সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

করোনা ভাইরাস ও ক্রান্তিকালে কার কতটুকু দায়


প্রথমত, উৎপত্তিস্থল যেহেতু চীন সেহেতু বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আসলো কিভাবে? সেটা বের করতে হবে। হিসাবটা ধরতে আপনাকে খুব বেশি চতুর হওয়া লাগবে না। আমরা যে সকল প্রবাসী ভাইদের নিয়ে খুবই গর্বিতবোধ করি তাদের মাধ্যমে চীন হয়ে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে ভাইরাসটি প্রবেশ করে। আরো একটি কথা, এক প্রবাসী ভাই বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টিনে এসে রাজকীয় পরিবেশ না পেয়ে ক্ষোভে বলেছে, ফাঁক দিস কান্ট্রি। বড়ই দুঃখজনক কথা; এটা দেখার পর ব্যক্তিগতভাবে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ওনারা বাইরের দেশে থাকলে প্রতিটা আইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। আর দেশে আসলে দেশের আইন-কানুন ও সক্ষমতার কথা ভুলে যান। দেশে আসতে না দিলে প্রথমে গালি-গালাজ, পরে কান্নাকাটি করেন। করোনার ভয়ে উন্নত দেশ ছেড়ে যখন গরীবের দেশে আসছেন তখন একটু ভোগান্তি তো পোহাতে হবে। আপনার জন্য লাস-ভেগাসের অন্দরমহল বানানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাছাড়া, ভাইরাসটি আপনাদের মত গর্বিত প্রবাসী ভাইগণ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। আবার, তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বললে, সকালে উঠে সরকারকে একবেলা গালি দিয়ে দেদার ঘুরে বেড়াচ্ছেন; জনসমাগমস্থলেও হরহামেশা। জানি না, আমাদের জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে! রেমিটেন্স যোদ্ধা বলে গর্বিত হওয়া ভালো; কিন্তু, সেটার দোহায় দিয়ে গলাটিপে হত্যা করতে চাওয়াটা অন্যায়; অপরাধ তো নিঃসন্দেহে! তাছাড়া, ইউরোপে থাকা সবাই কিন্তু রেমিটেন্স যোদ্ধা না। বরঞ্চ, কেউ কেউ এদেশের খেয়ে-পরে বড় হয়ে ইউরোপ-আমেরিকা গিয়ে দেশের দূর্নাম করে। মূল রেমিটেন্সের বৃহৎ অংশটা আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিতান্ত সাধারণ শ্রমিকের হাত ধরে। এটা আমরা জানি। ক্রেডিট নিতে হলেও এখন থেকে ভেবে এবং বুঝিয়ে বলতে হবে। যত্রতত্র হলে হবে না।
দ্বিতীয়ত, সরকারের দায় কতটুকু? এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকতে পারে। কারণ, সরকারের কাছে একেকজনের চাওয়া-পাওয়া একেক রকম। তাছাড়া, বোধের পারদ সবার সমানও না। এজন্য যে যার মত করে ব্যাখ্যা করে। আমার যায়গা থেকে আমি ব্যাখ্যা করছি। দেখুন, সরকারে যারা থাকে তারা মূলত দায়িত্ব পালনকারী মাত্র। সে যে দলই সরকার গঠন করুক। সব দলের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে করছে এবং যার প্রতি করছে; উভয়েরই সমান সমান অংশগ্রহন ছাড়া কোন কাজ পূর্ণতা পায় না। একটু খেয়াল করলে দেখবেন আমাদের দেশে যে কাজই হোক আংশিক অপূর্ণতা থেকে যায়। এটার জন্য আমরা সরকারের দোষ দিয়ে দায় সারি। মূলত, আম-জনতার দায়িত্বের ঘাটতিও সরকারের বহন করা লাগে। আজকে আমাদের দায়িত্ব সচেতন হওয়া। আর সরকারের দায়িত্ব সক্ষমতা অনুযায়ী লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া। কিন্তু, আমরা আবালের মত উদ্ভট আচার-আচরণ শুরু করেছি। সরকারকে যতভাবে গালি-গালাজ করা যায় তা আমরা করছি। সচেতনতা তো দূরে থাক নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকাও দেয়া আছে তা মানছি না। বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছি, অপ্রয়োজনেও। প্রমোদে দোষ নেই; কিন্তু, প্রমাদে আছে বিস্তর। শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে নিজের গা পুড়ে গেলে সরকার তার দায় নেয় না। আমি বহুবার লক্ষ্য করেছি বিষয়টা। অন্ধ না হলে আপনারও জানার কথা। আপনার দায় যেমন আমি নেব না, সে রকম কেউ কারো টা নেয় না।