সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভেঙ্গে গড়াঃ কিছু বাস্তবতা



পাথর বা কাঠ কেটে যখন একজন শিল্পী সুন্দর একটি ভাস্কর্য তৈরি করেন; তা কতইনা সুন্দর দেখায়! কিন্তু, শিল্পী মাত্রই জানেন পাথর খোদাই করে একটি শিল্প তৈরি করা কতটা কষ্টসাধ্য। শিল্প তৈরির আগে পাথরটি নিছক পাথর। তার কোন শিল্পমূল্য থাকে না।

সমাজটাও এখন নিছক পাথরের মত হয়ে রয়েছে। তাকে ছোট ছোট আঘাতে শিল্পের রূপ দেয়ার সময় এসে গেছে। কিন্তু, নতুন বিজ্ঞ শিল্পীর বড়ই আকাল। সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেয়ার জন্য একজন মহারথীর খুব খুবই দরকার।

যিনি ভালোবাসা মিশ্রিত দ্রুতগতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঘাতে নিছক পাথরটাকে ছেঁটে একটি সুন্দর শিল্প উপহার দিবেন। আশাবাদী মানুষ হিসেবে বলতে পারি খুব দ্রুত তার আগমন ঘটবে।

যুগে যুগে এমন অনেক মহারথীর আগমন ঘটেছে। কিন্তু, সমস্যাটা হচ্ছে, তার অনুসারীগণ তার  নির্দেশিত পথ থেকে বিচ্যূত হয়ে শতধা ভাগে বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের স্বার্থবাদী মত-পার্থক্যের কারণে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুবা সময়ের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে সে মত-পথ প্রকৃতিগত কারণে বিদায় নিয়েছে। এখনও সে ধারা চলমান। একটু খেয়াল করলে বুঝবেন।

এমন একটি পদ্ধতিগত সমাচার বাহকের খুব খুবই দরকার, যিনি শুধু অনুসারী নয়, মানুষ তৈরি করার রসায়ন দিবেন।

সমাচার বাহকের খুব বেশি দরকার হতো না, মানুষ যদি স্থানীয় উপকরণের ব্যবহার জানতো। এখনকার মানুষ হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে। চতুর্দিকে ভালো কথার ছড়াছড়ি। শুধু কেউ মেনে চলে না। ভালো কথা বলা এবং সেটা মেনে না চলা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে।

জ্ঞানদান প্রবণ লোকের অভাব নেই। কিন্তু, জ্ঞানী-কর্মীর বড়ই অভাব। বিষয়টা এরকম, আমি খারাপ, এটা বিষয় না; তুমি ভালো হও! বড়ই পরিতাপের বিষয়। আরো সমস্যা হচ্ছে, আমার উপর তুমি কতৃত্ব করতে পারো না। কিন্তু, আমি তোমার উপর কতৃত্ব করার অধিকার রাখি।

প্রশ্ন উত্থাপন করলে উত্তর আসে উমুক-তুমুক গ্রন্থ এ অধিকার দিয়েছে। আমি বলি, তাহলে আমিও তো অধিকার রাখি। তখন আবারও ব্যক্তিপক্ষের অন্যকোন নতুন গ্রন্থবাণী এসে হাজির হয়।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টাটাও বেড়ে গেছে। তারা ভণ্ডামী ঢাকতে লেফাফা দুরস্ত। সাধারন মানুষকে ঘোল খাওয়াতে পারলে ভণ্ডদের বৈষয়িক লাভটা বেশি হয়। অলৌকিক, কাল্পনিক প্রলোভন দেখিয়ে সাধারন মানুষকে তারা জিম্মি করে ব্যক্তি স্বার্থ, গোষ্ঠী স্বার্থ হাসিল করে।

