প্রথমত, ভাইরাসটির ব্যাপারে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। কাজটা যার যার অবস্থান থেকে করতে হবে। আমি করব না, অন্যরা করুক; তাতেই আমার হবে। এ ধরনের মানসিকতা পোষণের দিন শেষ। তবে, সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন না করলে হীতে-বিপরীত হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমের যুগে বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মিথ্যা তথ্য ও গুজবের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করা। একটি বিশেষ শ্রেণীর বিকৃতমনা মানুষ এটা করে থাকে; বিশেষ ফায়দা হাসিলের জন্য। তাছাড়া, গুজব খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে; না বুঝে শেয়ার দেয়ার কারণে।
যাচাই-বাছাই না করে সামাজিক মাধ্যমের কোন তথ্যই শেয়ার দেওয়াটা আইনত অপরাধ বঁটে।
একই সাথে বলব, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই নির্ভরযোগ্য। কারণ, তাদের দায়বদ্ধতা আছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কোন ঘটনা বা তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত বা সন্দেহ হলে অথবা সেটা যদি শেয়ার করতে হয়, তা হলে অবশ্যই ফ্যাক্ট চেক দিয়ে যদি সত্য হয় তবেই শেয়ার দিবেন। তাছাড়া, শেয়ার দিলে সেটা আইনত অপরাধ বলে গণ্য হবে।
মূলধারার গণমাধ্যমে আপাতত দৃষ্টি রাখুন। তাহলে করণীয় নির্ধারণ করতে পারবেন। সামাজিক মাধ্যম থেকে দুটো বিষয় বাদে আর কিছু করার দরকার নেই। এক. কমিউনিটি কমিউনিকেশন। দুই. বিনোদন।
দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে এড়িয়ে চলাটাই এখন এ শত্রু নিধনের একমাত্র পথ হয়ে দাড়িয়েছে। হয়তোবা কিছুদিন পরে এটা সাধারন ফ্লুর (সর্দি-কাশি-জ্বর) মত হয়ে যাবে। প্রতিষেধক বা ঔষধ আবিষ্কারের পরে মানুষের জীবনযাত্রা আবারও আগের মত হয়ে যাবে।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি তথ্য-প্রবাহের মধ্যে বাস করে। শুধু চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আর কিছু দরকার নেই।
এ সময়ে ঘরে থাকাটা খুব খুবই দরকার। তবে, চাইলেই ঘরে থাকা সম্ভব না। বাঙালি ঘরকুনো হলেও এখন সে বহির্মূখী। তাছাড়া, বাঙালির মিশুকতা নিয়েও প্রশংসা রয়েছে। সে হিসেবে ঘরে আটকে থাকাটা প্রায় অসম্ভব।
তাই নিজের কিছু করণীয় নির্ধারণ করে নিন। সে সাথে নিজের ভালো লাগা খুজে নিন। এমন কিছু খুজে নিন, যেটা ঘরে বসেই আপনার মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। এক্ষেত্রে অসম্ভব শব্দটাকে নিজের অভিধান থেকে তুলে দিন। খুজে বের করুন আপনার ঘরোয়া ভালো লাগাগুলোকে। আমি এগুলোর নাম দিয়েছি গুপ্ত ভালো লাগা।
বই পড়ুন, গান শুনুন, সিনেমা দেখুন, বাড়ির অগোছালো কাজগুলো এ সময়ে করে ফেলুন, রান্না ভালো লাগলে চেষ্টা করে দেখুন। যারা স্টুডেন্ট তারা বাবা-মাকে ঘরোয়া কাজে সহায়তা করুন। বাব-মাকে অনুরোধ করছি, এ সময়ে সন্তানের সাথে বন্ধু-সূলভ আচরণ করুন। কারণ, সময়টা সবার জন্যই খারাপ লাগার।
যাদের চাকরি নিয়ে দুঃচিন্তা আছে, তারা সময়টাকে কাজে লাগান। প্রস্তুতিতে ব্যয় করুন। অযথা দুশ্চিন্তা করে মন খারাপ করে হতাশা বাড়িয়ে তাতে কোন লাভ হবে না। বরঞ্চ, ক্ষতিই হবে।
যাদের অফিস ছুটি তারা সম্ভব হলে দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স করতে পারেন। দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কর্ম সম্পর্কিত লেখা বই-পত্র বা আর্টিকেল পড়তে পারেন।
যারা গ্রামে আছেন, তারা মহামারি পরবর্তী সময়ের দূর্ভিক্ষে খাদ্য সংকট নিরসনের জন্য যতদূর পারা যায়, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলাবাদ করুন। এক-টুকরো জমি যেন অনাবাদি না থাকে। শহরে ছাদ কৃষিতেও শখ বাদ দিয়ে খাদ্য জাতীয় ফসলাবাদ করুন।
যাদের বিপদাপন্ন মানুষের সহযোগিতা করার মত সামর্থ্য আছে, তারা মানব জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সহযোগিতা করুন। আপনার সব সম্পদ আপনি ভোগ করতে পারবেন না। তাই আপনার সম্পদের একটি অংশ বিপদগ্রস্ত মানুষকে দিয়ে ধরণীকে রক্ষায় আপনার অংশগ্রহন নিশ্চিত করুন।
যারা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে প্রশান্তি অনুভব করেন। তারা ঘরে বসেই সেটা করুন। সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করুন, যেন সব কিছু দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। দয়া করে, নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না।
আর যাদের কোন কাজ নেই, তারা ঘুমান। যার যা ভালো লাগে ঘরে বসেই সেটা করুন। নিজের ভেতরকার ইতিবাচকতা জাগিয়ে তুলুন; ঘরে বসেই। সর্বোপরি, নিজের ভালো লাগা অন্যের উপর চাপিয়ে দিবেন না। হীতে-বিপরীত হতে পারে। কষ্ট-খারাপ লাগা বেড়ে যেতে পারে।
ঘরে থাকুন, করোনা মুক্ত থাকুন।
ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।