আমাদের একটা কমন ব্যাপার হচ্ছে, যখন নিজে কোন কাজে হেরে যায় তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে খড়কুটো আকড়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ করা। যদিও বাস্তবে এর কোন ভিত্তি নেই। কাসেম সোলাইমানি একজন শিয়া মুসলিম। যদিও সুন্নি মুসলিমগণ শিয়াদের মুসলিম ভাবতে নারাজ। অনেকের ধারণা, সুন্নি আইএস আমেরিকান মদদপুষ্ট এবং এখানে সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা ছিল। অনেকে কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুকে শিয়া-সুন্নির নিরিখে দেখতে চাচ্ছেন না। তবে, এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ কারণ হিসেবে জড়িয়ে রয়েছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস সম্পর্কে একটু হলেও জানেন, তারা স্বভাবতই বলবেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে উক্ত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যেহেতু সৌদি আরব মার্কিন মিত্রদের অন্যতম সেহেতু ধর্মীয় কারণটা না মানতে চাইলেও অবধারিতভাবে চলে আসে। এটাকে উপজীব্য করে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয় পৃথিবীর অনেক দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদ ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার একটি মোক্ষম কৌশল গ্রহণ করেছে; কতিপয় ক্ষমতালিপ্সু হায়েনার দল। আজকে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের ফলে ইয়েমেন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে বহুকাল ধরে রক্তাক্ত অঞ্চলে পরিনত হয়েছে। আবেগতাড়িত হয়ে অনেক কিছু বলা যায়। বাস্তবে সেটা নাও হতে পারে। কাসেম সোলাইমানি যেহেতু একজন জেনারেল সেহেতু তার হাত রক্তাক্ত হয়ে রয়েছে। সুতরাং, ভালমন্দ বিচার পরে আগে আমাদের সঠিকটা জানতে হবে। সর্বোপরি, খড়কুটো আকড়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না; এটা স্বরণে রাখতে হবে।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।