চাকরিতে "আবেদন ফি" কমানোর দাবিতে যে আন্দোলন হচ্ছে, সেটার প্রতি নৈতিক সমর্থন জানানো অবশ্যপালনীয় বলে বোধ করছি। কারণ, এ আন্দোলন পুরোপুরিই যৌক্তিক। আমার মত ইয়ত্তাহীন উচ্চশিক্ষিত বেকারদের দুঃখ দেখার কেউ থাকে না। সবাই জয়ী মানবকুলের পূজায় লিপ্ত। ঠিকাছে, মানলাম সিস্টেম লস বা অপচয় জনিত ক্ষতি রোধকল্পে বেকারদের উপর এ খড়গ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই বলে, পরিমাণ যে এত চড়া হবে; সেটা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক। কিছু বাদে, সবক্ষেত্রে দেখা যায় যে বেকার ও তাদের পরিবারের রক্তে চোষন মারা রক্তখেকো একদল লোক সামনে চক্ষু মুদিয়া পেছন থেকে হেচকা টান মারে। এতে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের মরনাপন্ন অবস্থা প্রায়। প্রায় সব পরীক্ষা রাজধানীতে হওয়ার কারণে এখানে থাকাটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বেকারের পক্ষে, দূর্মূল্যের বাজারে থাকা, খাওয়া, আবেদন, যাতায়াত খরচ হিসাব করলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া, সমাজের মস্ত-বোকা মানুষদের কটু কথার ঝাঁজালো শরের আঘাতে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হওয়াটা না হয় বাদই দিলাম! বিস্ময়ে বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া করণীয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। না খেয়ে বেঁচে থাকা অলীক ভাবনা না হলে, সেটাও মনে হয় বেকাররা করত। আবার রাস্তাঘাটে থাকাটা যে কত বড় নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন, সেটা খোলা আকাশের নিচ দিয়ে খালি পকেটে হাঁটলে বোঝা যায়। নিরাপত্তা থাকলে বেকাররা বোধ করি সেটাও করত। বেকারদের পরিবার, সমাজ দেশ বলে কিছু থাকে না। কারণ, তারা এসব যায়গাগুলোতে কোন প্রকার অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারে না। সাপোর্ট পাওয়াটা অপরিহার্য হলেও, পরিবারের সহযোগিতা করাটা সময়ের দাবী হয়ে ওঠে। কত সমস্যা মাথায় নিয়ে চলতে হয় এ শহরে! বাহনে চড়লে রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে বাসের হর্তাকর্তা সবাই অপমান-অপদস্ত করে। মানব-সন্তান হয়েও ভাসমান খড়কুটোর জীবন (জড়-বস্তুর জীবন) মনে হয় তখন; যে যেভাবে পারে অপব্যবহারের অপচেষ্টা চালায়। ঠকানোর ছলচাতুরী তো সর্বত্র ত্রাসে গ্রাস করার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। টাকা বাঁচাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে ছিনতাইকারী ভাইয়ার কথা নতুন করে বলার কিছু আছে বলে মনে হয় না। সবচেয়ে বিরক্তিকর হচ্ছে, অযাচিত উপযাচকীয় পরামর্শকগণের ঘ্যানঘ্যানানি। টাকার সাথে সম্পর্কের পারদ উঠানামা করে। আপন লোক বলে যাদের ভেবে আসা হয়, তারা সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে। নিজেকে তখন হতাশায় ভরা গ্রেনেড মনে হয়। তাদের ভাবনাটা এমন যে কখন না জানি হতাশার গ্রেনেড তার টাকা বিদীর্ণ করে! টাকা ছাড়া, সবই ফাঁকা। এ দুনিয়ায় মানুষ নাই, সবাই টাকার কাঙাল। আজকের বেকারও হয়তোবা আগামী দিনে টাকার কাঙাল হওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাউকে মানুষ হতে দেখলাম না, কাঙালের দুনিয়ায়। দিনশেষে, চাকরি খোঁজাটা কীটপতঙ্গের মত খাবারের সন্ধানে যত্রতত্র যাত্রা মনে হয়েছে। সকল বেকারগণ খেয়ে-পরে, শহরের নিরাপদ কোণে একটু ঠাই নিয়ে চাকরির সন্ধানে রত থেকে চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করুক; সে কামনাই করি।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।