সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নতুন করে জেগে ওঠার প্রচেষ্টায়


কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজনে। এটাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে কিছু বিষয়। তন্মধ্যে, অভিজ্ঞতা, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ইত্যাদি। আমি কবিতা লেখার চেষ্টা করি। এর পাশাপাশি টুকটাক অন্যান্য লেখালেখির চর্চাও করি। সাধারনত লেখালেখির সাথে কিছু ভাইরাল ব্যাপার জড়িত। যেকারণে ভালোবাসার সাথে আঘাতের পরিমাণও কম না। বরঞ্চ, বেশিই বঁটে। এখানে সবচেয়ে যে বিষয়টা কাজ করে সেটা হচ্ছে, মানুষ তার মতের বিপরীত যেকোন কিছু সহজে দেখতে অভ্যস্ত হতে পারে না। এটাও চর্চার ব্যাপার। সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা নামক কিছু সভ্য ব্যাপার আছে এটা সবার জানা নেই। বই পড়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ সব সময়ই আছে। এখানেও অনেকে আঘাত করেছে। অযথা বলে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। যদিও প্রযুক্তির কল্যাণে এগুলো এখন আর শুনতে হয় না। লেখালেখির প্রতি আগ্রহ জন্মে যখন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের খোলোস থেকে বের হয়ে নতুন কিছু পড়তে শুরু করি তখন থেকে।

আমার একজন খুব কাছের মুরুব্বি ছিলেন। উনি সুফী ঘরানার মানুষ ছিলেন। আমাকে সব সময় বলতেন, সামনে যা পাওয়া যাবে সব পড়ে ফেলতে হবে। এটার অর্থের গভীরতা অনেক; প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে উনার কথার ব্যাখ্যা দাড়িয়েছিল এরকম বই তো পড়তে হবে, সে সাথে মানুষসহ পারলে পশু-প্রাণীও পড়ে ফেলতে হবে। একবার পড়তে পারলে, ব্যস্। নিজেকে ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলতে হবে। তাই সময়কে সঙ্গী করে, এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি। মুরুব্বির নসিহত এখনো আমি মেনে চলি। মানুষ হিসেবে আমিও ভুলের উর্ধ্বে নই। তবুও কথাগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই প্রকাশের অন্তিম বাণী দিয়েছি।

লেখালেখির নেশা হয়তোবা ছাড়তে পারবো না। তবে, সেটা অবশ্যই সামাজিক মাধ্যমকে আর বেছে নিচ্ছি না; প্রকাশ মাধ্যম হিসেবে। কবিতার ক্ষেত্রে দু'একটা ব্যতিক্রম হতে পারে। তবে, অন্যান্য লেখার ক্ষেত্রে নিতান্তই। যাদের আমার ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে তারা rakhal24.blogspot.com এ খুঁজে পাবেন আমাকে আর আমার লেখাকে। কারণ, সামাজিক মাধ্যমগুলো লেখালেখির আশির্বাদ হয়ে এসেছিল। কিন্তু, সেটার দখল নিয়েছে মুনাফাখোর আর কতৃত্ববাদীরা। মুনাফার লোভ আর সস্তা জনপ্রিয়তাই বেশি চলে সেখানে; জ্ঞান ও বোধের চর্চা হয় না বললেই চলে। নূন্যতম সম্মানবোধও তাদের মধ্যে নেই। তাই ভিন্নমতের মানুষগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, নিচ্ছে সেখান থেকে। এ জন্য পৃথিবীর সংকটকালীন মূহুর্তে সমাধানের পথগুলো বেঁকে যাচ্ছে। সোজা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, ভিন্নমতের হাত ধরে পৃথিবী সভ্য হতে শুরু করে। সে পথ আজ রুদ্ধ হতে শুরু করেছে। না জানি, জননী ধরিত্রী ও তার সন্তানদের কপালে কি আছে!