সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোটলেখা (৮৮৫-৯১০)


৮৮৫. যেদেশে ২০ টাকায় ভোট বিক্রি হয়; এক প্যাকেট পাতার বিড়ি পেয়ে নির্বোধের মত ভোট দেয়; সেদেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা আর বিষাক্ত সাপের কাছে মাথা নত করে দাড়ানো সমান কথা। দূর্নীতি রোধ করা আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। দূর্নীতির শেকড় অনেক পাতালে চলে গেছে। বিদেশীরাও এখানে এসে উৎকোচ দিয়ে কাজ আদায় করতে শিখে গেছে। চায়না হারবার কোম্পানির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ আছে যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বানিজ্য সচিবকে উৎকোচ দিয়ে তারা কর্ম হাসিল করেছে। বাহ্! সবাই শিখে যায় এখানে! যেই আসে সেই শিখে যায়।
৮৮৬. ধর্মমতে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হারাম এবং এটার জন্য ইহকাল ও পরকালে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এখন কেউ যদি ধর্মীয় অস্বীকৃত অবৈধ মেলামেশা করে এসে সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় বাণী দেয়, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে অতি ধার্মিকতা এবং অবশ্যই অবশ্যই সেটা ভণ্ডামী! এরা মানুষের ধর্মীয় আবেগের যায়গা নিয়ে খেলা করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করে! জঘণ্যতম কর্মের মধ্যে এটি অন্যতম! ধার্মিকতা অবশ্যই অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং অতি ধার্মিকতা পরিত্যাজ্য!
৮৮৭. মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক!
৮৮৮. ধর্মমতে, বিচারের মালিক আল্লাহ্! ফায়সালা দানের মালিক আল্লাহ্! কিন্তু, মানুষের আকিদা এতটাই দূর্বল যে তারা আল্লাহর সাথে গাদ্দারী শুরু করে দিয়েছে! বিচারের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছে! ফায়সালা দানের জন্য মানুষ উন্মুখ্ হয়ে থাকে!
৮৮৯. আপনি যদি ব্যতিক্রমকে মেনে নিতে না পারেন। তাহলে আপনার মানসিক সমস্যা আছে। একজন মানুষ হিসেবে আপনাকে অনেক কিছুর সাথে এডজাস্ট করে চলার চেষ্টা করতে হবে। তানাহলে, টিকে থাকার সংগ্রামে আপনি হেরে যাবেন।
৮৯০. দূর থেকে ভালোবাসা জমে বেশ। সুতরাং, দূরেই থাকো।
৮৯১. Read my life then comment.
৮৯২. মুসলনমান নেতাগণ যেদিন থেকে ধর্মের তাকলীদ শুরু করে, সেদিন থেকে মুসলমানদের পতিত অবস্থা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক সময় মুসলমানদের গবেষণার উজ্জ্বল ইতিহাস ছিল। সেগুলো কিছু আলেম-ওলামা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সকল মুসলমানদের তাকলীদের দিকে ঠেলে দেয়। যার ফলে মুসলিম সমাজ অন্ধ অনুকরণের কবলে পড়ে নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে শুরু করে। এ ধারাটা বহুকালের। সুতরাং, এখন হা হুতাশ করে কিছু লাইক, কমেন্ট, রিঅ্যাক্ট ছাড়া কিছু পাওয়া যাবে না।
(ব্যক্তিগত অভিমত। দ্বিমত থাকতেই পারে। দ্বিমতের প্রতি অবশ্যই সহনশীল ও দ্বিমতকে সর্বদা স্বাগত জানাই।)
৮৯৩. আমরা আসলে মিশ্র কালচারের অংশ! এখন অনেকে ফেসবুকে এসে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য প্রকাশ করে মন খুলে। কিন্তু, বাস্তব জীবনের ধর্ম আর ফেসবুকে প্রকাশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখেছি! যাদেরকে দেখে বাস্তবে শতবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি! ফেসবুকে তাদের দেখে আলহামদুলিল্লাহ পড়তে বাধ্য হই। আজব।
৮৯৪. সংকুচিত ভাবনা ঝেড়ে, বৃহত্তর ভাবনার যায়গা থেকে গ্রহণে পটু হতে হবে।
৮৯৫. সব কিছু নিজের মত করে ভাবতে ভাবতে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। অন্যের মতকেও গুরুত্ব দিতে না জানলে, অসামাজিক জীবে পরিনত হতে সময় লাগে না।
৮৯৬. শিখতে পারবেন, এমন কোন কর্মকাণ্ডে অপরকে সহযোগিতা করুন। এ শেখা হবে অপার। জীবনভর কোন না কোন ভাবে কাজে লাগবে।
৮৯৭. আসুন, কেউ কারো ধর্মকে আঘাত না করি! একে-অন্যের ধর্মকে সম্মান করি! গুটিকতক বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে চলি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখি। অনেকে আছে নিজের ধর্মকে কেউ গালি দিলে রক্ত গরম করে ফেলে। অথচ, ঐ একই ব্যক্তি অন্যের ধর্মের ব্যাপারে জেনে হোক বা না জেনে কটুক্তি করা, হেয় করা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে কসুর করে না। এটা হতে পারে যে ঐ ধর্মের এমন কোন আচরণীয় বিষয় যেটা অন্য কারো অধিকারকে খর্ব করে সেক্ষেত্রে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আদালতের দারস্থ হতে পারেন, সেই ব্যক্তি। তাই বলে কটাক্ষ করা বা হেয় করা অন্যায়। ক্ষেত্র বিশেষ সেটা অপরাধের আওতায় পড়ে যায়। অন্তত আমার ধর্ম ও বিশ্বাস তাই বলে।
ধর্ম হোক যথাযথ, কর্ম হোক ভালো,
দশে মিলে জগৎ করবো আলোকিত আলো।
৮৯৮. তোমরা আমাকে একটি রগরগে ভাইরাল ইস্যু দাও, আমি তোমাদেরকে অসংখ্য মনুষ্যরূপী বলদ উপহার দেবো।
৮৯৯. মৃত্যু চিরন্তন সত্য জেনেও, মানুষ তার জীবনকে ভালোবাসতে শিখে যায়! আশায় মানুষকে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়! আল্লাহ্ মানুষকে আশা না দিলে, মানুষ ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মহত্যা করতো! আল্লাহকে ধন্যবাদ! আমাদেরকে এমন সুন্দর জীবন দান করার জন্য! কিন্তু, মানুষ তার জীবনের মহত্ব অনুভব করার আগেই মৃত্যুবরণ করে। সেখানে আল্লাহর মহত্ব বোঝা তো দূর ভাবনা!
