সামাজিক বেশকম। ইংরেজিতে বলে স্যোশাল ল্যাগ। একটু খোলাসা করে বলি। ধরুন, ডাচ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে ল্যানসেটে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে যে স্ট্র (খড়) এ শুধু ফাইবার আছে। গো খাদ্য হিসেবে তাতে অন্য কোন পুষ্টিমান নেই। এক্ষেত্রে যারা চিন্তার স্বাধীনতা ভোগ করে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচ্ছন্ন ও স্বাধীন, তারা নিরীক্ষামূলকভাবে দেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। আর যারা মূর্খ, চিন্তায় পরনির্ভরশীল; অর্থাৎ, বাপ-দাদার কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তারা বলবে ধুরো, সারাজীবন দেখে আসছি বাপ-দাদারা এটা খাওয়ায়ে গরু পুষেছে। শিক্ষিতরা এখন কি সব বের করছে। সব শিক্ষিত মানুষের ষড়যন্ত্র; ব্লা ব্লা ব্লা। ভাবনার সীমাবদ্ধতা মানুষকে কুয়োর ব্যাঙের মত করে ফেলে। দুনিয়াটা হয়ে দাড়ায় ছোট্ট কুয়ো, এর বাইরে সে দুনিয়া ভাবতে নারাজ। ক্ষেত্র বিশেষে চরম অসভ্যতার ছায়ায় সে আশ্রয় গ্রহণ করে; নিজের ভাবনার সীমাবদ্ধতাকে আড়াল করার জন্য।
কথা হচ্ছে, একজন ব্যক্তি দামী স্মার্টফোন ব্যবহার করে; এটা নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা প্রমাণ করে। কিন্তু, ঐ ব্যক্তি যদি এটা ব্যবহার না করে জেনে বা না বুঝে অপব্যবহার করে; এখানেই সামাজিক বেশকম তৈরি হয়। বিষয়টা বস্তুগত আর অবস্তগত অবধারণ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন ধরুন, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতিকে মানুষের বস্তগত উন্নয়ন হিসেবে ধরা হয়; আর চিন্তা-ভাবনার স্তিমিত বিকাশকে অবস্তুগত অবনমন বলা হয়। এটাই সামাজিক বেশকম।