আপনি যদি আত্মিক ও আর্থিকভাবে (দুটোই সম্পূরক) নিজেকে আরো বেশি সমৃদ্ধশালী মানুষে পরিণত করতে চান—তবে আপনার নিজস্বতাকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে। এর বিকল্প নেই। পরিবেশ-প্রতিবেশে—আপনার প্রত্যেকটা কৃতকর্মের—অপরিণত মস্তিষ্কের সমালোচকের অভাব নেই। এগুলো হলো উচ্ছিষ্ট—এরা “বাবার খেয়ে, বনের মহিষ তাড়িয়ে বেড়ায়”। যদিও এরা আপনার নিজস্বতায় কখনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না—যদি আপনি সে সুযোগটা না দেন কখনো। আর সেটা দেওয়াটা মোটেও উচিত নয়। প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব জগত থাকা উচিত—কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির যুগে—এটা মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। এটা যে শুধু হারানো গেছে তা নয়; এটা অত্যন্ত মর্মান্তিকও বটেও। নিজস্বতা না থাকার কারণে—নিতান্তই প্রভাবিত হয়ে—ভুল পদক্ষেপে মানুষের জীবনহানিকর ঘটনাও ঘটছে। আমার সবচেয়ে বিস্ময় লাগে—এখনকার অটো বাঁশ খাওয়া জেনারেশন (Gen-Z) স্বেচ্ছায় তার নিজস্বতাকে আত্মহুতি দিয়ে দেয়। এরা হুজুগের বশে সব কিছু বিবেচনা করতে শিখেছে। হুজুগের বশ হচ্ছে—তড়িৎ বিবেচনা—যেটা ভয়ঙ্কর—মানসিক দাসত্বের নামান্তর। যে কারণে নিজের কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনা করার সক্ষমতা তদের মধ্যে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষা-ব্যবস্থার ন্যাক্কারজনক ধ্বংসের যে করুণ পরিণতি—সেটা এখন চাক্ষুস। শিক্ষার উন্নয়নে অনেক অনেক কাজ করার সুযোগ থাকার পরেও—আমরা জানি যে অত্যন্ত কৌশলে দেশের প্রত্যেক সরকারই এড়িয়ে গেছে; যায়। আমরা আশাবাদী বাঙালি—কখনো হতাশ হই না। প্রত্যাশার পারদ আমাদের অনেক উপরে। আমরা চাই আগামী দিনে শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এ করুণ দশামুক্ত করবেন—কোনো এক সহৃদয়বান রাজদণ্ড। কারণ, শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।