সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গরুর হাট ও একটি পর্যবেক্ষণ


গরুর সাথে সখ্যতা শৈশব থেকেই। গরুর হাটে ঘোরাঘুরি করি অনেক ছোট বয়স থেকে। আগেকার দিনে গরুর হাটে দুষ্টুচক্রের আনাগোনা অনেক কম ছিল। প্রতারকচক্রগুলো কম সক্রিয় ছিল। তারা কম সংগঠিত হতে পারতো। কারণ, দশজনের চাপে পড়ে তারা হাপিত্যেশ করতো। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মধ্যস্বত্বভোগী কম ছিল। এখন তারা চক্রাকারে সংগঠিত। আমার বিচরণকৃত ৬ টি হাটের মধ্যে এখন মোটামুটিভাবে দুটো হাট পূর্ণাঙ্গরূপে চলছে। বাকিগুলো পাশ খরচ, দালালের দৌরাত্ব্য আর প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে বন্ধ হওয়ার পথে।

আমাদের এলাকার মধ্যে আমি যে ক'টি গরুর হাটে  গরু কিনতে যায়; তন্মধ্যে, বুধহাটার হাট, আবাদের হাট, পারুলিয়ার হাট, সাতমাইল হাট, পাটকেলঘাটাসহ সর্বশেষ গত বছর যুক্ত হয় খুলনার পাইকগাছার অন্তর্ভুক্ত চাঁদখালীর গরুর হাট। গত ৭ জুন, ২০২০ তারিখে ঐ বাজারে আবারও গরু কিনতে যায়। কিন্তু, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মনে হয়েছে যে এ বাজারও ধ্বংসোন্মুখ। দুটো কারণ। এক. পাশ খরচ বাড়ানো। দুই. মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল-প্রতারকচক্রের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া। বুধহাটার গরুর হাটও প্রায় একই কারণে দ্রুত ধ্বংসোন্মুখ। কিছু হাটে পাশ ঘরের লোক মনিটরিং বসিয়ে, পাশ খরচ কমিয়ে এসব কমিয়ে আনতে অল্প সক্ষম হয়েছে। তবুও, আশাতীত নয়। বাংলাদেশের গরুর হাটগুলো লোভী ও দালাল-প্রতারক চক্র মুক্ত হোক; গ্রামীণ গরীব-দুঃখী মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম হোক; এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।

এবার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। গরুর হাটে গেলে প্রায়ই এই বিষয়টির মুখোমুখি হতে হয়। যারা অনভিজ্ঞ তাদের খুবই কাজে লাগবে। দুষ্টুচক্র সব সময়ই এখানে সংগঠিত। তাদের অন্যায় হলেও কেউই আপনার পক্ষে কখনোই আসবে না। এদের সাধারণত পাপবোধ, পাপচেতনা নেই। লেবাসধারী শয়তানও হরহামেশা বিচরণ করে এখানে। পাশ না করে কখনোই গরু কিনবেন না। টাকা লেনদেন করবেন গরু পাশ ঘরে নিয়ে পাশ করিয়ে গরু হাতে পাওয়ার পর। তানাহলে, টাকা নিয়ে একজন চলে যাবে; অন্যজন বলবে গরু আমার, ওর না। তখন বোকা-মানুষ খালি হাত-পা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। তাদের অত্যাচারে পাগলও হয়ে যেতে পারেন। সেজন্য আগেই নির্দিষ্ট করে জেনে নিবেন, কার গরু এবং সে নিজেই পাশ করিয়ে গরু আপনার হাতে তুলে দেবে কিনা। না হলে ঐ গরু কেনার দরকার নেই। হাটে অনেক বিকল্প রয়েছে। একা হলে গরুর হাটে একটু সমস্যা হয়। পারলে দু'তিনজন মিলে গেলে ভালো হয়। দালাল ও দুষ্টুচক্র সমঝদার লোক বেশি দেখলে একটু কম কাছে আসে।

কয়েকবার এ রকম হয়েছে, গরু দর-কষাকষির পর পরই বলে টাকা দাও। আমরা বলি পাশ ঘরে গরু নিয়ে চলেন। তখন তারা বলে কেনো আমাদের বিশ্বাস হয় না। আমরা বলি, গরু বেচবেন পাশ করিয়ে গরু দেবেন, টাকা নেবেন, এখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কি আছে। তখন তারা সটান বলে দেয় গরু বেচবো না। আমরা সটান বলি আমরাও গরু নেবো না। এরা কিন্তু সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

গরুর হাটগুলো লোভী ও দালাল-প্রতারক চক্র মুক্ত হোক; গ্রামীণ গরীব-দুঃখী মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম হোক; এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।