গতকালকে রকেটের (মোবাইল ব্যাংকিং) একাউন্ট ইন্যাক্টিভ হয়ে যাওয়ার কারনে রকেটের কাস্টমার কেয়ারে গেছিলাম। সেখানে গিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু সমস্যা চোখে পড়লো। বিষয়টা এ রকম নয় যে কাস্টমার কেয়ারে কিছু হয়েছে। সমস্যাগুলো ব্যক্তি কেন্দ্রিক। যেমন ধরুন, একজন আসছে তার ব্যালেন্সে টাকা ছিল 5200 টাকা। তিনি টাকা তুলেছেন 1000 টাকা। তাহলে তার একাউন্টে টাকা থাকার কথা 4180 টাকা। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে তার একাউন্টটা ইন্যাক্টিভ হয়ে গেছে। পরে একাউন্টটা চালু করে দেখা যাচ্ছে টাকা আছে 3,978.84 টাকা। অর্থাৎ, 200 টাকা কম। এখন উপায়। লোকটার মাথা পুরাই গরম। সেই আকারে ঝাড়তেছে। পরে অফিসার বললেন, জনাব আপনি মাথা ঠাণ্ডা করে একটু ধৈর্য্য ধরে বসুন। আমি সলভ্ করে দিচ্ছি। তো উনি যারপরনাই ফাউল টক করেই যাচ্ছে। কি এক্টা বাজে অবস্থা! এরপর দুটো সমস্যার সলভ্ করার পর, উনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করলেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টা এ রকম দাড়ালো যে উনার ছেলেই মূলত এই একাউন্টের টাকা পয়সা লেনদেন করেন। লোকটি এতকিছু বোঝেন না; তাই। ছেলেটি ক্লাস সিক্সে পড়ে। অফিসার স্টেটমেন্ট দিয়ে বললেন এজেন্টেকে দেখানোর পর আমাকে ফোন দিবেন। আমার কাজটা জটিল হওয়ায় আমাকে যথারীতি বসিয়ে রাখলেন এবং আমি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছিলাম। কিছুক্ষন পর ফোন আসলো। ঐ টাকাটা উনার ছেলে পিকনিক করেছিল। পরে উনি আবার এসে অফিসারকে স্যরি বলে চলে গেলেন।
এখন বলুন, অযথা না জেনে, না বুঝে এভাবে একজন ব্যস্ততম লোককে হয়রানি ও হেনস্তা কেন করলেন তিনি? ও হ্যাঁ উনি কিন্তু ছেলের ব্যাপারে বেশ কনফিডেন্ট ছিলেন। বলছিলেন, উনার ছেলে নাকি বেশ ওবেডিয়েন্ট।
আমার কাজে বিঘ্ন ঘটায় একটু বিরক্ত তো হলামই এবং আমি ওনাকে বললাম, দেখেন মুরুব্বি আপনি ফোন ইউজ করছেন বয়সের শেষ প্রান্তে এসে। একটা সেটিংসের প্রব্লেম হলে বাচ্চা ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে ঠিক করে নেন। আর বর্তমানের ছেলে-মেয়ে মায়ের গর্ভ থেকে সব শিখে আসছে; এমন একটা ভাব। এখন কাউকে না জেনে, না বুঝে, না শুনে কাজ দূরে থাক বিশ্বাসই করা যাবে না। আপনি নিজেও নিজেকে বিশ্বাস করতে পারবেন না এখন; নিজেই কখন বাঁজে অভ্যাসে জড়িয়ে পড়বেন আপনি জানেন না। যাহোক, এজন্য বোধ হয় গুরু সক্রেটিস বলেছিলেন, 'Know Thyself'. অর্থাৎ, 'নিজেকে জানো'।
এখন এমন একটা সময়, প্রযুক্তি ছাড়া প্রযুক্তিহীন লোকগুলোও চলতে পারেন না। আজকের প্রযুক্তি আপডেট হয়ে দুদিন পরে আগেরটা নাই হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিযুক্ত হলেই হবে না আপডেটও থাকতে হবে। এমনকি এডভান্স লেভেলের চিন্তা-ভাবনাও থাকতে হবে। তানাহলে পরবর্তী প্রজন্ম নাস্তানাবুবদ করে ছেড়ে দেবে। এমনও হতে পারে দূর থেকে আপনার প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ড পর্যন্ত বন্ধ করে দেবে।