৯০০. করোনাকালে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপলব্ধি হচ্ছে, আল্লাহর কাছে আমার কর্মের জবাবদিহিতা আমাকেই করতে হবে। তাই অন্যের কর্মের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা/ সমালোচনা করা বন্ধ করে দিয়েছি।; প্রকারান্তরে, এগুলো অন্যায় ও গুনাহের কাজ! তবে আল্লাহর নির্দেশমতে, সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত সর্বদা বিস্তৃত থাকবে, প্রকৃত দীনদুঃখী মানুষের জন্য।
৯০১. কর্মজগতে একে-অন্যের কমিটমেন্ট রক্ষা করা সময়ের দাবী! এটাকে উপেক্ষা করলে আপনি নিঃস্ব হতে সময় লাগবে না! মানুষের হাতে এখন বিকল্প অনেক! সাধু সাবধান! আপনি ভাবছেন, একজন গেলে কিছু হবে না! উহুম, ভুল ভাবছেন! এখন তথ্য বিভ্রাটের সাথে তথ্যের প্রসার বেড়েছে হুহু করে! একজন একজন করে একদিন আপনাকে লাটে তুলে সবাই চলে যাবে! ভাব নেয়ার কিছু নেই! এটা মানসিক অস্বাভাবিকতা! সুস্থ-স্বাভাবিক আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে!
৯০২. আগে ভয়ের বিষয় ছিল সম্মান ও শ্রদ্ধা! তখন বড়দের ভয় পেতাম এ কারণেই! আর এখন বিরক্তিকর বিষয় হচ্ছে, বেয়াদবি আর অভদ্রতা! এখন ছােটদের ভয় পাই এ কারণেই!
৯০৩. খেত-খামারে ছাগলের উৎপাত বেড়ে গেলে, ফসল নষ্ট করে! আর দেশে ছাগলের উৎপাত বেড়ে গেলে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে!
৯০৪. বর্ষাকালে ছাগল ব্যাঁ ব্যাঁ করলে, বিরক্তি উৎপাদন হয়! আর উচ্চস্বরে শব্দদূষন সৃষ্টি করলে বা সাউণ্ড সিস্টেমে উচ্চস্বরে চিৎকার-চেচামেচি করলে, তা মানুষের হার্ট-অ্যাটক, ব্রেইন-স্ট্রোকসহ নানাবিধ রোগের সৃষ্টি করে। এসব ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।
৯০৫. উদ্দ্যেশ্যমূলক কথাগুলো হতে হবে সংক্ষিপ্ত এবং বোধগম্য। তানাহলে, আপনার কথাগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে! কারণ, আপনার কথা শোনার জন্য মানুষের অঢেল সময় নেই! জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, কাজ অনেক বেশি!
৯০৬. যা আছে, তা নিয়ে খুশি থাকতে পারাটা অভ্যাসের ব্যাপার এবং চরম দক্ষতার বিষয়।
৯০৭. আপনি ভাবছেন, কেউ আপনাকে গুরুত্ব দেয় না; খোঁজ নেয় না, খোঁজ রাখে না! ভুল ভাবনার জগতে আছেন! মানুষ স্বভাবতই প্রয়োজনের পূজারী! অন্যের জন্য নিজেকে প্রয়োজনীয় করে গড়ে তুলুন; দেখবেন, খোঁজ নেওয়ার, খোজ রাখার লোকের অভাব হবে না! প্রয়োজনে পূজারী, অপ্রয়োজনে বেজারী!
৯০৮. দু'শ্রেনীর লোককে বেশি পছন্দ করি। এক. পড়ুয়া। দুই. কর্মী। তাছাড়া, গবেষকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। পড়ুয়া এবং কর্মীরা দুনিয়া গড়ে। আর গবেষকগণ রসদের জোগান দেয়। রসদ ছাড়া উপরোক্ত দু'শ্রেণী অচল!
৯০৯. লোকাল ইকোনোমির সবচেয়ে বড় সমস্যা বাঁদরের উৎপাত, গাঁধার জল ঘোলা করা এবং খচ্চরের ত্যাড়ামি! এগুলো নিজের পরিবার থেকে শুরু করে, বাইরের সব যায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত। এগুলো উতরে যেতে পারলে, আপনার চেয়ে সফল আর প্রতিষ্ঠিত কে বা হতে পারে, তা আমার অজানা!
৯১০. বিশের বিষ ঝেড়ে, একুশের নবচৈতন্যে জেগে ওঠো বাঙালি!