সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আলোকিত জীবনদর্শন


কুত্তা হন্যে হয়ে অন্যান্যদের খুঁজে কামড়ালে, তাতে জলাতঙ্ক হয়। মারাত্মক অসুখের ব্যাপার। কিন্তু, আপনি হন্যে হয়ে বই খুঁজলে, আপনার কামড়ে দুনিয়া বদলে যেতে পারে। সেটা বৈপ্লবিক ব্যাপার।
বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের কিছু সমস্যা দেয়া হয়। এখানে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটা এমন যে কে কত সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারে। সৃষ্টিকর্তা মানুষের জীবনের শ্রীবৃদ্ধি প্রকল্পে কিছু সমস্যা দিয়েছেন। যে যত দ্রুত, সহজ-সরল ও সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারে; সৃষ্টিকর্তা তাকে তত সুন্দর ও সম্মানজনক জীবন ও কর্মফল উপহার দেন। আসুন, জীবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে শিখি। সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা ও ভালোবাসা অর্জন করি।

জন্তু-জানোয়ারের সরল ভাবনা ও সরল কর্মের সাথে মানুষের মৌলিক পার্থক্যটা হচ্ছে মানুষ জটিল ভাবনা ভাবতে পারে এবং জটিল সমস্যা ও জটিল কর্মের সমাধান করতে শেখে।

মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য নেই। কাঁটলে লাল রস সবারই বের হয়। কিন্তু, জীবনের হিস্যায় পার্থক্য টেনে দেয়, দেহের সর্বোপরে অবস্থিত গোল পিণ্ডাকারের মস্তিষ্কটাই। চিন্তার পার্থক্যই মানুষের পার্থক্য। চিন্তার পার্থক্য তৈরি করে ইতিবাচকতা আর নেতিবাকতায়। ইতিবাচক আর নেতিবাচক হয় পঠন-পাঠনের পার্থক্যে। কুত্তা হন্যে হয়ে অন্যান্যদের খুঁজে কামড়ালে, তাতে জলাতঙ্ক হয়। মারাত্মক অসুখের ব্যাপার। কিন্তু, আপনি হন্যে হয়ে বই খুঁজলে, আপনার কামড়ে দুনিয়া বদলে যেতে পারে। সেটা বৈপ্লবিক ব্যাপার।

আমার প্রাণপ্রিয় ধর্মগুরু সুফি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান বলেছিলেন, 'জীবনে সামনে যা পাবে সব পড়ে ফেলবে। আজকে না হোক কোন না কোন দিন কারো না কারো কাজে লাগবে। পৃথিবীর সব কিছুই সৃষ্টিকর্তা কল্যাণের জন্য পাঠিয়েছেন, মঙ্গলের জন্য পাঠিয়েছেন। প্রতিটা বিষয়ের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা মানুষের জন্য জ্ঞান ও দক্ষতা আহরণের উপাদানে সমৃদ্ধ করে পাঠিয়েছেন। কেউ পারে, কেউ পারে না।'

এবং তিনি আরো বলেছিলেন, 'যত পড়বে তত তুমি সমৃদ্ধ হবে। আর যত সমৃদ্ধ হবে সৃষ্টিকর্তা তোমার জন্য উত্তম রিজিক সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেবেন।'

বলেছিলেন, 'দুনিয়াটা দেখতে হলে, সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য পেতে হলে প্রাতিষ্ঠানিকতার উর্ধ্বে উঠতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে, সুন্দর কথা ও আচরণের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শত সমস্যার মাঝেও প্রকৃতি ও মানুষের সাথে অসুন্দর আচরণ প্রদর্শন করা যাবে না। সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য পেতে হলে তোমাকে ধৈর্য অনুশীলন করা শিখতে হবে। ধৈর্য তখনই গুণে পরিণত হয় যখন সেটা নিয়মিত অনুশীলন করা হয়। প্রতিটা জিনিসে পার্থক্য থাকাটাই সৃষ্টিকর্তার বিধান। এটা কেউ মেনে চলতে না পারলে সে সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে। তার জীবন হবে কণ্টকাকীর্ণ।'

অনেকে বলেন যে আমি কিভাবে বই পাগল হলাম। মূলত পূর্বপূরুষ মানে আমার দাদা জ্ঞানী-গুণী শেখ সৈয়েদ আলী এমন ছিলেন। এখান থেকে বোঝা যায় জেনেটিক্যালি একটা ব্যাপার আছে। দ্বিতীয়ত, আমার ধর্মগুরু এটাতে পেট্টোল মেরে প্রজ্জ্বলিত করে রেখে গেছেন। দু'জনেই আবার ভালো বন্ধু ছিলেন। পড়তে যে কি ভাল্লাগে আমার, বলে বোঝাতে পারবো না! আমার দাদা বলতেন, 'খারাপ কথা বলা মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, এটা মেনে নিয়েই কৌশলে জীবনকে এগিয়ে নিতে হয়। কেননা, ভালমন্দ মিলিয়েই তো মানুষ ও জীবন।'

এগুলো আমার জীবনের আশাতীত অনুশীলনীয় ব্যাপার। এগুলো ছাড়া আমার জীবনটাই অচল।