সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
ভালো থাকার মানেটা অন্য রকম। অতি-সম্পদ থাকা মানেই—আপনি ভালো থাকবেন—এমনটা নয়। মানসিক শান্তির যায়গাটা—আগে নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার সম্পদ যদি আপনার শান্তির যায়গা নষ্ট করে দেয়—তাহলে আপনার সব কিছুই বৃথা। শত পরিশ্রম করেও কোনো লাভ নেই। বৈধ-পন্থায় টাকা-সম্পদ অর্জন খুবই মহৎ কাজ—নিঃসন্দেহে। তবে, এটার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশটা আরো বেশি জরুরি। কারণ, এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ আপনাকে মানসিক শান্তির যায়গা তৈরি করে দেয়। বর্তমানে মানুষ না খেয়ে মরে না—মানসিক অশান্তিতে ভুগে—কায়ক্লেশে মারা যায় বেশি। যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ—তার বেশিরভাগই এই অশান্তির কারণেই নেয়। মানসিক অশান্তি আপনার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে—নিকৃষ্ট জীবনাচারে উদ্বুদ্ধ করে। বহু কেস স্টাডি থেকে জেনেছি—মানসিক অশান্তির কারণে—ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষ তার স্বাভাবিক-মসৃণ জীবনাচার থেকে ছিটকে পড়েছে।
আবার একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে—যারা অন্যের ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী যে নিজের বিপদ-আপদের কথা পর্যন্ত ভুলে যায়। নিজের আত্ম-পরিচয় ভুলে—পৃথিবীর মানুষ কি করে—সেটা নিয়ে সারাদিন কটু-কথায় কাল-যাপন করতে থাকে। হুশ ফেরার পরে দেখে—দুনিয়ায় তার সময় শেষ। পরপারের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যায়—কোনো রূপ জীবনবোধ অর্জন ছাড়া। আত্ম-পরিচয় গড়তে হলে নিজের প্রতি খেয়াল রাখাটাই জরুরি। যেটা বেমালুম আমরা ভুলে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে—এটাই চিরন্তন সত্য। সম্পদের গৌরব আপনাকে অবাঞ্চিত করে তোলে। যদি আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ না ঘটে—তাহলে বাপের তালুকদারীও আপনি নিঃশেষ করে ফেলবেন—চোখের পলকে। হ্যাঁ, এটা সত্য যে সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের থাকতে হবে। তবে সেটারও একটা লিমিটেশন আছে। আর জানেনই তো—অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।
কথার ভুল, কাজের ভুল শোধরানো যায়। কিন্তু, সিদ্ধান্তের ভুল কখনো শোধরানো যায় না। সিদ্ধান্ত নিন—হাজার বার ভেবে-চিন্তে—অনেক সময় নিয়ে। কিন্তু, এই যায়গাটাতে যেন কখনোই ভুল না হয়। রিয়েলিটি চেক ছাড়া—কারো চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত কখনোই মেনে নিবেন না—যেই হোক; যত বড় পিরিতের লোক হোক। দিনশেষে ভোগান্তিটা ভুগতে হবে আপনাকে। শিরদাড়া সোজা করে—প্রতিবাদ করুন—এই একটা যায়গায়। এখানে মাথা নত করা মানে—পরাধীনতাকে স্বেচ্ছায় বরণ করার শামিল। আর পরাধীনতার শেকল মানেই মানসিক অশান্তি-নির্যাতনের একটা বাধাহীন লাইসেন্স প্রদান। কটু কথা শুনতে শুনতে পাগলপারা হয়ে যেতে হয়। জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে হবে। এটা কোনো দৈবাৎ ঘটনা না। এটা অনুশীলনের বিষয়। পৈত্রিকসুত্রে প্রাপ্ত কোনো সম্পত্তি না। ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। সৎসঙ্গ ও অভিজ্ঞ মানুষের সংস্পর্শ আপনাকে এখানে এগিয়ে দেবে যোজন-যোজন। পড়া-জানা-শোনা মিলিয়েই আপনার মধ্যে এটা গ্রোথিত হবে। কাউন্সেলিং করাতে গিয়ে দেখেছি—বুঝে উঠতে পারে না—কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়। একটুতেই ভেঙে পড়ে। মানে ব্যাপারটা এমন যে অসহনশীল-অসহিষ্ণু পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে উঠতে—ভেতরটা পুরোই অশান্তির হাঁট-বাজারে পরিণত হয়ে পড়েছে।
বর্তমান প্রজন্ম একটা মারাত্মক রোগ নিয়ে বেড়ে উঠেছে—সহজে এবং দ্রুতই সবকিছুই পেতে চায় তারা। অভিজ্ঞতা বলে—এটা কখনো সম্ভব না। অন্তত, আর্থিক ও আত্মিক সফলতার দিকটা কখনোই দ্রুত আপনার জীবনে ঘটবে না—দীর্ঘ সাধনার পরে এগুলো আসে জীবনে। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মালেও—ব্যক্তিগত জীবনে—দ্রুত এ দুটো আসে না। নিজে কিছু করতে চাইলে আপনাকে বহু প্রতিক্ষিত সাধনা ও পরিশ্রমের পথ বেঁছে নিতে হবে। পূর্ণতা প্রাপ্তি পর্যন্ত—আপনাকে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই আপনি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন।