বাঙালির একটা ইস্যূ দরকার! সেটা নিয়ে সে সারাদিন পড়ে থাকতে পারে! সেটা নিয়ে ভাবতে ও ভাবাতে পারে! মাঝখান দিয়ে ভোগ্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে, সেদিকে মূর্খ বাঙালির কোন নজর নেই! আজব দেশের আজব মানুষ! রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ইস্যূ হলে কোন কথায় নেই! এদেরকে এ দুটো খুব সহজেই গলধকরণ করানো যায়! একটা ইস্যূকেও ছাড় দেয়া যাবে না! দশে মিলে ইস্যু নিয়ে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ! ছোট হোক, বড় হোক বাদ যাবে না কোন ইস্যূ! ইস্যূতে হিস্যূ প্রিয় বাঙালি! নারী ঘটিত ইস্যু হলে, নির্জীব প্রাণীগুলোও মূহুর্তেই সজীব হয়ে ওঠে। আবাল-যুবা-বৃদ্ধের যন্ত্রপাতিগুলো খুব সহজেই জীবন ফিরে পায়! ভাবখানা এমন পুরুষ মানে স্বর্গের পুতুল; আর নারী মাত্রই তারা মনে করে নরকের কাঠ! যতসব আতেল!
আতেলগুলো মনে করে, যতই সে অন্য মেয়ের সাথে রুমডেট করে তো কি হয়েছে! ভার্জিন মেয়েই বিয়ে করবে সে! রুমডেট তো জেনা! আবার এই জেনাকারী এসেই বলবে, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, মেয়েরা কত খারাপ! তারা রুমডেট করে! নিজেকে লুকিয়ে দোষ চাপায় অন্যের ঘাড়ে! জেন্ডার বৈষম্য তাদেরকে চরম সুযোগ করে দেয়, এহেন অন্যায় করতে! প্রেম একটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক; যা হারাম! হারামিরা এসে ধর্মগাঁথা শোনায়!
এগুলো বলার পরে অনেকে প্রতি-আক্রমণে আমাকে নারীবাদী বলতে পারেন! কিন্তু, না! আমি নিপীড়িত মানুষের কথা বলি। সৎ-সাহস আর বোধদয় থাকলে আপনিও বলবেন! কারণ, সত্যের স্বরূপ একই! মিথ্যাকে অনেকভাবেই বলা যায়!
সাবরিনা, মিন্নি বা পাপিয়াদের মত নারী চরিত্রগুলো, পুরুষ তার প্রয়োজনেই গড়ে তোলে। আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ফ্রন্টে এনে ছেড়ে দিয়ে নিজেরা পিছন থেকে ছড়ি ঘুরিয়ে আপন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজের শয়তান চরিত্রটাকে ভালোত্বের মুখোশ পরিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়ায়! তাদেরকে কেউ খোঁজেও না, বোঝেও না! কি দরকার, নারীটাকে আচ্ছা করে ধুয়ে-মুছে ছাপ করতে পারলেই তো কাপুরুষত্ব ফুটে ওঠে! যুগে যুগে মায়ের জাতকে লিঙ্গ-বৈষম্যের আড়ালে সহজ শিকারে পরিণত করে আসছে কাপুরুষের দল।
এটা বলার পর অনেকে প্রতি-আক্রমণে বলতে পারেন, আমি হয়তোবা সমানাধিকারের কথে বলছি! কিন্তু, না! আমি প্রতিটা মানুষের প্রাপ্য অধিকারের কথা বলছি। যার যেটা প্রাপ্য তাকে সেটা দিতে হবে! বৈষম্য করা যাবে না! স্বয়ং, সৃষ্টিকর্তাই স্ব স্ব অধিকার দিয়েছেন। গায়ের জোরে, শক্তিমত্তা দিয়ে সেটাকে আপনি কেন আটকে রাখবেন!
প্রতি সপ্তাহে একটা বা দুটো করে ইস্যূ সামনে চলে আসে! সেটা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া হয়ে শহর ও শহরতলী বেয়ে গাঁও-গ্রামের চায়ের দোকানে ও খাবার ঘর, শোয়ার ঘর পর্যন্ত আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে; খেয়ে না খেয়ে! সময় ও শ্রমের অপচয় বলে কিছু জানা নেই তাদের। মরে গেলে আপনার জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের সুক্ষ্ম হিসাব নিবেন সৃষ্টিকর্তা! সুতরাং, সাবধান হয়ে যান! আগে নিজেকে শোধরান! পরে অন্যকে উপদেশ দেন! আপনার হিসাব আপনাকেই দিতে হবে; অন্যের হিসাব স্ব স্ব ব্যক্তিই দিবেন!
সঠিক জিনিস নিয়ে কথা বলাটাও আবার মুশকিল। সহজেই হেনস্থার শিকার হবেন আপনি। ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করলে বা ভণ্ডামি করলে, যদি বলেন আপনি, তাহলে ধর্মের উগ্র অংশ আপনাকে নাস্তিক, মুরতাদ বলবে! রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীন রাজনীতিকরা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে!
মিথ্যার বাজারে, সত্য বড়ই বেঢপ!
মিথ্যাবাদী যুধিষ্ঠির, সত্যবাদী খারাপ!
সত্য বলে বাপরে বাপ!
উমুকের এই করতে হবে, তুমুকের তা করতে হবে! কিন্তু, সে ঠিক নাই! নিজের কি করতে হবে সেটা সে আদৌ জানে না বা জানলেও অজুহাতে এড়িয়ে চলে; যেটা সে বলে, সেটা সে মানে না; করে না! আচরণের বৈপরীত্যই তাকে উগ্র করে তোলে! কখনো কখনো সে দুনিয়ার চরম অসভ্যতায় লিপ্ত হয়!
সরকার কিন্তু একটা দর সেট করে দেয়! আপনি ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখেন, কেউই সরকারী দরে বা ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করে না! সরকার সার্বিক দিক বিবেচনা করেই তো বাজারদর নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু, ভণ্ড ও মূর্খের দেশে জ্ঞানের দুঃস্বপ্ন দেখলে যা হয় আর কি! মূর্খের দল বলবে, বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনি আমি; সুতরাং, এটা সরকারের দোষ! হাইস্যকর; সত্যিই এটা হাইস্যকর!