রাজনীতি হলো রাজার নীতি। এ নীতি সবার বোধগম্য হওয়ার নয়। এটা বোঝার জন্য উন্নত মানসিকতা গড়তে হয়। তার জন্য পড়তে হয়, দেখতে হয়, শুনতে হয়, ভাবতে হয়, উপলব্ধি করতে হয়। হ্যাডম দিয়ে, গালি দিয়ে রাজনীতির র-ও বোঝা যায় নারে পাগলা।
ব্যবসা করতে গেলে বিজনেস পলিটিক্স, বিজনেস ডিপ্লোমেসি, জানা লাগে, বোঝা লাগে। জব করতে গেলেও অফিস পলিটিক্স, অফিসিয়াল ডিপ্লোমেসি বুঝতে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটার বহুবিধ প্রয়োগ রয়েছে। এজন্যই তো মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীব হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।
যারা রাজনীতি বোঝে, তারা রাজ করে। আর যারা বোঝে না, তারা ইস্যূতে হিস্যূ করে। রাজনীতির উপাদান হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সবখানেই এটা হয়।
রাজনীতি যারা বোঝে না, তারাই রাজনীতির মোক্ষম উপাদান। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এদের হাতে ইস্যূ ধরিয়ে দিলে, সারাদিন হিস্যূ করতেও তাদের বাঁধে না। ভেতরে কাজ করা যায় স্বাধীনভাবে। অফিসিয়ালি একটা ইস্যূ এটাচড করতে পারলেই এরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে ওটার পিছে নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে। দেশের জিডিপিতে যেটুকু অবদান রাখার সুযোগ ছিল, তা হারায়। দিনশেষে, দেশের ব্যাপারে কন্ট্রিবিউশন বলতে ইস্যূতে হিস্যূ। বলার মত তাদের কিছুই থাকে না।
অনেকে আছেন, রাজনীতি এড়িয়ে চলেন; এমন একটা ভাবসাব করে। আসলে, ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট মত-পথ থাকে। যতই বলুক, অবচেতন মন কিন্তু তার বসে থাকে না। রাজনীতির কড়চা চর্চা হতে থাকে ব্যক্তির অবচেতনে বা কখনো কখনো সচেতনে।
রাজনীতি মানুষকে যেমন সভ্য বানায়। আবার, রাজনীতিই মানুষকে তেমনি অসভ্য করে তোলে। রাজনীতি দেশ ও জাতির উন্নয়নের মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। আবার, রাজনীতি রসাতলে গেলে দেশ ও জাতির সমূহ ক্ষতি করার সুযোগ এনে দেয়। রাজনীতি সবই পারে। কেউই রাজনীতির বাইরে নয়। কেউ রাজা, কেউ প্রজা। পার্থক্য শুধু এটুকুই।