গোষ্ঠী ভিত্তিক জীবনাচারের কারণে অগোছালো সাংসারিক মানুষকে কাল্পনিক ভয়-ভীতি আর অলৌকিক প্রলোভন দেখিয়ে ভ্রান্ত জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে তারা খুবই দক্ষতা দেখায়। দিনশেষে কোমল-কম্বল গায়ে দিয়ে তারা হয় নেতা, আর বুবুক্ষু নয়নে সাধারন সাংসারিক মানুষ শুয়ে থাকে গায়ে দিয়ে ছেড়া কাঁথা।

সাধারনের বোধ-শক্তি শূন্য করে ফেলার কাজ আগেই করে ফেলে তারা। শূন্য মস্তিষ্কে শুভঙ্করের ফাঁকি বোঝার ক্ষমতা সাধারন সাংসারিক মানুষের অবশিষ্ট রাখে না তারা।

কথা আরো আছে, যে ছেলে-মেয়ে বলছে প্রেম করা খারাপ, খোজ নিয়ে জানা যাচ্ছে ঐ ছেলে-মেয়ে ৪ বা ৫ টা প্রেম করে। সমস্যাটা হচ্ছে, ভালো-খারাপ দুটোই একসাথে মিশে বিটকেল। কথায় ভালো। কর্মে অষ্টরম্ভা। আপনি খুঁজে দেখুন, প্রেম খারাপ ইত্যকার কথা বলা লোক ঢের। আবার তারাই প্রেম করার জন্য মরিয়া; এমনকি বিবাহিত অবৈধ প্রেমিক পুরুষ নেহাত কম নয়। শেষ পর্যন্ত পেরে না উঠলে আঙুর ফল টক হয়ে যায়। কেন ভাই, দুই নৌকায় পা দিয়ে নিজেকে ও নৌকা দুটোকে কেন ডুবাচ্ছো? বিবেচনা ছাড়া, সব কাজে সব্যসাচী ভাব নিয়ে চললে জগাখিচুড়ী অবস্থা হয়। একটাকে ছেড়ে তিনটাকে বাঁচাও।

সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার ঘটে তখন, অন্যের বউ চোর যখন ব্যভিচারের ব্যাপারে সচেতন করে। প্রেমিক পুরুষ যখন প্রেমকে ব্যভিচারের সমতুল্য আখ্যা দেয়। সরকারী চাকরিজীবী বা প্রত্যাশী যখন সরকারকে গালি দেয়। আরো হাসি পায় যখন গোপনে পরস্ত্রীর ঘর-প্রেমে আসক্ত ব্যক্তি ধর্মালয়ের নেতা হয়ে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য দেয়। নারীকে খারাপ বলা লোকগুলোর গণিকালয়ে যাত্রা বেশি। দুর্ষ্কর্মের ব্যাপারে সচেতন করতে গেলে নিজের পক্ষে সাফাই তৈরির উপাদানও যেন প্রস্তুত থাকে সব সময়। তাই বলে কি তারা ভালো কাজ করে। মোটেও নয়।

মূর্খতাকে সংজ্ঞা দিয়ে বাঁধা যায় না। তবে, মূর্খতার পরিচায়ক অনেকগুলো আচরণগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেগুলো দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন।

চিন্তায় আঘাত ছাড়া ত্যাঁদড়, মূর্খ লোক সুস্থ আচরণে অভ্যস্ত হয় না। তবে আমি চিন্তিত একটি বিষয় নিয়ে, চোরকে চোর বললে সে অপমানিত হয়, ক্ষেপে যায়, অসভ্যতা করে। এ বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাগ্রস্ত। অনেক সময় এমন হয়ে যায়, মা তোর কুত্তা সামলা; আমার ভিক্ষা লাগবে না। ভাবছি, এ সব বিষয় নিয়ে বলা, লেখা বাদ দেবো। কি বলেন আপনারা?

ভালো না লাগলে সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করুন নতুবা সরাসরি এড়িয়ে যাবেন। আপনার কোন কিছুতে আঘাত লাগলে কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

আসুন ভালো হয়ে যায়। কথা ও কর্মে মিল রাখার চেষ্টা করি। ভণ্ডামি বাদ দিই।