সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আজব সংস্কৃতি


সত্যি কথা বলতে আপনাকে বোদ্ধা হতে হবে। বুদ্ধু হলে অন্য কেউ আপনার উপর দিয়ে বানিজ্য করে চলে যাবে; বুঝতেই পারবেন না। কিছু বোকা আছে যারা মনে করে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে তারা এ দেশ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় জানাবে। পুরাতন সংস্কৃতিকে তারা স্বাগত জানাবে স্ব-সম্মানে! খুবই ভালো কথা!

আদৌ কি সেটা সম্ভব? সেটার একটা মোটামুটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করবো।

দেখুন, এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। আপনার সঙ্গে না মেলাটাই স্বাভাবিক। প্রতিটা মানুষের ব্যক্তিগত অভিরুচি, ব্যক্তিগত পছন্দ, ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা থাকে। এটাও স্বাভাবিক। অন্যের মতকে অবশ্যই সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

যাহোক, সময়টা ১৯৯২ এর দিকে হবে। সে সময় প্রথম সাব-মেরিন কেবলস বঙ্গপোসাগরের উপকূল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ তখন নিতান্তই নাম মাত্র মূল্যে সংযোগ গ্রহণ করতে পারতো। কিন্তু, খোড়া অজুহাতে তখনকার দায়িত্বে বসা কতৃপক্ষ তথাকথিত সমাজবাদীদের অপপ্রচারে সংযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এটাতে জাতি হিসেবে আমরা যে অনেক পিছিয়ে গেছি সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কারণ, এখনো ২০০১ সালে আবিষ্কৃত ৩জি নেটওয়ার্ক সব যায়গায় সম্প্রসারন করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ১৯৯২ আর ১৯৯৬ এর মাঝখানের সময়টা অনেক কিছুর ব্যবধান টেনে দিয়েছে। তখনকার একদিন এখনকার অনেক সময়। আমরা দাড়িয়ে থেকেই যোজন যোজন পিছিয়ে পড়ছি। যদিও এখন জগিংয়ের স্টাইলে চলছে। তবুও তো পিছিয়ে পড়া কমেনি। যেখানে অন্যরা মিসাইল গতিতে চলছে, সেখানে আমরা মনের সুখে জগিংয়ের গতিতে ছুটছি।

দ্বিতীয়ত, যারা মনে করে অপসংস্কৃতি বলে কিছু আছে। এটা এক ধরনের ব্যবসা। তারা জানে যে আটকাতে পারলে ব্যবসা জমে যায়। হাটে-মাঠে-ঘাটে ওষুধ বিক্রতারা কত কৌশলে মানুষ আটকে ব্যবসা করে। বাহ্।

আসল কথা সম্ভব না। কারণ, যাদের সংস্কৃতিকে আমরা বিজাতীয় বলে ধো তুলি তাদের আবিষ্কৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করি; এমনকি রীতিমত অপ-ব্যবহারই করি। তাদের সংস্কৃতিকে অনুসরন করে মহৎ বনে যাওয়ার চেষ্টাও করি। বিজাতীয় সংস্কৃতির ধো তুলে তাদের দেয়া মালপানি ঢকঢক করে গিলে খাচ্ছি। আর বলছি, দেশটা রসাতলে গেলো। আসলে কি দেশ রসাতলে যায়, না মানুষ! কোনটা? দেশ তো মানুষকে কেন্দ্র করে একটি জড় ভাবনা।

আমাদের সংস্কৃতিটা এমন, 'তোর বউ মানে আমার বউ; আর আমার বউ তোর ভাবি।' অদ্ভূত সব মানুষ।