সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আর কোন ধর্ষক যেন না তৈরি করে সমাজ


কিচ্ছু হবে না! এত লাফালাফি করে কিচ্ছু হবে!

স্কুলে ধর্ষণ হয়, কলেজে ধর্ষণ হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদ্রাসা, গির্জাসহ অন্যান্য) ধর্ষণ হয়, এভাবে বললে শেষ হবে না বলা। যেখানে প্রতিটা মানুষ মনে করে; ধর্ষণ নারীর কারণে, সেখানে ধর্ষক যে ঘরে ঘরে, তা প্রমাণ করার জন্য অক্সফোর্ড বা ক্যাম্ব্রিজের পিএইচডি হোল্ডার হওয়া লাগে না।

একবার একজন মুরুব্বি আমাকে বলেছিলেন, অন্তরে বিষ রেখে মুখে যতই মধু ঢালি না কেন, অরিজিনাল হয় না; খাদ রয়ে যায়; সমঝদার লোকমাত্র বুঝে ফেলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, এদেশে সুযোগ পেলে সব পুরুষই নারীর প্রতি সহিংস হয়ে ওঠে।

আজকে অবাক লাগে! যখন দেখি একজন রেপিস্টও ধর্ষণ বিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেয়। আজকে সবাই ধর্ষকের বিপক্ষে চলে গেলো! আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না! যে ছেলেটা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সমগ্র নারীদের গালিগালাজ করে, সেও আজকে ধর্ষকের বিপক্ষে চলে গেলো! কিন্তু, বিচারের মঞ্চে এরাই নারীকে দোষ দিবে! বলবে, নারীর কারণেই নারী আজ ধর্ষিত! হাস্যকর তাই না! ধর্ষক মানুষিকতা বহন করা সমাজে ধর্ষণ নিরোধ আকাশ-কুসুম কল্পনা মাত্র।

দেখবেন, কেউই আসল কথা বলবে না। অনেকে এর মধ্যে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজবে। অনেকে প্রশাসনিক দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াবে। আসল কথা কেউ বলবে না। কেউ কেউ তো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলেরও চেষ্টা চালাচ্ছে! দিনশেষে পরিস্থিতি যা, তাই রয়ে যাচ্ছে। মাঝখান দিয়ে কিছু লোক ফায়দা হাসিল করে উঠে যাচ্ছে।

আসল কথা হচ্ছে; প্রথমত, ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে! দ্বিতীয়ত, সম্মিলিত ধর্ষণ বিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কারণ, একজন ধর্ষক এ সমাজে লালিত পালিত হয়ে ধর্ষকে পরিণত হচ্ছে! ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি, যাতে আর কোন ধর্ষক এ সমাজে গড়ে না ওঠে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে! ধর্ষণ নিয়ে প্রতিবাদ হোক সামাজিকভাবে! রাজনীতি শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ধর্ষন নিরোধ করতে হবে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষকামী মানুষিকতা পুষে রাখার ফল ভেগ করছে সমাজ। জানি না আরো কতদিন চলবে। তবে, নতুন ভোরের প্রত্যাশায় আমরা ধর্ষণ নামক সামাজিক ব্যাধিকে সম্মিলিত ধর্ষণ বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ থেকে বিদায় জানাবো! ইনশাল্লাহ্!

যেদেশে নারী দেখলে পুরুষের যৌনতা ঝরে পড়ে; বিভিন্নভাবে সেটার স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে; সেদেশে কাজটা একটু কঠিন হলেও সম্ভব।

আসুন ধর্ষণের মত একটি সামাজিক ব্যাধিকে আমরা সম্মিলিত সামাজিক চেষ্টার মাধ্যমে নিরোধ করি।