অযথা কেনো আপনি নিজেকে নিয়ে এত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। দুশ্চিন্তা কখনো আপনার সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। সমস্যার আশু সমাধান করার জন্য আপনাকে সমাধান সুত্র আবিষ্কারের পথে অগ্রসর হতে হবে। আর আপনাকে সমাধানের পথ আবিষ্কারের জন্য—পড়ালেখা (বই-পত্র ও পত্রিকা) এবং প্রচুর টিউটোরিয়াল দেখতে হবে। ব্যবহারিক জ্ঞানার্জনের জন্য—বর্তমানে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখার বিকল্প নেই। সাধারণ কোনো অফলাইন কোর্সের চেয়ে হাজার গুণ বেশি কার্যকর এটা। একটা প্লে-লিস্ট দেখে বুঝতে না পারলে—লক্ষ লক্ষ ভিডিও রয়েছে। সেগুলো দেখে আপনি অনায়াসে যেকোনো কাঙ্খিত বিষয় শিখতে পারেন। শুধু আপনার আগ্রহ এবং লেগে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। হাল ছাড়া যাবে না।
অযথা আড্ডাবাজি আর কালক্ষেপণ করে সময়—অপচয় করলে—আপনার জীবন হবে—করুনার পাত্র। নির্দিষ্ট সময় পরে—দয়া-দক্ষিণা গ্রহণ করে—জীবনাতিপাত করতে হবে। যেটা আসলে মাহুতের হাতির মত—জীবনাচারের সামিল। অতিকায় হয়েও সে—ছোট্ট মানুষের কাছে পরাধীন। আড্ডাবাজি কমিয়ে—নিজের দক্ষতা বাড়াতে সময় ব্যয় করুন। কাজে দিবে। চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা বন্ধ করে—আপনার হাতের স্মার্টফোন ও পিসিটা অন করে বসে পড়ুন। অবাঞ্চিত চ্যাটিং-চাটাং বাদ দিয়ে—দক্ষতার সাগরে নিজেকে সঁপে দিন। প্রোক্রাস্টিনেন্ট মানুষজন পরে প্রচুর আফসোস করে—সময় শেষ হলে—তাদের হুশ ফেরে। আমি সব সময় বলি, “মানুষ যখন ভুল করে, তখন সে বুঝতে পারে না। আর যখন সে বুঝতে পারে, তখন আর সময় থাকে না।” এই বাস্তবতা আমি প্রতিনিয়তই দেখছি। কতিপয় মানুষ বাদে—প্রত্যেকটা মানুষ এমনই করে।
আরো একটি বিষয়—আপনি যদি নিজেকে রিস্টার্ট দিতে শেখেন। তাহলে আপনার হারানোর কিছু থাকবে না। আর যার হারানোর কিছু নেই—তার কোনো দুশ্চিন্তাও ভর করে না। যে নিজেকে রিস্টার্ট দিতে জানে—সে তার সবকিছু নতুন করে সাজাতে পারে। আর যে সব কিছু নতুন করে সাজাতে পারে—তার আবার কিসের ভয়। সে বিশ্ব-জয় করার শক্তি অর্জন করেছে। নিজেকে আরো একবার রিস্টার্ট দিন। রিস্টার্ট দিয়ে—আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে—মাইন্ডসেট ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এরপর, পরিকল্পনা আর দৈনন্দিন রুটিন ফলো করে এগিয়ে যাওয়া। এখানে পরিকল্পনার প্রত্যেকটা ধাপে—আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। রিসার্চ করার জন্য আপনাকে গুগল করা ও এআই এর ব্যবহার আয়ত্ব অর্জন করতে হবে। প্রত্যেকটা বিষয় লিখে রাখার অনুশীলন করতে হবে। আমি এটাকে বলি, “জীবনাচারের সেরা অভ্যাস।” রপ্ত করুন।
কিছু দক্ষতা রয়েছে—যেগুলো পড়ে-দেখে শেখা যায় না। আপনাকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হবে। যেমন: সময় ব্যবস্থাপনা, আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা, অর্থ-ব্যবস্থাপনা, সভ্য উপায়ে দরকষাকষি করা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। দেখবেন, দৈনন্দিন জীবনে কোনো না কোনো সময়—আপনি এগুলো প্রতিনিয়তই করে চলেছেন—অবচেতনভােবে। অবচেতনভাবে করলে তার মধ্যে কোনো মাধুর্যতা ও দক্ষতা থাকে না। সচেতনভাবে করলে—আপনি অবাঞ্চিত খরচাপাতি ও সময় অপচয়ের হাত থেকে মুক্ত থাকবেন।
সুস্থ-ধারার জীবনবোধ অর্জনের জন্য—আপনাকে আরো বেশি ব্যবহারিক জ্ঞানার্জন করতে হবে। ব্যবহারিক জ্ঞান ছাড়া কেউ—বাস্তব জীবনে সুখ-শান্তিতে দুনিয়াবী জীবন উপভোগ করতে পারে না। সামান্য ভুল সিদ্ধান্তের কারণে—অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী অসুখ-অশান্তিতে ভুগতে হয়। ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে আপনাকে আরো বেশি ব্যবহারিক হতে হবে—বৈষয়িক বিষয়ে আপনার আগ্রহকে আমি অবজ্ঞা করছি না—তবে তা যেন আপনাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত না করে। তাহলে তা হবে—মাঁকাল ফলের মত। দেখতে সুন্দর, খাওয়া যায় না।