সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুসলিম বিশ্ব ও নির্যাতন তত্ত্বের জুজু



অনেকে বলছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া ঠিক হয়নি! যারা বলছে, এরা অমানবিক স্বভাবের লোক! আবার কেউ বলছে, সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ! এরা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত! সব কিছুতে সরকারের দোষ খুঁজে বেড়ায়! নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে এরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়! আবার কেউ বলছে, মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধ করতে! এরা নিতান্তই নির্বোধ! এদের কথা আর কচুর পাতার পানি সমান কথা! আবার কেউ দাবি তুলছে, সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করে রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসিত করতে হবে! এরা কাণ্ডজ্ঞানহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন লোক! আসল যায়গায় কেউ যাচ্ছে না! অনেককে দেখলাম আইসিজের বিচার নিয়ে খুব আশাবাদী হতে! কিন্তু, তারা আইসিজের ক্ষমতা ও এখতিয়ারের ব্যাপারে অজ্ঞ! তাছাড়া, মিয়ানমার তো সব সময়ই সব কিছু এড়িয়ে যায়! এ ব্যাপারে আমার মতে, সকল মুসলিম দেশ একত্রিত হয়ে বিশ্ব মোড়লদের চাপ দিলে মিয়ানমার ঠিকই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হত। এ যায়গায় হতাশই হবেন আপনি। কেননা, মুসলিম বিশ্ব বলতে আপনি যাদেরই বোঝেন না কেন। তারা নিজেরাই মুসলিম নির্যাতনের হর্তাকর্তা। সৌদি আরবের কথা যদি বলি, তারা ইয়েমেনে হাজার হাজার শিশুসহ লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে, করছে। জীবিত মানুষদেরকে মৃতপ্রায় অবস্থায় পতিত করেছে। অনেকে তুরস্ককে মুসলিম বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু, তারাই বহুদিন ধরে কুর্দিদের হত্যা করছে জঙ্গি দমনের নামে। জঙ্গি শব্দের ব্রান্ডিংয়ে তুরস্ক একাই একশ। ইরানের কথা বললে প্রথমে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে। এছাড়া তারা শত ভাগে বিভক্ত। হত্যার রেকর্ডটা নেট ঘেটে দেখুন। আশ্চর্যন্বিত না হয়ে পারবেন না। পাকিস্তান বালুচিস্তান ও খায়বার-পাখতুন খাওয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরীহ স্বাধীনতাকামী মুসলিমদের হত্যা করেছে, করছে। সবচেয়ে লোমহর্ষক কাণ্ডটা ঘটিয়েছিল ১৯৭১ সালে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে। যেটা বাঙালিদের ভেতর মুসলিম ভাই ভাই তত্ত্বকে ভুল প্রমাণিত করে। এছাড়া অপ্রভাবশালী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুসলিম দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ নিয়ে ব্যস্ত। তারা মুসলিমদের নিয়ে ভাববে, এটা একমাত্র বোকারাই ভাবতে পারে। ওআইসি; যেটাকে আমরা মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বলে জানি। কিন্তু, তার ক্ষমতা ও এখতিয়ার শুধু সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে হয়েছে আমার। গাম্বিয়া যদিও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে। তবুও সেটা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (পূর্বতন কনফারেন্সের) প্রেষণে। নিজের আর্থিক সঙ্গতিটা নিতান্তই করুন। তবে, তাদের একটা জিনিস আছে আর তা হচ্ছে আবু বকর তামবাদু। এ মহান ব্যক্তি ইতিহাস গড়লেন। তবে, ভাঙাচোরা ইতিহাস। সময় গেলে বুঝতে পারবেন। এবার আসি, মুসলিম-বিশ্ব বিশ্ব-মোড়লদের উপর কতটুকু চাপ প্রয়োগ করতে পারবে। এখানেও হতাশ হবেন আপনি। প্রথমে বলি সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারি করে। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্বে তারা ব্যস্ত থাকে সব সময়। শিয়া-সুন্নি আধিপত্যের জেরে সৌদি ইরান দ্বন্দ্ব তো একটি অপ্রকাশিত প্রত্যক্ষ সত্য। তুরস্কও এই দ্বন্দ্বের কতিপয় তথাকথিত অংশীদার। তুরস্ক আবার ন্যাটোর সদস্য। বুঝুন ঠ্যালা! মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো সাথেও নাই, পাছেও নাই। এদিকে বিশ্ব মোড়ল রাশিয়া বহুদিন ধরে মুসলিমদের উপর কমিউনিস্ট আধিপত্যবাদের খড়গ চাপিয়ে গত শতাব্দির শেষ দশকে এসে ক্ষান্ত হয়। তাদের আবার বহু মুসলিম মিত্রদেশ রয়েছে। যারা এ মোড়লকে চটিয়ে বিরাগভাজন হতে চাই না। চীন তো আরো একধাপ এগিয়ে। উইঘুর নির্যাতনের ঘটনা তো বিশ্ব মিডিয়া ছাপিয়ে দেশীয় মিডিয়ায় স্থান করে নিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান এক সাথে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পিংপং ডিপ্লমেসির প্লাস সাইন। পাকিস্তান এ ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে সবার উপরে তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক মূল্যবোধের উজ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। এখন বাংলাদেশ চেষ্টা করছে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের। কারণ, বাংলাদেশের কাছের মিত্র ভারত মিয়ানমারেরও শক্তিশালী মিত্র। তারা নিজেদের স্বার্থে এটাকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে চালিয়ে দিচ্ছে। মিত্র হিসেবে চীন, রাশিয়াও একই কাজ করছে। এছাড়া, বর্তমানে ভারতও মুসলিম বিরোধী আইন ও কালা-কানুন প্রণয়নে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক কিছু করেও ফেলেছে। যার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সেখানে অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। আর একশ্রেণীর লোক আছে, যারা নিজেদের ধর্মের রক্ষক বানিয়ে বোমা ফাটায়! খুবই ভয়ঙ্কর একটি ব্যাপার। তাদেরকে আহ্বান জানাই, ভাই মহানবী (সাঃ) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। আপনাদের কর্মটা কি নবীর এ বাণীকে অস্বীকার করে না। এছাড়া, আপনি ইসলাম নিয়ে বিক্ষিপ্ত পড়ালেখা না করে সামগ্রিক একটা স্টাডি করেন। দেখবেন, সব প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে গেছেন। লোকমুখে শোনা ইসলাম আর কিতাবাদি পড়ে জানা ইসলামের ভেতরে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে; সেটা নিজেই বুঝতে পারবেন। মুখের কথা মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে ঘুরিয়েও বলতে পারে। কিন্তু, কিতাবের কথা ভেবে লিখতে হয়। নাহলে, তা মানুষ গ্রহণ করে না, ফেলে দেয়। আসুন, জুজুর ভয়ে ভীত না হয়ে। জুজুর ভয় দেখানো লোকগুলোকে বয়কট করি। বই পড়ে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা জানি। অধর্ম পরিত্যাগ করে মানুষ হই।