আর যদি ব্যাঙের আধুলি হয়। তাহলে কিন্তু খুশিতে, আনন্দে, ঠ্যালায় এমন ফাটলে আধুলি আটকে যাবে যে ছোট হাতে তখন আর ঠাহর পাওয়া যাবে না। রঙের দুনিয়ায় রঙিন চশমা খুলে গেলে তখন সব পাণ্ডুবর্ণ হয়ে যাবে। হা-হুতাশে হুতাশনে বক্ষস্হল অঙ্গার হবে।
আরো একটা ব্যাপার হচ্ছে, পাত্র ফুটো করে তার মধ্যে তেল ঢাললে তা তথায় দাড়ায় না। এ বদ অভ্যাস এখনই ত্যাগ করা উচিত। কারণ, সময় গেলে সাধন হবে না। অপচয়ে আফ্সোস হবে।
আপনি হারিয়ে যাবেন। যদি সময়কে সঙ্গে করে না নিয়ে হাটতে শিখেন। অবস্তুগত চৈতন্যের জাগরণই সময়কে স্বরণ করিয়ে দেয়। চৈতন্যহীন মানুষ বস্তুজাগতিক হিংস্রতায় মত্ত। যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষে ধ্বংসশীল।
যদি সম্মান দাবি করেন; তবে, অবশ্যই সম্মান করুন বা করতে শিখুন। আমরা বলি মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে বিনিময় প্রথা। পদ্ধতিগত পরিবর্তন ঘটলেও বিনিময় প্রথা টিকে আছে স্বমহিমায়। এ জগতে কেউই অযথা ভালোবাসে না। তার মধ্যে কোন না কোনভাবে বিনিময় শব্দটা লুকিয়ে থাকে। প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য। তবে আমরা যদি এটাকে সময়ের সঙ্গে ভেঙে নতুন করে সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে এগিয়ে না নিতে পারি, তবে তা সবার জন্যই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ছাড়া নিজের ব্যক্তিত্ব খুব বেশিদিন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। মানুষ যা বোঝার দরকার তা বুঝেই কিন্তু আপনার সঙ্গে বিনিময় করবে। সুতরাং, পরিমান মত ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। কারণ, বুদ্ধি বেশি হলে তা উপচে পড়ে স্বসম্মানের পরিবেশ নষ্ট করে। অতি দর্পে হত লংকা।
মানুষ একা চলতে পারে না। একে-অন্যের পারস্পরিক সহযোগিতা, বিনিময় বেঁচে থাকার অন্যতম অনুষঙ্গ; তা একাধিপত্য বিস্তার করেছে মানব জীবনে। অনেক সময় স্বপ্রণোদনায় এ কাজগুলো করতে হয়। একটু খেয়াল করলে বুঝবেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একটি বিষয় খুব দৃঢ়ভাবে শেখালো। তা হচ্ছে, ব্যক্তির দায় ও উভয়ের দায় তার সাথে দেশ ও দশের দায় মিলেমিশে একাকার। একঘরে যে একা ভালো থাকা যায় না, সুস্থ মস্তিষ্কের প্রতিটি মানুষ বুঝেছেন।
তবে কথা হচ্ছে, আস্থা খুব সস্তা না। এটা অনেক চড়া দামে কিনতে হয়। কেউ যদি এটাতে জীবনের সেরাটা বিনিয়োগ করে এবং ধরে রাখার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে সে কখনো জগৎ থেকে হারাবে না। তার অবস্তুগত উপস্থিতি হবে চিরন্তন। অবস্তুগত বিষয়ের ক্রমিক অলৌকিক শক্তি আছে। এটার স্বাদ যে একবার পেয়েছে, সে বাঘের নরমাংসের স্বাদ পাওয়ার মত হন্যে হয়ে যায়।
তবে এটা খারাপ না। বেশি খেলে বদ হজম হয়। বেশি কাজ করলে শরীর খারাপ করে। বেশি কথা বললে ভুলের আশংকাও বেশি থাকে। এরকম আরো অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু, একমাত্র বেশি পড়লে, জানলে, বুঝলে আপনি তত সুজ্ঞান ও সুবুদ্ধির অধিকারী হবেন। আমাদের জানার পরিধি যত কম, আমাদের সন্দেহ প্রবনতা তত বেশি। আপনার জানার পরিধি যত বেশি হবে, আপনার কাছে যেকোন বিষয় স্বচ্ছ কাঁচের মত দেখাবে। জানার পরিধি যত কম, ততই ভুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
একটি গাভী কতটুকু দুধ দিবে তা নির্ভর করে তার খাদ্য-ব্যবস্থাপনা ও আবাসন ব্যবস্থাপনার উপর। ঠিক তেমনি আপনি নিজেকে কতটুকু উপস্থাপন করতে পারবেন তা নির্ভর করে আপনার পঠন-পাঠন, উপলব্ধি ও ভাবনার নিয়ন্ত্রন নেয়া পরিবেশের উপর। আবার কোনকিছুর নির্দিষ্ট সীমার উর্ধ্বে কিছু পেতে হলে সঠিক ব্যবস্থাপনায় ক্রম বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প থাকে না।
এটা ঠিক যে সামনের দিনগুলোতে সহযোগিতা ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে। তবে, তার জন্য ঐ সেরা বিনিয়োগ আস্থাই হবে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয়। হয়তোবা, পারিভাষিক পরিবর্তন ঘটলেও আভিধানিক পরিবর্তন ঘটবে না কখনো। আস্থা বিষয়টি বস্তুগত জগৎ থেকে অবস্তুগত জগতে প্রবেশ করে। এজন্য এটির একদিনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া অসম্ভব। অনেকটা সিড়ির ধাপের মত। একবার ভেঙে গেলে জোড়া লাগে না। একই অবকাঠামোতে নতুন করে তৈরি করাও অনেক কঠিন। হলেও আগের মত হয় না; আংশিক হয়। এককথায় সৌন্দর্য লোপ পেয়ে শ্রীহীন রূপ ধারণ করে।
তাছাড়া, আগের অতিন্দ্রিয় সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কাঠামো ভেঙে গেছে। নতুন ধরনের কমিউনিটি অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থভিত্তিক জনসমাজ) গড়ে উঠছে। এটার নিরাপত্তা বলয় কেমন হবে তা একটি বড় প্রশ্ন। তবে, এখানে অতিন্দ্রিয়ের স্থলে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বহুবেগে অবস্থান করছে। দুঃখের ব্যাপার, প্রায় সমস্ত লোকই এ ধরনের অবস্তুগত বিষয়গুলোতে অজ্ঞ। যা কমিউনিটি অব ইন্টারেস্টের যথার্থ নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। যদিও প্রযুক্তি নির্ভর অনেক নিরাপত্তা পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। তবুও তা পর্যাপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
অবশ্য মানবিক মিথস্ক্রিয়ার সাথে ইন্টারেস্ট (স্বার্থ) ব্যাপারটি অনেকটাই শিথিল। তবে, কমিউনিটি অব ইন্টারেস্টের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে পারলে তা হবে নতুন সময়ের অভিনব ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। মানবিক মিথস্ক্রিয়ার ইতিহাসে যুগান্তকারী আবিষ্কার।