এদেশে ততদিন ধর্ষন বন্ধ হবে না, যতদিন ইনিয়ে-বিনিয়ে ধর্ষিতাকে দোষারোপ করা হবে। এটা ধর্ষনকে বৈধতা দানের একটি চতুর কৌশল। ধর্ষককে আড়াল করার চাতুর্যে সবাই সামিল হয়ে যাচ্ছে, জেনে বা না জেনে, বুঝে বা না বুঝে। ধর্ষন একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি ও জঘণ্য অপরাধ। যিনি করেন তিনিই অপরাধী। যারা তাকে সহযোগিতা করেন, তারাও সমান অপরাধী। সুতরাং, আপনার একটি কথাও যদি ধর্ষকের পক্ষে যায়, তাহলে আপনিও কোন অংশে কম নন।
মতদ্বৈততা থাকবে। তার জন্য ধর্ষন বৈধ কোন কর্মকাণ্ড হতে পারে না বা ধর্ষক কোন মতেই তার শাস্তি এড়াতে পারে না। যারা তাকে আড়াল করে, সেটা যে কোনভাবেই হতে পারে, তারাও এ অপরাধের অংশ। আপনি যেমন আপনার মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চান বা আপনি মনে করেন সেটা প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাই নিয়ম বা কাজ; ঠিক তেমনি অন্যজনও তার মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে। সুতরাং, দ্বিমত দিয়ে অপরাধের বৈধতা দানের চেষ্টাও বড় ধরনের অপরাধ বঁটে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরে কিছু ঘটনা ঘটেছে। যা ইতঃপূর্বে এ ধরনের ঘটনা মানুষ এত সহজলভ্য ভাবে দেখতে পারেনি। যদিও স্যোশাল মিডিয়ার শক্তিতে সবাই এখন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আবার এই স্যোশাল মিডিয়াই এখন অসভ্যতার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
যদি কোন ভাবে কোন ঘটনার সাথে কোন নারীর নাম মিশে যায়, তাহলে কথায় নেই! সবাই নারীর চরিত্র বিশ্লেষণে নেমে যায়। যার কারণে মূল অপরাধী কৌশলে নিজের রূপ বদলে আড়ালে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আদৌ ভেবে দেখে না বা খতিয়ে না দেখে, সঠিকতা যাচাই না করেই নারীর চরিত্রে পতিতা বা বারোভাতারি ইত্যাদি তকমা বা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়। এখানে কিছু নালায়েক আদমি জুটে যায়, সেগুলো স্যোশাল মিডিয়ায় নারীর প্রতি বিষোদগার ছড়িয়ে বিকৃত প্রশান্তি লাভের আশায়। এগুলো ঐ ভাগাড়ের বস্তাপচা অসভ্যদের দ্বারাই সম্ভব। এরা সাধারণত নিজের জীবন ও কর্ম নিয়ে কখনোই আশাবাদী হতে পারেনি; তারা হতাশার গহ্বরে নিমজ্জিত। তাই তারা নিজের হতাশাকে বিকৃতভাবে অন্যের উপর ঝাড়ে, একটু শান্তি অনুভবের আশায়; যদিও সেটা ভুল ধারনার বশবর্তী হয়েই করে।
ভেবে দেখুন তো, এ ধরনের ঘটনা যদি আপনার বা আপনার পরিবারের সাথে ঘটে, তাহলে আপনার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে। সুতরাং, নিজেকে যেমন নিরাপত্তার চাদরে দেখতে ভালোবাসেন। তেমনি অন্যের নিরাপত্তা যেন আপনার দ্বারা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা আপনার দায়িত্ব। কারণ, সবাই যদি নিজেকে নিয়েই শুধু ভাবে, তাহলে একদিন আপনি বিপদে পড়লে কেউই এগিয়ে আসবে না। যে ভাগাড়ে বসে বিষোদগার ছড়িয়েছিলেন, সেখানেই পঁচে-গলে নিঃশেষ হয়ে যাবেন।
এদেশে অনেক কিছুর মধ্যে অনেক কিছুই ঘটে। সেখানেও নারীকে ভুক্তভোগী হতে হয়। আবার ভুক্তভোগীর উপর অন্যায়কারীর দায় চাপানো হয়। সেটা এমনভাবে করা হয় যেন জনমতকে সহজে ভুক্তভোগীর বিপক্ষে পরিচালনা করা যায়। সুতরাং, ঘটনার মোটিফ না জেনে বা সঠিকতা না যাচাই করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীর পাশাপাশি এখন জনমতেরও গুরুত্ব পাওয়া শুরু হয়ে গেছে। এককথায়, বাধ্য হয়ে বা রাজনীতির ছত্রছায়ায় এগুলো করতে বাধ্য হচ্ছেন কতৃপক্ষ। তবুও, কতৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। এজন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই।
কেউ কেউ নারীর স্বাধীনতা থাকা বা না থাকাকে দায়ী করেন, ঘটনার কারণ হিসেবে। আবার অনেকে অবাধ স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা নারীর অবাধ স্বাধীনতার পক্ষে, এরা দেখবেন, কিছু নির্দিষ্ট ছকে বাধা কথা বলে দায় সারেন। আর যারা নারীর স্বাধীনতার বিপক্ষে তারা নারীকে বিভিন্নভাবে হেনস্থার পথকে বৈধতা দানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমি বলি কি, কিছুই লাগবে না। সবাই সবার অবস্থান থেকে নারীর অধিকারটুকুর স্বীকৃতি দিন, বাস্তবায়ন করুন। দেখবেন, সব ঠিক হয়ে গেছে। একে-অন্যের প্রতি সম্মানের ধারা বজায় রাখার শিক্ষা দিন এবং সেটা নিজেও মেনে চলুন। পাশাপাশি নারী-পুরুষ ভেদ না করে সবাইকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে যান। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন; নিঃসন্দেহে।
(দ্বিমত থাকতেই পারে এবং অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু আমার মতটুকুই প্রকাশ করলাম মাত্র। সবার জন্য অবিরাম শুভকামনা এবং ভালোবাসা।)