সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৯২৫-৯৩০)


৯২৫. পরিস্থিতি এমন যে সুযোগ পাইনি বলে আমি ভালো আছি। যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা হরদম খারাপ কাজ করে চলেছে। ঠগ বাছতে গা উজাড় হয়ে যাবে।

৯২৬. তাবৎ পৃথিবীর মানুষ মানুষকে প্রাথমিক অবস্থায় আচরণ-আচার দেখে বিচার করে। আপনি যতই মহৎ হোন না কেন আচরণ যদি খারাপ হয়, কেউ আপনাকে ভালো বলবে না। ভালমন্দ বিচারের একেবারে প্রাথমিক মানদণ্ড হচ্ছে আচরণ।

৯২৭. দেখবেন, অধিকাংশ মানুষ খারাপ কাজের সুযোগ না পাওয়ায় ভালো আছে। আর অধিকাংশ মানুষ বুড়ো বয়সে ভালো হয়ে যায়। কারণ, তখন খারাপ কাজ করার শক্তিমত্তা থাকে না, তাই। সারাজীবন জেনা-ব্যভিচার, অন্যায় আচরণ করে শেষে এসে বহু মানুষকে ধার্মিক হতে দেখেছি। তখন তাদের ধার্মিকতার জোশ দেখে, না জানা লোকগুলো অজান্তে অভিভূত হয়।

৯২৮. বাঙালি মনস্তত্ত্বের একটি বড় দিক হচ্ছে, জানুক বা না জানুক সামনে যে বিষয়ই আসুক না কেন, মন্তব্য করা লাগবেই গোটা কয়েক। দেখুন, যে বিষয়ে আপনি জানেন না, সে বিষয়টা ভেবে দেখুন, আপনার প্রয়োজন পড়েনি কখনো। তাই, সে বিষয়টা আপনার জানা নেই হয়তোবা। অযথা কেন অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে মন্তব্য করে নিজেকে হালকা করেন। দরকার নাই তো! ভাই।

৯৩০. বাংলার প্রকৃতি মানুষকে খুব সহজেই অলস করে দেয়, যে কারণে এখানকার মানুষ একটু বেশিই অজুহাতপ্রবণ। এজন্য আমি বলি, "যার দু'হাত অচল, তার অজুহাত সচল"। কাউকে জবাবদিহিতা করার কথা বললে দেখবেন, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে আড়াল করার পাঁয়তারা করে। এটা করে আবার নিজেকে নিজে মহা বুদ্ধিমান মনে করে। হাস্যকর বঁটে!