সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কে ভালো আর কে বা খারাপ!



বিরোধীতা করার জন্যই বিরোধীতা করে মানুষ। কল্যাণের জন্য এখানে কেউ বিরোধীতা করেছে বলে দেখা যায় না। বিরোধীতা ব্যাপারটা ছোঁয়াচে রোগের মত। পারিপার্শ্বিকতার চাপেও মানুষ বিরোধীতা করে। যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিরোধীতা কেউ করেছে; এমনটা আমার সামনে খুব কমই ঘটেছে! রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য মানুষ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বিরোধীতা করে আসছে আবহমান কাল ধরে। এটা প্রথাসিদ্ধ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। জনকল্যাণ ও ন্যায্যতার ভাবনা এখানে তিরোহিত। আমার মতে, বিরোধীতার চেয়ে সহযোগিতার ভাবনা বেশি কার্যকর। সেটা ব্যক্তির পক্ষে, এমনকি সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষেও। আবার, দ্বিমত গ্রহণযোগ্য; কিন্তু, দ্বিচারিতা পরিত্যাজ্য। ঘাপটি মারা শয়তানগুলো দ্বিচারিতা করে।

আরো একটা ব্যাপার, অনেকে চরম বিরোধীতার সুযোগে স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজের সকল পাপ-মোচনের ব্যর্থ চেষ্টা করে। বহ্যিকভাবে ব্যক্তির সকল পাপ মুছে যায়, গরিষ্ঠ বিরোধী লোকের দলে মিশে বিরোধীতা করে। সে অনেক সময় হনু বনে যায়। আমাদের দেশে এমন অনেক লোককে দেখা যায় পাজি বিপক্ষের লোক হওয়ার পরও স্রোতের টানে পক্ষের কতিপয় লোক ঘোল খেয়ে পাপিষ্ঠের প্রচারে নেমে যায়। 'ব্যক্তিকে কখনো ভালো বা মন্দ বলা যায় না। ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভালমন্দ বিচার্য।' যদি সে কোন কালে ভালো কাজ করে থাকে, তবে সে ঐ কাজটাই ভালো করেছে। তাই বলে ব্যক্তি খারাপ কাজ করবে না; এমন ভাবাটা ভুল। ভালমন্দ মিলিয়েই মানুষ। এককভাবে ব্যক্তিকে ভালো বা খারাপ বলা বা ভাবা মহাভুল। তবে এটাও ঠিক, অতীত বা বর্তমানের একটা বা দুটো ভালো কাজের জন্য ব্যক্তির সকল খারাপ কাজ বা পাপ মুছে যায় না। কলা খেয়েছিলেন; এখন যদি বলেন, ওটা হজম হয়ে শেষ; তার মানে আমি কলা খায়নি; এখন আমি ভাত খাচ্ছি; এটাই সত্য! ভাবতে আপনি সারাদিন ধরে পারেন! এটা যে ঝুট কথা! মানুষ কিন্তু বুঝে! আপনি বোকা অথবা ধোকাবাজ! পার্থক্যটা যে অতীত, বর্তমানের; সব মানুষ না বুঝলেও, কেউ কেউ ঠিকই বুঝে ফেলে।

আরো একটা বিষয় বোধ করি, জাতীয়ভাবে আমরা মননে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উত্তরাধিকার পেয়ে বংশগতির ধারা রক্ষা করে চলেছি। শ্রীহীন ভাবনা, শ্রীহীন কাজ; করতে মোদের নেই কোন লাজ! তাছাড়া, মূর্খ মানুষগুলো সমাজের বোঝা হয়ে যাবে; দক্ষতার অভাবে তারা অদক্ষ শ্রমিক। তাদের কর্মক্ষেত্রগুলো সংকুচিত করে ধীরে ধীরে নিঃশেষে খেয়ে ফেলছে অত্যাধুনিক অটোমেশন প্রযুক্তি। নতুন কর্মসৃজন ভাবনা মানুষগুলোর মধ্যে কাজ করে না; কারণ, তারা চিন্তায় মূর্খ, কর্মে অলস। এ মানুষগুলো নিজেদের কুকর্মের দায়ও সরকারের উপর চাপাতে অভ্যস্ত। রাষ্ট্রীয় ভাবনায় এদের অবদান নিতান্তই সামান্য; উল্টো বোঝা। দৈহিকভাবে মানুষকে সমান ভাবা গেলেও, মানুষের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয় মননে। কতিপয় কর্মহীন লোক বিকৃত-মস্তিষ্কে কুতর্ক শুরু করে দেয়। অসভ্যতা করে হলেও তারা মানুষের উপর নিজের মতকে জুলুমে প্রয়োগ করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও বিকৃতমজা নিতে চেষ্টায় লিপ্ত! মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সর্বমনীষা কতৃক স্বীকৃত। অনেকে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে সর্বজ্ঞাত বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। উহারা পাপিষ্ঠ কুলাঙ্গার। এভাবে বলার কারণ, চিন্তায় আঘাত ছাড়া ত্যাঁদড়, মূর্খ লোক সুস্থ আচরণে অভ্যস্ত হয় না।

মহান বিধাতা মানুষকে চিন্তাশক্তি দিয়েছেন, তা দ্বারা মানুষ সৃজনী ক্ষমতা অর্জন করেছে; প্রয়োজন মাফিক। কিন্তু, অপপ্রয়োগ কথাটি সর্বভাষায় স্বীকৃত একটি শব্দ। উক্ত দুটো বিষয়েরই অপপ্রয়োগ ঘটে; হরহামেশা। টেনে-হিচড়ে কেউ ভালো কাজ করার চেষ্টা করছে; অপরপক্ষে সেটা কেউ ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত। সব কিন্তু এ মানুষই করছে। বোধের ব্যবহার হোক কল্যাণে; সে প্রত্যাশাই করি।