সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্বাসের আবরণে করোনার নেই কোন করুণা; সচেতনতাই শেষ ভরসা


কয়েকদিন আগেও মোদিজির ভারতবর্ষ গোবর স্নান আর গোমূত্র পানের উৎসবে মেতেছিল; করোনা নির্মূল উপলক্ষে। তারপর দাওয়ায় ছিল, কাসা-ঘন্টা বাজানোর। কিছুতে কিছু হলো না। শেষমেশ, ২৪ তারিখ থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষনা করতে হলো; পরিস্থিতির বেগতিক অবস্থা বুঝে। অবৈজ্ঞানিক কর্মের চর্চাটা ওনারা ভালোই পারেন। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির একটি পোস্টের লেখা ছিল এ রকম, 'বিপদে পড়লে বিজ্ঞান, উদ্ধার পেলে ভগবান।'
আমাদের দেশের কতিপয় নালায়েক লোকজন গণজমায়েত করে করোনা নিধনের জন্য। যেখানে বারবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ গবেষণামূলক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ বারবার বলছে গণজমায়েত এড়াতে। সে নির্দেশিকার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন তারা। মসজিদে যেহেতু গণজমায়েত হয়, সেহেতু এটাকেও কৌশলে এড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু, এ রকম টালমাটাল পরিস্থিতিতে কেউ কেউ আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছিলেন। মানুষের বোধের পারদ কতটা নিচে নামলে এমনটা করতে পারে ভেবে দেখুন একবার। কিছু লোকের জন্য গোটা জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর লোকজন মড়কের কবলে পড়বে; এটা কি মেনে নেয়া যায়। শেষ পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন রোগী ছাড়া সবাই মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারবেন। এখানে একটা বিষয় না বললেই নয়, চীনের ৩ জনের ২ জনই নীরবে ভাইরাসটি বহন করেন। প্রথম আলোর সংবাদে দেখলাম। তাহলে ভেবে দেখুন, গোড়ামীর কারনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা কেমন হতে পারে।
এর মধ্যে একশ্রেণীর গুজববাজ লোক গুজব ছড়িয়েছে মুসলমানদের ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে অলরেডি প্রায় সব দেশই লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। কথায় আছে, 'নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না।' গুজব দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্র থেকে জানার চেষ্টা করুন। তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না করে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। হিতে-বিপরীত হতে পারে। ভাইরাস কখনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ, দেশ-কাল দেখে না; সুযোগ পেলে সবাইকে সংক্রমিত করে।
তারা ভেবেও দেখে না কি হতে পারে, কতটুকু ভয়াবহ হতে পারে। সংস্পর্শে গেলে ভাইরাস দ্বারা খুব দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য সামাজিক দূরত্বায়নের ধারণা প্রয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিটি দেশের সরকার। সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিন কোরিয়া চীনের খুব কাছের দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা মড়কের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়; শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার কারণে। সেখানে তারা গণজমায়েত হতে দেয়নি। প্রয়োজনে তারা আইনের কঠোর প্রয়োগ করেছে। কঠোর থেকে কঠোরতর হয়েছে। আর আমরা আইনকে শিথিলায়ন যত করা যায়, করছি। সৌদি আরব সারা দেশ লকডাউন করেছে। সেখানে যেকোন ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ। এভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই লকডাউন করে দিচ্ছে পুরো দেশ। আর আমরা শিথিলায়ন করছি, যতটুকু করার তার মধ্যেও। প্রয়োজনে কঠোর না হলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণানুযায়ী ৯০ হাজার টন চাউল ও ১৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আশা করি, গরীব ও দিন-দুঃখী মানুষের প্রয়োজনে তিনি আরো আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা দিবেন। আরো আশা করি, সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হকদারের নিকট তাদের প্রাপ্য পৌছে দিবেন।