সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বহুল প্রচলিত একটি কুযুক্তি


যখনই কোন বিষয়ে কাউকে বলা হয় যে সে এটা ঠিক করেনি; তখন সে সচকিত হয়ে বলে ওঠে, কেন শুধু আমি করলেই দোষ! আরো দশজন তো এটা করে।

আসল কথা হচ্ছে, ভুল বা খারাপ যে বা যারাই করুক সেটা ভুল বা খারাপই! তাই সেটা একজন করুক আর দশজন করুক!

নিজের বা নিজেদের কুকর্মের বৈধতা দানের জন্য আর দশজনের কুকর্মের উদাহরণ দেয়াটা শুধু ভুল না, মহাভুল! কারণ, দশজনের কাজটাও তো ভুল হতে পারে! ভুল বা খারাপের মানদণ্ডের সাথে দশজনের কর্মকাণ্ড মিলিয়ে ফেলাটা মূর্খতা। মানদণ্ড আর কর্মকাণ্ড আলাদা দুটি বিষয়। মানদণ্ড কর্মকাণ্ডের সঠিকতা বা বেঠিকতা যাচাইয়ে প্যারামিটারের পারদ!

ধরুন, একটি ছেলে বা মেয়ে মাদক সেবন করে। তাকে বলা হলো, সে যে কাজটি করে, সেটা খারাপ এবং ক্ষতিকর! তখন সে যদি বলে যে, এটা তো আরো দশজনে করে! তার মানে কি এটা দাড়ায় যে দশজনে করে বলে মাদক জিনিসটা বৈধ হয়ে গেল এবং সেটা খারাপ কিছু না! অবশ্যই না! মাদক খারাপ এবং অবশ্যই ক্ষতিকর বস্তু! যদিও এখন মানুষ জেনে-বুঝে গ্রহণ করে!

আবার ধরুন, একজন কুলাঙ্গার আপনার মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করলো এবং সমস্ত দায় মেয়েটির উপর চাপালো এবং মেয়েটির যেহেতু বোধ শক্তি জাগ্রত হওয়ার আগেই এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হওয়ায়, ভয়ে কিছু বলতে পারলো না বিচারের মঞ্চে, সেহেতু ধর্ষণ কি বৈধতা দিয়ে দিবে বিচারকবৃন্দ! ন্যায় বিচারের মঞ্চে সেটা মোটেও হওয়ার নয়!

মূর্খরা দোষ খুঁজে, রাগ করে; ক্ষোভ দেখায়। জ্ঞানীরা সমস্যা খুঁজে সমাধান করেন; সঠিকতা যাচাই করে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন!