জেনে-বুঝে সেবা গ্রহণ করা লোক নিতান্তই সামান্য।
ধরুন, আপনার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এখন আপনার করণীয় কি? আমি হলে সবার আগে গুগলে সার্চ দিতাম এভাবে লিখে, 'গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করার উপায় ও খরচ?' তার আগে বলে রাখা ভালো বাংলাদেশ সরকার আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৮০০ মত সরকারী সেবা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে হাজারখানেক সেবা ও পেমন্ট সরকার অনলাইনে নিয়ে চলে এসেছে। সরাসরি লেনদেনের ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ দূর্নীতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকলেও, বুঝলে অনলাইন পেমন্টের ক্ষেত্রে সম্ভব না।
না জানার কারণে আমরা প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছি। যে সেবাগুলো ফ্রিতে নিজেই গ্রহণ করা যায়, সেগুলোর জন্য আমরা অযথা অন্যের সাহায্য গ্রহণের নিমিত্তে অনেক টাকা খরচ করি। শুধু প্রক্রিয়াগুলো না জানার কারণে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এখন মোটামুটি সবার হাতে স্মার্টফোন থাকার পরও এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। চোখ খোলা রেখে যারা জানে-বুঝে এবং বিশ্বস্ত, তাদের কাছ থেকে নেট ব্রাউজিংটা ভালো করে শিখে নিলে একবার, আপনি সারা জীবন সব সরকারী সেবা কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের দুটো বিষয় এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে। এক. আমার গ্রাম, আমার শহর; ধারণা। দুই. দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স; নীতি। অনেকে বলতে পারেন, দূর্নীতি কি বন্ধ হয়েছে! দেখুন, এটা দীর্ঘ সময় ধরে এ ভূভাগে চলে আসছে। একদিনে দূর করা অসম্ভব। তাছাড়া, আপনিও যে সৎ, তা ভাবাটাও মুশকিল। মানুষের প্রতি আস্থার পারদ উঠানো অনেক কঠিন। যাহোক, সরকারী সেবা সহজকরণ ও জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছানোর নিমিত্তে সরকার 'আমার গ্রাম, আমার শহর'; ধারণাটা নিয়ে এসেছে। এখন শুধু আপনাকে সেবা গ্রহণ করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে মাত্র। সব দোষ সরকারের না। স্বয়ং, আল্লাহ বলেছেন, 'তোমার এক হাত এগিয়ে যাও, আমি দু'হাত এগিয়ে দেবো।' শূন্যের মূল্য তো তখনই হয়, যখন সে অন্য সংখ্যার পরে বসে। সব ক্ষেত্রগুলো এমনই। কেউই সব করে দেয় না; নিজেকেই সব করা লাগে। অন্যরা সহযোগিতা করে মাত্র।
এখন আলোচনা করবো, যে বিষয়গুলো আপনার জন্য জানা অতীব জরুরি। যেগুলো না জানলে আপনি দাড়িয়ে থেকেই পিছিয়ে পড়বেন।
এক. বাস্তবতার জ্ঞানঃ বাস্তবতার জ্ঞান ছাড়া আপনি কখনোই কোন কাজে সফল হতে পারবেন না। আবেগ থাকবে; এটা স্বাভাবিক! তবে, সেটাও বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োগ করতে হবে। যেটাকে আমরা বলি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। এটি একটি বাস্তব ব্যাপার। বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করে বোঝানো মুশকিল। ক্ষেত্র নিরিখে বোঝা লাগে।
দুই. তথ্য-প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারিক জ্ঞানঃ সত্য কথা বলতে এটার প্রয়োজনীতা বলে বোঝানো যাবে না। সবাই আমরা তথ্য-প্রযুক্তির ঘেরাটোপে বসবাস করছি। প্রতিটা মানুষের তথ্য-প্রযুক্তির তিনটি বিষয় অবশ্যই জানা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, নেট ব্রাউজিং, প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলোর বিষয়ে জানা; অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সময় নষ্ট না করা। সামনের দিনগুলো বাদ দেওয়ার। গ্রহণ করার চেয়ে বাদের বিষয় বেশি চলে আসতে শুরু করেছে।
তিন. অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে মৌলিক জানাশোনাঃ টাকা ছাড়া, সবই ফাঁকা। অর্থনীতির মৌলিক বিষয়ে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া দরকার।
পড়তে হবে, জানতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে সুনিপুণভাবে।
ব্যাংকিং সেবা ছাড়া কোন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু, এ বিষয়ে জেনে-বুঝে সেবা গ্রহণ করা লোক নিতান্তই সামান্য। এ ব্যাপারে বেশির ভাগই অন্যের মুখাপেক্ষী। তাছাড়া, সরকারীভাবে এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং) সেবা চালুর অনুমোদনের পর থেকে এর পরিসর সবার মাঝে বিস্তৃত হয়েছে। সুতরাং, ব্যবহারের পূর্বে জেনে-বুঝে ব্যবহার করা শিখতে হবে।
চার. সফট্ স্কীলঃ এগুলোর সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্ব নেই। কিন্তু, ব্যতিক্রমী মানুষগুলো এগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখে। নিচের লিঙ্ক দুটোতে সফট্ স্কীলের ধারণা দেওয়া আছে।
পাঁচ. প্রয়োজনবোধঃ প্রয়োজন সচেতন মানুষ কখনোই অকাজ করে না। যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনের ব্যাপারে জ্ঞাত; সে কখনো অভাববোধে ভোগে না। অভাববোধ বা অভাবচেতনা মানুষকে অনেক পিছিয়ে দেয়। সুতরাং, প্রয়োজন সচেতন হোন।