আমার লেখাগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয় না! তবে, নিঃসন্দেহে অভিজ্ঞতার ছাপ থাকেই! আজকে পারিবারিক জীবনের কিছু কঠিন সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো! বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে কিছু চরম সত্য চলে আসবে; তবে, কাউকে হেয় করা বা কষ্ট দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয়! শুধু অভিজ্ঞজনদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেক্ষাপটানুযায়ী একটি বিশ্লেষণী লেখা উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো মাত্র। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বা লাভ ম্যারেজ- দুটোর ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটতে পারে।
পুরুষ মানুষের কাছে বিবাহিত জীবন মানে অন্য রকম এক রোমাঞ্চকর ব্যাপার থাকে; সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট (বৈধ অভিসার)। কিন্তু, সেটা অল্প সময় পরেই বিষবাষ্প হয়ে যায়। কেননা, সম্পর্কের একঘেয়েমি, তিক্ততা এবং পারিবারিক চাহিদা মেটাতে মেটাতে ব্যাটা কলুর বলদ হয়ে যায়। আর জীবনবেদ আস্বাদন করা হয়ে ওঠে না। একটা সময় পরে কম্প্রোফাইস করা ভুলেই যায় সবাই। পুরাতন সম্পর্কগুলোও পানসে হয়ে যায়। ছোট্ট ছোট্ট ভুল; তিল জমিয়ে তাল করে। নতুনত্বের টানে সব ভুলে গিয়ে আবার পুরাতনে মিশে যেতে ইচ্ছে করে; টানাপোড়েনের জীবনে। কিন্তু, নিতান্তই অসহায় এক জীবে পরিণত হতে হয়। নদীর পানির মত প্রবহমান জীবনে সব কিছু আর আগের যায়গায় থাকে না। গড়াতে গড়াতে পানি ঘোলা হয়ে যায়। সুযোগে অনেকেই তাতে মাছ ধরার চেষ্টাও করে। সবকিছু মিলিয়ে চোখের জল আর নাকের পানি এক হয়ে যায়। স্বচক্ষে অবলোকন করেছি। প্রমাদ গুণতে গুণতে জীবন ওষ্ঠাগত প্রায়; এমনই হয়। বড় বড় হনু দেখেছি বাইরে; ভেতরে তারা অসহায় বুড়ো মার্জার। প্রেক্ষাপটানুযায়ী সকলকে আমি এখানে পরিকল্পিত জীবনে অভ্যস্ত হওয়ার কথা বলি। কিন্তু, অতিপরিকল্পিত নয়। অতির পতি ভালো হয় না।
নারীর জীবনে বিবাহ মানে অজানা প্রাপ্তির সাগরের ঢেউয়ে দোল খাওয়া। যখনই প্রাপ্তির ঢেউ থমথমে হয়ে যায় তখনই ঘাটতির মোহে নারী সংসারের তরণী উল্টে বেহিসাবী কথার চালাচালিতে তরঙ্গভঙ্গে ছত্রভঙ্গ জীবনকে আপন মনে করা শুরু করে। কিন্তু, বিষয়টা এমনও না হতে পারতো। পুরুষকে চাপ না দিয়ে ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করে সংসারে সহযোগীর ভূমিকা সে অনায়াসেই নিতে পারতো। আবার অনেক স্বাবলম্বী কট্টর কতৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। পুরুষ বেহুশ হয়ে বিবাগী হয়ে যায়। তাই বলে নারীর জীবন যে মসৃণ সেটা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু, পারিবারিক অশান্তির যায়গাটা শুধু দুটো মানুষকে ভোগায় না! পরিবার, প্রতিবেশসহ অনেককেই ভোগাতে পারে। তাই এটার একটা মুক্তির পথ দরকার। লেখার মাঝে ত্রুটি থাকতে পারে। বিরোধও বাধতে পারে! সভ্যভাবে তুলে ধরুন।
একটা সুন্দর পরিবার গড়ে ওঠে চলমান কম্প্রোফাইসের মাধ্যমে। কম্প্রোমাইজ আর স্যাক্রিফাইসের ঘাটতি পড়লে তা প্রতিবেশকে ভোগায়। বিষয়গুলো অনেক কঠিনও না আবার সহজও না। দীর্ঘমেয়াদী চর্চার ব্যাপার। শেষ করা নয়; শুরু করাই কঠিন। আমাদের আসলে শুরু করাটাই হয়ে ওঠে না। আসুন, কম্প্রোফাইস করতে শিখি; সম্পর্কের সৌন্দর্য রক্ষা করে পরিবেশকে বাঁচায়।
অনেক পরিবার আছে যেখানে অসভ্যতা নামক কুতন্ত্রের প্রবল চর্চা চলে। সেসব পরিবারে নারী খুব একটা সমীচীন অবস্থানে থাকে না। সেসব অসভ্য কট্টর পুরুষতান্ত্রিক পরিবারে নারী মানে পাপাচারের যন্ত্র, অপয়া ইত্যাদি ভূষনে ভুগতে হয় নারীকে। তবে, ধীরে ধীরে অনেক উন্নয়ন ঘটেছে এসব যায়গাগুলোতে। আশা করি ভবিষ্যতে আরো উন্নতি ঘটবে এখানটাতে। হেরেমের নারী দিরাগমোন্ করবে।
ব্যতিক্রম অনেক ঘটনা থাকতেই পারে। হয়তোবা, সেগুলো আমার অজানা। তবে, মোটামুটি এমনই চলছে; অভিজ্ঞতা যা বলে আর কি!