সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আফগানিস্তান ও পরাশক্তির পরাভব


আফগানিস্তানের ঘটনাবলির উপর নজর রেখে বুঝলাম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবাই স্ব স্ব স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। কেউই আফগানিস্তানের জনগণের জন্য চিন্তিত নয়। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ধরণটাও আবার এমনি।
কোন পক্ষই আফগানিস্তানে আপামর জনসাধারণের কথা চিন্তা করছে না। হাজার হাজার মানুষ তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপর তালেবান খড়গ হস্ত হয় বেশি, এটা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখেছি।
তাছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক কারণে আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়া নয়, সমগ্র পৃথিবীর কাছেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীত ইতিহাস ঘাটলে এটার প্রমাণ মেলে। এখানে তালেবানের চেয়ে আফগানিস্তানের ভূমির গুরুত্ব বেশি। প্রক্সি-ওয়ারের সেরা ক্ষেত্র হিসেবেও এর জুড়ি মেলা ভার। ঘটনাচক্রে তালেবান সামনে এসে হাজির। তাই সবাই চেষ্টা করছে তালেবানের সাথে দহরম-মহরম বজায় রেখে চলতে। তালেবানকে ব্যবহার করে সবাই স্ব স্ব স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে।
তালেবান এখন-তখন পরাশক্তিরগুলোর দাবার ঘুটি ছাড়া কিছুই না। পরাশক্তিগুলো এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে নেমেছে। কার কি লাভ ও ক্ষতি হবে।
কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, তালেবানের যারা ভেতরে বাইরে সমর্থক আছে তাদের কাছে নিছক ধর্ম কায়েম ছাড়া কিছু না। তৃনমূল পর্যায়ে যে তরুনটি বন্দুক নিয়ে লড়ছে সেও হয়তো জানে না, আমেরিকার সাথে দুবাইয়ে তালেবানের কি চুক্তি হয়েছিল। তার কাছেও এটা নিছক দীন কায়েম। তথ্য ও বোধের সীমাবদ্ধতা মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়; তার বাস্তব উদাহরণ এটি।