করোনা অ্যান্টিভাইরাস মেডিসিন গবেষণাকারী জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানীর ক্ষোভ! রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়া জার্মানীর বায়োলজিকাল রিসার্চার বলেছেন- এক মাসে একজন ফুটবলার কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয় করে। আর একজন রিসার্চার আয় করে মাত্র ১৮০০ ইউরো। এক ছবিতে একজন ম্যুভি স্টার যা আয় করে, সারা জীবন গবেষনায় একজন গবেষক তার একশত ভাগের একভাগও আয় করে না। আর এখন জীবন বাঁচাতে আপনি হন্যে হয়ে ভাইরাসের প্রতিষেধক খুঁজছেন। যান না এখন মেসি, রোনাল্ডো, টমক্রুজের কাছে। ওরাই আপনার কিউর বের করে দিবে। নেসেসিটির চেয়ে লাক্সারী যে পৃথিবীতে বড় হয়ে যায়, জীবন বাঁচানো মানুষদের চেয়ে বিনোদনের মানুষ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, হাসপাতালের চেয়ে স্টেডিয়ামের গুরুত্ব বেড়ে যায়- সেই অসভ্য সমাজে তো মানুষের বেঁচে থাকারই কোনো অধিকার নাই।
দেখলাম, একজন জার্মান গবেষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, গবেষকদের গবেষণায় পর্যাপ্ত বাজেট থাকে না এবং তাদের পারিশ্রমিকও অপর্যাপ্ত। খেলার মাঠে, সিনেমায় স্পন্সর হাজার হাজার থাকলেও, গবেষণার মাঠে স্পন্সর জোটে না একটাও। তিনি ক্ষোভে বলেছেন, যান এখন সেই সকল খেলোয়াড় ও সেলিব্রিটিদের কাছে। তারাই আপনাদের রোগের পথ্য তৈরি করে দিবে। বড়ই কষ্টের কথা!
সময় এসেছে বিজ্ঞানের পূজারী হওয়ার। বিজ্ঞান নিয়ে এবাদাতে মশগুল হওয়ার। তার আলোয় আলোকিত হওয়ার। কত কথা আর মতাদর্শের ছড়াছড়ি। কিন্তু, বিজ্ঞানের গবেষণা ছাড়া বড় বড় কঠিন বিপদ ও রোগ থেকে মুক্তি মেলে না। অযথা সময় নষ্ট না করে, বিজ্ঞান চর্চায় সময় ব্যয় করুন; স্ব-অবস্থান থেকে যতটুকু পারেন। বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করুন। হয়তোবা, আপনার ছোট একটি গবেষণাও মানবজাতির বৃহত্তর কোন কল্যানে আসতে পারে। কত কিছুরই ছড়াছড়ি স্বত্ত্বেও মানুষের জীবন বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ছাড়া একপাও অগ্রসর হতে পারে না। অথচ, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের প্রতি আমরা কৃতঘ্ন। তাদের কৃতিত্বের মাঝে অন্য কিছু ঢুকিয়ে দিই। এতটাই অকৃঘ্ন আমরা! এবং আমরা নিজেরা সেটা করতে পারি না বলে অন্য উপায়ে নিজেদের দাবী করে মিথ্যা আনন্দ অনুভব করি। বিষয়টা বড়ই হাস্যকর এবং একই সাথে দুঃখজনক, তাই না!