অসভ্য মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অসভ্য মানুষ অন্য মানুষের সাথে দূর্ব্যবহার করে। তাছাড়া অসভ্য মানুষ নিজের অসভ্যতা নিয়ে গর্বও করে। এটাও যে অসভ্যতা সে তা বোঝে না! আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রুমমেট বলতেন, 'কখনো অসভ্য, মূর্খ আর বেয়াদব লোকের ধারে-কাছে যাবে না! তাহলে ইজ্জত নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না!' এক্সপেরিমেন্ট করে দেখেছি। ঘটনা সত্য! এদের কথাবার্তা সব সময়ই কর্কশ টাইপের হয়। মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে। এরা বাদে আর সব মানুষই যেন পাগল-ছাগল-গরু মনে করে। মারামারি-কাটাকাটি-খুন-খারাবি এদের বংশজাত বিষয়। বিয়ের সময় বাপ-দাদারা বলত, বংশের কষ্টি দেখো। বংশগুণে ছা (ছেলে-মেয়ে)! তখন কথাগুলো অপাংক্তেয় লাগতো! এক্সপেরিমেন্ট করে দেখেছি। এ ঘটনাও সত্য। আপনার চারিপাশটা মিলিয়ে দেখুন। প্রমাণ পেয়ে যাবেন। কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। সত্য সুন্দর, সুন্দরই সত্য। মেনে না নিয়ে উপায় নেই।
সভ্য মানুষের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা কথা বলার সময় সংযত হয়ে কথা বলে। মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলে। মানুষকে মানুষ ভাবতে পছন্দ করে। আদবকেতা বজায় রেখে চলে। চিন্তা-ভাবনা করে কথা বলে, কাজ করে। মানুষকে নিয়ে ছোট বা বড় ভাবনা কাজ করে না তাদের মধ্যে। নিজের কর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। অন্যের বিষয়ে তারা কখনো নাক গলানো পছন্দ করে না। ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করে। মারামারি, কাটাকাটি, খুন-খারাবি, হানাহানি, বিশৃংখলা করা থেকে বিরত থাকে তারা। প্রয়োজনে তারা ঐ শ্রেণীর লোকদের এড়িয়ে চলে! তবুও, তারা ওসবের ধারে-কাছে ঘেঁষে না।
মানুষ ততক্ষন মানুষ যতক্ষন সে সভ্য। সভ্যতার আলো নিভে গেলে সব অমানুষ। তার পরিচয় তখন সে প্রাণ আছে তাই প্রাণী। মানুষ হওয়ার অবাধ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মানুষের বাচ্চা হয়েও সে মানুষ হতে পারেনি। প্রাণীই রয়ে গেলো।
(আরো কিছু বিষয় ছিল। খোলাসা করে বলা গেলে ভালো হতো। কিন্তু, বেঁচে থাকার স্বার্থে কিছু কথা উহ্য রেখে দিতে বাধ্য হলাম।)