিবাদ করারও সুযোগ দিয়েছে ইসলাম ধর্ম। দয়া করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে পবিত্র ধর্মকে কলুষিত করবেন না! শিক্ষা ও বোধের পারদ নিম্নগামী হওয়ায়, এদেশের অধিকাংশ মানুষই আবেগের তাড়নায় ধর্ম পালনে উৎসাহিত বোধ করেন। কিছু কুচক্রি মহল এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে মত্ত হয়ে ওঠে। ইসলাম ধর্মের প্রথম শিক্ষা হচ্ছে শিষ্টাচার! সেগুলো যথাযথ ভাবে মেনে চলুন সকল মুসলমান। আমিন!
গতকয়েকদিন ধরে একটি রাজনৈতিক ইস্যূ হিসেবে ভাস্কর্য খুব চাউর বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন কথা হচ্ছে, ভাস্কর্য তো বহুকাল ধরে আছে এদেশে, এতদিন পরে কেন এ লোকগুলো ভাস্কর্যকে হারাম বলে ধো তুলছে! এতদিন তারা কোথায় ছিল! ধর্ম রক্ষার বিষয় এতদিন কোথায় ছিল! ধর্ম রক্ষার নামে তারা এখন কেন জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড সমর্থন শুরু করেছে। ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে ইদানিং! একদম আইএসের স্টাইলে তারা মাঠে নামা শুরু করেছে! ভাই, আইএস সগর্বে ধর্ম রক্ষা করতে নেমে নিঃশেষ হয়ে গেছে! মাঝখান দিয়ে সাধারন মুসলমানরাই নাজেহাল হয়েছেন! তালেবানও পারে নাই! মেরে, শুটকি করে দিয়েছে তাদের! নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকলে, কোনদিনই ধর্ম রক্ষা করা যায় না! যা হয় তা হচ্ছে, সাধারন মুসলমান হেনস্থার শিকার হন। নবীর উত্তসূরী হতে গিয়ে আপনারাই সাধারনের হেনস্থার পথ তৈরির হোতা বনে যাচ্ছেন।
চিন্তার কোন কারণ নেই; ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, গণতান্ত্রিক রাজনীতি, বামপন্থী রাজনীতি সবই মুখ থুবড়ে পড়বে, যদি ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান না রুখতে পারে তারা। উভয়দলই ভোটের রাজনীতি করতে গিয়ে ধর্মীয় কট্টরপন্থী দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে যাচ্ছে-তাই ব্যবহার করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের মূত্যুকূপ খনন করে ফেলেছে! নিজেদের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতার রজনীতি করলে যা হয় আর কি!
আরো একটি বিষয়, ভাস্কর্য বলি আর মূর্তি; দুটোই ইসলামে হারাম! তবে, বাংলাদেশে এ দুটো বানানো যাবে না, এমন কোন আইন নেই! কারণ, দেশ মানব রচিত আইনে চলবে, এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে! এটাকে যে বা যারা অস্বীকার করবে তারা দেশদ্রোহীর কাতারে চলে যাবে! কারণ, বাংলাদেশ মানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জন্মই ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে! যারা আজকে এগুলোর বিরোধীতা করে বা করছে তারা কোনদিনই চায়নি বাঙালিরা নিজস্ব রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধিকারী হোক। এরা সকল বাঙালির শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করতে না পারলে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে খুবই দ্রুত। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে!