সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সময় গেলে সাধন হবে নাহ্! তুমি দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলে না!


আপনি যখন জিতে যাবেন বা জীবনে কোন একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বার্থক হবেন; তখন আপনার ছোট ছোট ব্যর্থতাগুলো লিজেণ্ডারিতে পরিণত হবে; তখন বললে সবাই হা করে শুনবে। আর যখন পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবেন, তখন সেগুলো বস্তাপচা জঞ্জালে পরিণত হবে। কেউ ফিরেও তাকাবে না; ভাব নিয়েও লাভ হবে না; বিকল্পের দুনিয়া, মানুষ বিকল্প খুঁজে নিবে। সুতরাং, সিস্টেমকে, দেশকে, কপালকে, সরকারকে গালি না দিয়ে, কোয়ালিটি টাইম স্পেণ্ড শিখুন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার শিখুন, করণীয় নির্ধারণ করতে শিখুন, বোধের পারদে শান দিন। আমাদের অধিকাংশ সময় কেটে যায় অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, বিষোদগার, ক্ষতিকর সমালোচনা আর হেয় করতে করতে নতুবা অন্যের তৈরি করা জিনিস নিয়ে আজে-বাজে মন্তব্য করতে করতে বা সময়ের প্রতি অবহেলা, অলসতায়। এর মাঝখান দিয়ে অনেকেই কাজ করে, নিত্য নতুন কিছু শিখে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজের কোয়ালিটি, কোয়ানটিটি, কোয়ালিফিকেশন ছাড়া কেউই আপনার মূল্যায়ন করবে না। সবাই স্যরি বলে এড়িয়ে যাবে। সাময়িক দুঃখ প্রকাশই হবে আপনার শান্ত্বনামূলক পুরস্কার।

যেকোন বিষয়ই গার্বেজে পরিণত হয়, সময়কে অবমূল্যায়ন করার কারণে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে সময়কে উপেক্ষা করার কারণে। বিখ্যাত বহু ব্যক্তিবর্গ হঠাৎ আলোর ঝলকানি দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেছেন নিজের মেধাকে, শ্রমকে, সময়কে আর মানুষকে অবমূল্যায়ন করে। সময়টা খুবই দ্রুত এগিয়ে চলছে। দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। সেখানে সময়কে অবমূল্যায়ন করলে যোজন-যোজন পিছিয়ে পড়বেন; শতভাগ নিশ্চিত। আপনার কোন অজুহাতই কাজে আসবে না। কাজ আপনাকে দুহাত দিয়েই করে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

আপনার সুশিক্ষা, কর্ম-প্রচেষ্টা আর দক্ষতা বলে দিবে আগামী দিনগুলো কেমন হবে। এ তিনটি জিনিসকে অবমূল্যায়নের কোন সুযোগ নেই। ভালো কিছু করতে হলে, এগুলো ছাড়া অসম্ভব। কেউই পাত্তা দিবে না। এমনভাবে তাড়িয়ে দিবে যেটা স্বভাবত কুত্তাকেও দেয় না। ক্ষেত্রে পড়লে, তখন বুঝবেন, মানুষ মানুষের প্রতি আচরণে কতটা নিকৃষ্ট হতে পারে। তবে, সমস্যাটা যেহেতু আপনার, তাই আপনাকেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে; প্রয়োজনে ভালো মানুষ খুঁজে বের করে নিতে হবে। তবে, আমার অভিজ্ঞতা হলো, যার অনেক আছে, সে কখনোই আপনাকে দিবে না; বরঞ্চ, সুযোগে সে আপনাকে, আপনার  মেধাকে, কষ্টকে, সময়কে এমনকি আপনার পরিবার ও বংশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে; কিছু না করেও ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করবে। যার অল্প আছে সে তা থেকে অল্প হলেও দিবে; কথায় আছে, 'দুখীর দুঃখ দুখীই বোঝে।' টিকে থাকার সংগ্রামটা নিজেকেই করতে হয়। মানুষের বাচ্চা হিসেবে সবাই সোনার চামচ মুখে জন্মাবে এমনটা ভাবা ভুল। একটা শিশু যখন মুমূর্ষ অবস্থায় পতিত হয়, তখন মা-বাবা এমনকি কোটি টাকার ডাক্তারও যে কতটা অসহায় হয়ে পড়েন তা নিজের চোখে না দেখলে বুঝতে পারবেন না। সবাই চেষ্টা করে তাকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু, সব কিছুর পরও বেঁচে থাকার সংগ্রাম, প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর কাজ, লেথার্জিকে এনার্জিতে পরিণত করার কাজটা শেষ পর্যন্ত তাকেই করতে হয়। বাকিগুলো সবই সাপোর্ট মাত্র। আর এ সাপোর্টগুলো খুব বেশিক্ষণ থাকে না। অকেজো হতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। আমরা সবাই সেই মহা মানব যারা ঐ সময়টা পার করে এসেছি। অধিকাংশই ডাক্তার, ঔষধ ছাড়াই সংগ্রাম করে ঐ সময়টা পার করে এসেছি। তাহলে আজকে কেন এ দুরবস্থা!
শুধু সংগ্রামটা থেমে গেছে বলে।

যে এগিয়ে যাওয়ার তাকে কেউই আটকে রাখতে পারে না। কারণ, সে জানে যে তাকে কোয়ালিটি এনশিউর করে এগিয়ে যেতে হবে। তাই মোটেও সে সময়কে ও তার মেধাকে অবমূল্যায়ন করে না; করণীয় কাজ করে যায়। সুতরাং, যে কাজ করে তাকে নিয়ে কুট-সমালোচনা করে তার গ্রোথ হ্যাম্পার না করে, নিজের গ্রোথের দিকে নজর দিলে সবাই উপকৃত হবে।

বিষয়টা এমন আপনার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে, আপনাকেই সমাধান করতে হবে। কেউই সমাধান দিতে পারবে না; না সিস্টেম, না দেশ, না সরকার, না আপনার কপাল। স্বভাবতই আপনি আপনার সমস্যাগুলোকেই খুব ভালোভাবেই চিহ্নিত করতে পারবেন; এটাই স্বাভাবিক। অন্যরা বড় জোর পরামর্শ দিতে পারে; আপনার সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে; আপনার ভুলের দায় কেউ নিবে না। কিন্তু, পরামর্শ এদেশে একধরণের বিরক্তিকর ভাইরাসের মত ছড়িয়ে গেছে। যার পাশেই যাই উটকো পরামর্শের যন্ত্রণায় কাতর না হয়ে উপায় নেই। সুতরাং, বইয়ের পাতায় পরামর্শ খুঁজুন। সর্বোপরি, ইন্টারনেট থেকে এমনভাবে পরামর্শ খুঁজুন যেন সময়ের অপচয় না হয় আবার। আমার লেখাটাও উটকো পরামর্শ মনে হলে এড়িয়ে যান। সময় অপচয় মোটেও ভালো না। সহায়ক বিষয়ের গুরুত্ব কখনোই মৌলিক বিষয়ের মত হতে পারে না।

ইন্টারনেটে আপনি যখন অন্যের তৈরি করা চুটকি ভিডিও দেখে সময়ের পর সময় পার করে দিচ্ছেন, তখন সে নতুন কোন ভিডিও তৈরি করছে পকেট ভারী করার জন্য। অথবা ভিডিও এডিটিংয়ের এমন কোন নতুন দক্ষতামূলক কৌশল রপ্ত করতে সে ব্যস্ত, যেন আপনার মত ডুলকে পরবর্তী ভিডিওতে সে আটকে রাখতে পারে; তার পকেটটা ভারী করার জন্য। আপনার সময়টা তার কাছে অনেক মূল্যবান, তাই সে নিজের দক্ষতা প্রতিনিয়তই বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু, নিজের সময়টাকে কিভাবে কুরবানি দিচ্ছেন, ভেবেছেন কখনো। সময় থাকতে ভাবুন; না হলে পরে পস্তাবেন। ইন্টারনেটে নিজের প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট দ্রুত খুঁজে বের করে সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে কাজে নেমে পড়তে পারাটাও এক বিশাল দক্ষতার ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে এখন। কারণ, অধিকাংশই একবার ভার্চুয়াল জগতে ঢুকলে মোহ কাটাতে তার ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায়।

বাউলের কণ্ঠে ভেসে আসে সুমধুর গান, 'সময় গেলে সাধন হবে নাহ্! তুমি দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলে না!'