আরো একটা বিষয়, যে সব এলাকায় করোনা রোগী ধরা পড়েনি, শুধু ঐ এলাকার অভ্যন্তরীণ চলাচল উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এখানে অবশ্য একটা ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া জরুরি, যদি কোন ব্যক্তি অন্য স্থান হতে কোন এলাকায় প্রবেশ করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে বাধ্যতামূলক ২১ দিনের জন্য একঘরে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ঐ এলাকার লোকের স্ব-দায়িত্বে এগুলো করতে হবে। তারা যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তাহলে শাস্তি স্বরূপ ঐ এলাকার সাথে অন্য এলাকার মানুষ স্ব-দায়িত্বে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখবে। যদিও এখানে এটা কল্পনা বিলাস ছাড়া কিছুই না। তবুও, স্বপ্নবাজ মানুষ! তাই এরকম স্বপ্ন দেখি। তবে, সবচেয়ে ভালো হয়। এক জেলার সাথে আরেক জেলার মানুষের কোন রকম শিথিলায়ন ছাড়া গমনাগমন বন্ধ রাখা। এটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে। এমনকি এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া চলবে না। প্রয়োজনে জনগণ তাদের সম্মিলিত ক্ষমতার প্রয়োগও করতে পারে। মহামারিকালে মানুষ বাঁচাতে মানবতা খেদাও আন্দোলনও হতে পারে; অসম্ভব কিছু না।
প্রয়োজনে চারশো, পাঁচশো বছর আগের মত স্থানীয়ভাবে সেল্ফ সাফিশিয়েন্ট ভিলেজ সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে; জেলাভিত্তিক। অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনগুলো স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলতে হবে; যতদূর সম্ভব হয়। বাকিটুকু সীমিত পরিসরের পণ্য পরিবহন বাহনে করে আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটা হতে হবে প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। তবে, গণপরিবহন আরো কিছুদিন বন্ধ রাখা দরকার বলে মনে করি।
জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া সব সময়ই বের হওয়া উচিত না। এছাড়া, যে সকল কাজ ঘরে বসে করা সম্ভব, সেগুলোর অফিস সিস্টেম তুলে দিতে হবে চিরতরে। কারণ, অফিস, বাসা যাতায়াতের কারণে মোটরগাড়ির দ্বারা প্রচুর কার্বন নির্সরণ বেড়ে যায়। এটার দ্বারা পৃথিবী বিষাক্ত হয়ে যায়। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন এক পৃথিবীর সম্মূখীন হতে যাচ্ছি সবাই। তবে, বেশিরভাগ মানুষ নতুন পৃথিবীর সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত নয়।
বহু প্রাণের পৃথিবীটা কত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। শুধু এখানে মানবজাতি নামক বিধ্বংসী একটি জাতির জন্য নিঃশেষ হতে চলেছে। বিষাক্ত ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর কলুষিত পেশি শক্তির বাহুডোরে আটকে যাচ্ছে সুন্দর ধরিত্রী জননী। অন্যান্য জাতির প্রাণীকুলের চিন্তা নামক অস্ত্র নেই; তাই তারা কোন জিনিসের এত অপব্যবহার করে না; মানুষ যতটা করে।
করোনা পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্ব-ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিটি বিশ্ব নাগরিকের এখন থেকে সচেতন হওয়া জরুরি।
করোনায় অর্থনীতির গতি অতি মাত্রায় শ্লথ ও সঙ্কুচিত করে ফেলেছে। যার প্রভাব প্রতিটি নাগরিকের উপর পড়বে। অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিবে। এমনকি মহামন্দাও দেখা দিতে পারে। কাঁচা মালের যোগান কমে যাবে। চাহিদা ও বাজার ব্যবস্থা সঙ্কুচিত হবে। বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে। অভুক্ত মানুষও বেড়ে যাবে। খাদ্যের সুষম বন্টন অসম্ভব হয়ে পড়বে। বৈষম্য বেড়ে যাবে। খারাপ মানুষের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে। জীবন-যাত্রার শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। যদি অর্থনীতিকে বাঁচানো না যায়। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে যেতে পারে।