সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাঁচতে হলে, জানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি


এদেশে পণ্ডিত বা সমালোচকের অভাব নেই; শুধু অভাব ব্যক্তিগত সচেতন মানুষের! বাঁচতে হলে, সুস্থ থাকা যেমন জরুরি, তেমনি সুস্থ থাকতে খাবার প্রয়োজন! আর এ সব কিছুর মূলে রয়েছে অর্থনীতির চাকা সচল থাকা। ঘরে বসে থাকলে তো আর অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে না! বের হতেই হবে! আজ হোক আর কাল হোক। তাছাড়া, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে অর্থ প্রয়োজন হয়, সেটা তো সবার সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই আসে। সরকারের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সক্ষমতারও তো একটা ব্যাপার জড়িত আছে। কতদিন চলতে পারে, ভেবে দেখুন তো! পরিবারের কাছে সাত-রাজার ধন হলেও, জন্ম-মৃত্যু, জীবন এমনকি মহামারিতে সব সরকারের কাছে আপনি সংখ্যা বৈ কিছুই হবেন না। কোন সরকার ভালো, কোন সরকার খারাপ; এটা না ভেবে, সংখ্যা হয়ে না মরে, বাঁচার ও বাঁচানোর শঙ্কায় মত্ত থাকুন। মহামারিমুক্ত পৃথিবী গড়তে, দেশ ও দশের কল্যাণে সরকারকে সহযোগিতা করুন; স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। তার জন্য, ব্যক্তিগত সতর্কতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

যাদের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য না খুঁজে বা এখানে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে মূলধারার গণমাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার দেয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে ব্যক্তিগত জীবনের বর্তমান নিয়ন্ত্রকনীতি নির্ধারণ করুন।

সর্বোপরি, করোনায় সার্বিক সচেতনতার গুরুত্ব বেশি। এজন্য আপনার আশেপাশের কম জানা মানুষদের বা যাদের জানার সুযোগ নেই তাদেরকে সুন্দর আচারণের মাধ্যমে বুঝিয়ে বলুন। এমনভাবে বলার চেষ্টা করুন, যেন তারা বুঝতে পারে। অন্যের উপর রাগ করে বা ভাব দেখিয়ে লাভ হয় না। বরং, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের ও অন্যের ক্ষতি হয় তাতে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায়, কার মাধ্যমে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন, তা আপনার অজানা। এজন্য নিজের জ্ঞান নিয়ে ফুটানি মেরে কোন লাভ হবে না। কাউকে গালি দিয়েও এর দ্রুত কোন সুরাহাও হবে না। হতে হবে, করতে হবে, ব্যক্তিগত ও সার্বিক সচেতন।

ধান্দাবাজ লোকের কোন কাল লাগে না। তারা সব সময়ই ওত পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই জাপটে ধরে। বর্তমান সময় মানুষকে ঠকানো বা মগজ ধোলাই করে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠী স্বার্থ হাসিলের মোক্ষম হাতির হলো সামাজিক মাধ্যম। বুঝে ওঠার আগেই এদের কবলে পড়লে সর্বস্বান্ত করে ছেড়ে দেবে; এমনকি জীবনহানিকর পরিস্থিতিরও শিকার হতে পারেন। সাধু সাবধান। বেশি পাণ্ডিত্য ফলানোর দরকার নেই। সচেতন হোন সর্ব বিষয়ে। কুপণ্ডিতের চেয়ে এখন সচেতন মানুষের প্রয়োজন বেশি।

প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রোফাইলগুলো See First করে রাখুন। নিউজফিড স্ক্রোলিংয়ের ঝামেলাটা হচ্ছে, এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। একবার ঢুকলে বেলা গড়িয়ে গোধুলি চলে আসে, টের পাওয়া যায় না। লাইক-কমেন্ট-শেয়ারের বেড়াজালে আটকে গেলে নিজের সৃজনশীলতার মৃত্যু ঘটবে; পাশাপাশি আচরণগত বৈকল্যও দেখা দিতে পারে। যা পরিবার ও প্রতিবেশে আপনাকে বোঝা করে তুলবে। সাবধান!

কোন বিষয়ে সন্দেহ হলে ফ্যাক্ট চেক দিবেন। তারপর অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন। গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ হলে নিজ দায়িত্বে রিপোর্ট করবেন। এখন হাওয়া থেকে পাওয়া তথ্য মিলবে অনেক; এমনকি এগুলোর পক্ষে কতিপয় মানুষের বিশ্বাসও জন্মাবে। তথ্যের বিকৃতিও ঘটবে অহরহ। টোটকা ও কুচিকিৎসার ফর্দও মিলবে হর-হামেশা; যেগুলোর কার্যকারিতা শূণ্য শতাংশ ও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক বঁটে।

তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার হোক কল্যাণে। মানুষ ও পৃথিবী হোক মহামারিমুক্ত। আশা করি, একদিন সকাল বেলা উঠে শুনবো করোনায় আক্রান্ত শেষ ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের বাহবা নিয়ে বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে সুখ বিনিময় করছেন।

পৃথিবী ও বিদ্যা-বুদ্ধিধর সচেতন মানুষের জন্য নিরন্তর শুভ কামনা ও ভালোবাসা!