বাঙালি চরিত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, 'পরশ্রীকাতরতা'। এটা বোধ করি পৃথিবীর অন্যকোন জাতির মধ্যে নেই। বাঙালি কর্মবাজা; এটা স্বীকৃত সত্য। সাধারণ ঘরানার বাঙালি যেটুকু কাজ করে, সেটুকুও হয় স্যাঁতস্যাঁতে। কারণ, তাদের মন পড়ে থাকে অন্যের ঘরে। নিজের মনের অপরিচ্ছন্নতাকে তারা গুরুত্ব না দিয়ে অন্যের ঘরের কোনায় কোনায় ময়লা খুঁজে বেড়ায়। এটা একটা কমিউনিটির জন্য যে কত খারাপ দৃষ্টান্ত তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। স্বল্প সংখ্যক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান মানুষ রয়েছে, যারা সব সময় উভয়ের স্বার্থে কাজ করে। আর কিছু অজ্ঞ ও নির্বোধ মানুষ থাকে, যারা সব সময় উভয়ের ক্ষতি হয় এমন কথা বলে ও কাজ করে। এরা কীট-পতঙ্গের মত। সমাজ ও মানুষকে কুরে কুরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কীটনাশক প্রয়োগও ব্যর্থ হয়।
আর সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হচ্ছে, খেয়ে কাজ না থাকলে নারী-বিদ্বেষ ছড়ায়। যেখানে আমরা শিখেছি নারীকে সম্মান করতে হবে, সেখানে পরশ্রীকাতর লোকগুলো নারীর প্রতি বিষোদগার করে। খুব কমন একটা শ্রেণী আছে, যারা বিকৃত যৌনতার প্রতি আকৃষ্ট; এরাই নারীর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ভঙ্গি ও চলাফেরা নিয়ে পরশ্রীকাতরতায় মুখর হয়ে থাকে। মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এরা বিকৃত শান্তি অনুভব করে। এই মানুষগুলো ধর্মাশ্রয়ী হয়ে, স্বস্বার্থ হাসিল করে। এদেরকে ধর্ম থেকে বয়কট করতে না পারলে ধর্মগুলো এদের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি শুদ্ধাচার চালানো যায় সেটা আরো ভালো। তবে, এদের কোনভাবেই পথে ফেরানো মুশকিল। কারণ, ময়লা খেঁকোর মুখে ঠুসি পরালেও কাজ হয় না।