বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির পাঠ নিয়েছেন; তারা এটাকে কখনো অস্বীকার করতে পারেন না। বরঞ্চ, এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচ্য প্রায়োগিক বিষয় বলে লেখালেখি ও আলোচনা করে থাকেন। ভারত আমাদের শুধু প্রতিবেশী দেশ নয়; আমরা ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত। সেটা সব দিক থেকে ধরতে হবে। ভূখণ্ডগতভাবে বলেন আর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নির্ভরশীলতা বলেন। এমনকি বানিজ্যিক কারণেও আমরা তাদের উপর নির্ভরশীল। ধর্মীয় ব্যাপারটাও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ইসলাম ধর্মের বেশিরভাগ সূফী ও ধর্মপ্রচারকের মাজার-শরীফ ভারতে। অনেক আগে থেকেই এগুলো চলে আসছে; শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ নয়; ইতিহাস বলে, ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলার প্রতি ঐতিহাসিকভাবে আলাদা একটা দৃষ্টিভঙ্গি ও টান রয়েছে। পশ্চিম বাংলা বলেন আর বাংলাদেশ বলেন বা অখণ্ড বাংলা; যেটাই বলেন। এখন আপনি হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে বলে উঠবেন নির্ভরশীলতা কমাতে পারে না সরকার? এক্ষেত্রে, আপনার পরিণামদৰ্শিতা ও বিচক্ষনতার অভাবকে আমি দোষ দিতে চাই! রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আবেগ দিয়ে সব কিছু বিবেচনায় নিলে; আবেগের ফল যে ভালো হয় না, এটা বোধ করি আপনিও জানেন। আর জানা না থাকলে বোধে শান দিন। যাহোক, ভারত আমাদের নির্ভরশীলতার সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগায়। তাছাড়া, কিছু না; এবং এটাই স্বাভাবিক! আপনি যেমন ব্যক্তি জীবনে ছোটদের উপর কতৃত্ব ফলানোর চেষ্টা করেন; এ ভয়ে যে তারা যেকোন মূহুর্তে মাথায় চড়তে পারে; ঠিক তেমনটা এক্ষেত্রে ঘটাটা অস্বাভাবিক কিছু না। ক্ষমতা থাকলে মানুষ প্রয়োগ করে; যুগযুগ ধরে এ সত্য বহমান। মাইক্রোফোন আর সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত অসুস্থ চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো খুবই সহজ ও দুষ্পাচ্য। কিন্তু, সঠিকটা বোঝার যে ক্ষমতা, সেটা কাজে লাগানো অনেক কঠিন। বর্তমানে ভারত ধর্মীয় কারণে আমাদেরকে ধর্মীয় বাফার জোন হিসেবে ব্যবহার করছে। এজন্যই বাংলাদেশ সরকার সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে টেকনিক্যালি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। যেহেতু ধর্মীয় ইস্যূ সব সময় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এখানে সব পক্ষই গোষ্ঠী স্বার্থ ও ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে সেহেতু এটাকে বিবেচনার মাপকাঠিতে সর্বাগ্রে নিতে হয় ও টেকনিক্যালি সামাল দেওয়া ছাড়া সরকারের উপায় থাকে না। আর এখন তো সামাজিক মাধ্যমের যুগ। ভারত তার অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় রাজনীতি বাস্তবায়নের জন্য বারবার বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের উস্কে দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটা অপচেষ্টা বলা যায়। দেশের কতিপয় মাথামোটা লোক এগুলো না বুঝেই ভারত বিরোধীতার নামে, পরোক্ষভাবে ভারতের কাজটাই করে দিচ্ছে। এরা কুলাঙ্গার; দেশদ্রোহী বঁটে! প্রতিবেশীর উন্নয়নে ফটকা হাসি দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কে না করে। কিন্তু, ফটকা হাসির আড়ালের যন্ত্রণাটা খুজে দেখুন না। সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। বলদামি করবেন না। মুখকে অস্ত্র বানাবেন না; আল্লাহ যে বিশাল দামি মাথা দিয়েছেন; সে মাথাটাকে কাজে লাগান। ইহকাল ও পরকাল দুটোই হবে সুখময়। আল্লাহ নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন; ধৈর্য ধরতে বলেছেন; তিনি তার প্রতি বিশ্বাস হারাতে নিষেধ করেছেন; আপনি একটুতেই নিরাশ হয়ে তার প্রতি বিশ্বাস ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। আকিদার জটিলতায় আপনিও নরকে যেতে পারেন; সাবধান হোন। দেশকে ভালোবাসুন। আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখুন। তিনি সাহায্যকারী। সরকারকে সহযোগিতা করুন। একে-অন্যের গীবত থেকে বিরত থাকুন; বুহতানের মহাপাপ থেকে দূরে থাকুন। মানুষের হেদায়েতের কথা বলুন; ধ্বংসের কথা বলবেন না। মানুষ না থাকলে, কিছুই থাকবে না; আপনার সব চেতনা মাটি হয়ে যাবে তখন। কিছু আছে জ্ঞানপাপী; তাদের প্রতি অনুরোধ দেশটাকে ভালোবাসুন; দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। বিভ্রান্তি ও বিশৃংখলা ছড়াবেন না; দয়া করে। সঠিকটা না বুঝলে বা বলার মত সৎসাহস না থাকলে, প্রয়োজনে চুপ থাকুন। খড়কুটো-চিন্তা বাদ দিয়ে ভালোবাসতে শিখুন; দেশের মানুষকে! যাদের একটুতেই চেতনার দণ্ড খাড়া হয়ে যায়, তারা দূরে থাকুন। অসভ্যতা করার সময় নাই।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।