সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

'মুই কি হনুরে'



“মানুষ যত ওপরে উঠে, তত ভদ্র হতে হয়, হাম্বল হতে হয়। আর আমাদের উল্টো। এটা হয় তখনই, যখন হঠাৎ করে পয়সার জোরে নিচ থেকে অনেক ওপরে যায়, তখন তারা ভাবে ‘মুই কী হনুরে’। সমাজের এই জায়গাটায় একটি আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-অফ করা, আর যারা সৎপথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে, এটা তো হতে পারে না।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
(আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত কয়েকদিন আগে দেশে অসৎ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের পাওয়ার প্র্যাকটিসের ব্যাপারে একটি প্রবাদ প্রতীম মন্তব্য করেছিলেন, ' মুই কি হনুরে'! আসলে আমাদের দেশে যদি কেউ একটু উপরে উঠে যায়; সেটা ফিনান্সিয়াল, একাডেমিক বা সার্ভিস যেটাই হোক! তখন নিজেকে বিশাল কিছু মনে করে। সে যদি কৃষকের ছেলে-মেয়ে হয় বা ফিনান্সিয়ালি আনস্ট্যাবলিশ পরিবারের সন্তান হয় তাহলে সে নিজের পরিচয় গোপন করে চলে বা চেষ্টা করে। নিজের আত্মপরিচয় গোপন করে চলার চেষ্টা হিনম্মন্যতার পরিচয় বহন করে। যেটা আত্মতুষ্টি অর্জনের প্রতিবন্ধক। মানুষের পাঁচটি বহু আকাঙ্খিত বিষয়ের অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে 'আত্মতুষ্টি'! জগতে বহু অর্থশালী, পরাক্রমশালী লোক রয়েছে। কিন্তু, অদৃশ্য কোন অজানা কারণে এদের অধিকাংশেরই আত্মতুষ্টি নেই। যে কারণে এরা মানসিকভাবে প্রায়শই অসুস্থ অনুভব করে। আবার যাদের অর্থবিত্ত নেই; তাদের অনেকেই নিজেকে মহৎ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আত্মতুষ্টি লাভের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। এটাও হিনম্মন্যতার পরিচায়ক। মনে রাখবেন, ফাঁকা কলসি বাজে বেশি! মানুষ বোঝে। অনেকে আছে সমাজে যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদেরকে মানুষ ভাবতে পারেন না। এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের সঙ্গে মিশলে নাকি তাদের স্ট্যাটাস বজায় থাকে না। এটা খুবই মর্মান্তিক একটি ব্যাপার। আপনার যতই একাডেমিক জ্ঞান থাকুক, যতই টাকা থাকুক, যতই পাওয়ার থাকুক না কেন! কোন লাভ হবে না; যদি আপনার ভেতরে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক চেতনা জাগ্রত না করতে পারে এগুলো। তাছাড়া, যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হলে সব ধরনের মানুষের সাথে মেশার সুনিপুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করা লাগে। এখানে বলে রাখি, যার ইতিবাচক যোগাযোগ দক্ষতা যতবেশি, তার ততবেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি মুই কি হনুরে টাইপ হোন তাহলে সবাই আপনাকে অ্যাবিউজ করে চলে যাবে; বুঝতে পারবেন না। দিন শেষে আণ্ডা ফাটা অবস্থা হবে আপনার। বেঁচে থাকার জন্য খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ে না। স্বচ্ছল হলেই চলবে। তার মানে এই নয় যে, আপনাকে স্বচ্ছল হওয়ার জন্য সম্পদের পাহাড় গড়তে হবে। কুক্ষিগত ধন আর নরম মাটির পাহাড় সমান। কখন ধসে পড়বে কেউই বলতে পারে না। সঠিক-সুন্দর জীবিকাই আপনার আত্মতুষ্টি এনে দিবে অনাবিল শান্তির পরশ।)
হনুদের দিন শেষ!
তুমি আমি আমরা,
থাকবো বেশ,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অশেষ
প্রচেষ্টায় হবে,
চিটার-বাটপার হনু
মুক্ত বাংলাদেশ।