সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অভাব ও অর্থনৈতিক সংকট


অভাব এবং অর্থনৈতিক সংকট দুটো দু'রকম জিনিস। দুটোর পার্থক্য না বোঝাটাই অভাব। আর বুঝে সমাধান করার নামই অর্থনৈতিক সংকট। অভাব জিনিসটা স্বভাবের অংশ। আর অর্থনৈতিক সংকট প্রাকৃতিকও বলতে পারেন; আবার নিয়তিবাদীরা নিয়তিও বলতে পারেন। এটা স্বাভাবিক। তবে, নিজেকে সর্বকাজে হালনাগাদ রাখতে পারলে সংকট মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

সৃষ্টিকর্তা মানুষের জন্য অনেক সুপথ খুলে দিয়েছেন; সৎ ও সুপথে জীবন-ধারণের জন্য। তবে কেনো আপনি একটা পথ বেছে নিবেন; যেটাকে আমরা অসৎ পন্থা বলে জানি। পৃথিবীর সব মানুষ ভালো হবেন; এমনটা না। কিন্তু, সব মানুষ চাইলে বৈধ বলে স্বীকৃত পন্থা অনুসরণ করে জীবন-ধারণ করতে পারেন। এ ধরণের নজির পৃথিবীতে হরহামেশা মেলে। ভার্চুয়ালিটির যুগে খুঁজে দেখলে, অনেক পেয়ে যাবেন; খুব সহজে। ফাঁকি দিয়ে, চুরি করে, ঠকিয়ে কেউ বিশ্বের সেরা কিছু হতে পেরেছে এমনটা দেখাতে পারবেন না। এ সব যারা করে, তারা হারিয়ে যায়। শ্রেষ্ঠত্বের অনুশীলনই শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে আনে। খারাপ কিছুর অনুশীলন আপনাকে নিম্নগামী করে দেবে; ভালোর অনুশীলন উর্ধ্বগামী করে।

পন্ডিত চাণক্য তার অর্থশাস্ত্র গ্রন্থে বলেছেন, 'এই ভারত ভূ-ভাগে এমন কোন লোক নেই, যাকে দায়িত্বে বসালে একটু-আধটু দূর্নীতি, ফাঁকিবাজি করবে না'। কারণ, ভারত ভূ-ভাগের সব মানুষই কমবেশি, একটু-আধটু হলেও তারা অসৎ! এরা আপাদমস্তক দূনীতিবাজ, ফাঁকিবাজ না হলেও সময়-সুযোগ পেলে একটু-আধটু করে থাকে; এই আরকি! কাকে বলবেন! আপনি নিজেও কতটুকু সৎ-অসৎ তা বোঝা যাবে তো যখন আপনাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর এ কাজ করবেন নাকি না করবেন তখন। তবে, সৎ ও কর্মঠ লোক যে নেই, তা না। আছে, অবশ্যই আছে। সীমিত পরিসরেই তাদের বিচরণ। তবে, তাল বাগানে দুটো খেঁজুর গাছ থাকলে যেমন খেঁজুর বাগান বলা যায় না; পরিস্থিতি ঠিক তেমনি দাড়িয়েছে!

আপনার মনে হচ্ছে, আপনার অসৎ কর্মকাণ্ডে আপনার কিছু হচ্ছে না বা কেউ কিছু বলছে না বা আপনি কৌশলে এই হওয়াটাকে আটকে দিচ্ছেন। কিন্তু, কোন একদিন লোকের দেওয়া বড়শাপ (অভিশাপ) আপনাকে দংশিয়ে ধ্বংস করে দেবে; খেয়ে ফেলবে সকল অর্জিত সম্পদ; বিপদগ্রস্থ, পথভ্রষ্ট করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। দ্বিতীয় প্রজন্মে আপনি ফকির। নিজের চর্মচক্ষে এ ধরণের বহু উদাহরণ অবলোকন করেছি, করছি। আপনি চাইলে, আপনিও দেখতে পাবেন। তাছাড়া, কিছু মানুষ বুঝে আপনাকে এড়িয়ে যাবেন। কেননা, সমাঝদার লোকমাত্র অসৎ সঙ্গ নিরোধ করে চলেন। কারণ তারা জানেন, 'দুষ্টু গরুর চেয়ে, শূন্য গোয়াল অনেক ভালো'।

বুদ্ধি অতীব প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সেটা অবশ্যই সুবুদ্ধি হতে হবে। কুবুদ্ধি পাত্র ছাপিয়ে উৎরে পড়ে পরিবেশ নষ্ট করে। কুবুদ্ধি অনিষ্টকর, ক্ষতিকর, সমাজ-বিধ্বংসী। তাছাড়া, কিছু বোকা মানুষ মৌখিকভাবে নিজেকে বুদ্ধিমান বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কথা-কর্মে মানুষের বুদ্ধির পরিচয় মেলে; সু অথবা কু দুটো বুদ্ধিই হতে পারে। এটা অবশ্যই, অবশ্যই চর্চার ব্যাপার।

অনেকে বলে, পড়ালেখা শিখে কি হবে? তারচেয়ে, বুদ্ধি দিয়ে টাকা উপার্জন করাটা বেশি দরকার। কিন্তু সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে যেটা বুঝেছি, বিদ্যা হচ্ছে বুদ্ধিতে শান দেয়ার অস্ত্র। বুদ্ধি দিয়ে উপার্জন, বিদ্যা দিয়ে হবে তা ধারণ। বুদ্ধি জিনিসটা স্থির। বিদ্যা তাতে গতি সঞ্চার করে। এককথায় বলতে পারি, বিদ্যা বুদ্ধিকে হালনাগাদ করে। আর হালনাগাদ বুদ্ধি ছাড়া আপনি অচল। বুদ্ধি মানুষের স্বভাবজাত হলেও, বিদ্যা অর্জনের বিষয়। যেমন, লোহা দিয়ে কামার দা তৈরি করে দিলেও তাতে নিজেকেই শান দেওয়া লাগে।

নিজেকে কখনো অভাবী বলে ভাববেন না। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছেন। শুধু নিজের অধিকারটুকু বুঝে নেয়ার মত দক্ষতা অর্জন করে নিলে আপনি আপনার প্রাপ্য পেয়ে যাবেন। বিদ্যার সহিত বুদ্ধির চর্চা করুন। দেখবেন, অধিকার বাড়ি চলে এসেছে। বিদ্যা দ্বারা বুদ্ধিতে শান দিয়ে ভালমন্দ বুঝে খারাপকে বর্জন, ভালোকে গ্রহণ করতে শিখুন। চক্ষে আন্ধার না দেখে, আলোকিত মানুষ হবেন; নিঃসন্দেহে। অভাব চিরস্থায়ী হলেও অর্থনৈতিক সংকট সাময়িক।
বুদ্ধি জিনিসটা স্থির। বিদ্যা তাতে গতি সঞ্চার করে। এককথায় বলতে পারি, বিদ্যা বুদ্ধিকে হালনাগাদ করে। আর হালনাগাদ বুদ্ধি ছাড়া আপনি অচল।