সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অসারের ব্যর্থ তর্জন-গর্জন, ব্যর্থ অর্জন আনে



তা ঠিক! তবে, সস্তার সাথে বস্তার মিশেলে কর্পোরেট দুনিয়া থেকে শুরু করে বিনোদন, সব মহলের দখল তাদের হাতে। সুতরাং, সবাই খাচ্ছে; স্রোতের তালে তাল মিলিয়ে। আজকে যে প্রতিবাদ করছে, সেও খায়। বুঝেও, না বোঝার ভান করে খায়। তাদের পকেট ভারী করে। অথচ, সামাজিক মাধ্যমে ছিঁচ-কাঁদুনে। না বোঝার তো কিছু নাই। সবই বোধের আওতায়। তাই আমরা দিনশেষে কিছুই বর্জন করতে পারবো না; পেটের দায়। অধুনা মানুষের বেপরোয়া জীবনযাপন প্রণালী; এখন অসহযোগ আন্দোলন অসম্ভব। ভেবে দেখুন, আমরা কি সস্তা পেঁয়াজ কখনো বর্জন করতে পারবো? অসম্ভব! আপনি পারলেও, আরেকজন পকেটের চিন্তায় মত্ত। গরু পাঠালেও দেদার খাবে। সস্তায় পেট বস্তা বানানোর মজা আমজনতার ভালোই করায়ত্তে। যারা বিভিন্ন মাধ্যমে গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে, তারাও খাবে। ঝাঁজালো পেঁয়াজে রন্ধিত গরুর গোস্তের ঘ্রাণ কতিপয়ের লালা-স্রাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চেতনা এখানে ম্রিয়মাণ। তাদের চেতনা আওয়াজে; কাজে নয়। গোস্তের গরম, নীশিথের কায়া নরম, করবে চরম। দেশের কৃষকের পেটে লাথি মেরে পকেটের চিন্তায় বড় সাইজের মালপোয়া পেঁয়াজ কেনেন, আর সামাজিক মাধ্যমে চেতনার দণ্ড খাড়া করেন। আবার বলেন, সরকার বন্ধ করলে তো পারে। বন্ধ করলে, দাম বাড়লে আওয়াজ তোলেন,  সরকার জনবান্ধব নয়। বড়ই পরিতাপের বিষয়। বাঙালি যে কি চায়, সে নিজেও জানে না বোধ করি। বর্জনের ব্যর্থ তর্জন-গর্জন বন্ধ করি; কার্যকর কথাকর্মের ফিরিস্তি সারি।