বাস্তব দুনিয়ার ফ্রড-মানুষগুলোর চেয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ার ফ্রড-মানুষগুলো অনেক স্মার্ট এবং কাজগুলো এত সুচতুর যে আপনি ধরা দূরে থাক বুঝতে পারবেন না যে কিভাবে কি হলো। এজন্য আপডেট থাকার পাশাপাশি এদের ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ স্যোশাল মিডিয়াতে দিনের বিশাল একটা সময় ব্যয় করছে। এতে করে ঐ মানুষগুলোর উৎপাদনশীলতায় বিশাল প্রভাব পড়ছে এবং উৎপাদন কমে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। মানুষ মানুষই থেকে যাচ্ছে, ভেতরটা মাঁকাল ফলের মত হয়ে যাচ্ছে। স্যোশাল মিডিয়া খারাপ সেটা বলছি না। তবে, বেশিরভাগ মানুষ ইউজ না করে এগুলোর এবিউজ করে। সমস্যাটা এখানে। ইউজটা হয় প্রয়োজনে। এবিউজটা হয় অপ্রয়োজনে। সেল্ফ অ্যাওয়ারনেস না হলে খুবই বিপদে পড়ে যাবেন আপনি। আমার কথাগুলো জ্ঞান-প্রদানমূলক শোনালেও আখেরে আপনার আমার সবারই লাভ। কারন, একজন সচেতন মানুষ সমাজ ও দেশের সম্পদ। আর অসচেতন মানুষ দেশ ও দশের বোঝা স্বরূপ।
অনেককে দেখছি ফেসবুকের কল্যানে অতিমাত্রায় আবেগ-প্রবণ আচরণ প্রকাশ করছে। আরে ভাই, পাব্লিক প্লেস এটা। এখানে গরম হলে আপনাকে সবাই ভেতর থেকে থুঁথুঁ মারবে। বাইরে থেকে হাওয়া দিবে। নিজেকে হাসির পাত্র না বানিয়ে আত্মোন্নয়নে মনোযোগ দিন। আপনারও কাজে দিবে, দেশের জিডিপিতেও আপনার অবদান রাখার সুযোগ হলো; এই আর কি! মরে গেলে কেউ মনে রাখে না। এটাই বাস্তবতা। নিজের সময়টুকুর সঠিক ব্যবহার করুন। অন্তত জীবনটা সুন্দর হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে। নিজের সময়টাকে যথাযথ কাজে লাগাতে না পারলে আপনি দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে পড়বেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশীজন হতে চাইলে নিন্মোক্ত ১০ টি বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বেশ কিছুদিন ধরে চলমান ও আগামীর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার একটি তালিকা করে চলেছে। গুরুত্ব অনুসারে এমন ১০টি দক্ষতা হলো-
১. জটিল সমস্যা সমাধানঃ
আগেকার দিনে মানুষ সমস্যার সম্মূখীন হলে দোষারোপ করে দিন পার করে দিত। আর এখন কে কত দ্রুত জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে সেটার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াগুলো কি হতে পারে সেগুলোর ব্যাপারে ধারণা থাকতে হবে।
২. তুরীয় চিন্তাঃ
জটিল বিষয়ে দ্রুত সঠিক গোছালো চিন্তা-ভাবনা করতে পারার দক্ষতাকে তুরীয় চিন্তা বা ক্রিটিক্যাল থিংকিং বলে।
৩. সৃজনশীলতাঃ
নতুন কিছু তৈরি করতে পারার অপর নাম সৃজনশীলতা। মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় এবং সহজ কিছু আবিষ্কার করা। যেকোন সমস্যার সহজ, টেকসই, উন্নত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করাটাও সৃজনশীলতার অন্তর্ভুক্ত।
৪. জনব্যবস্থাপনাঃ
যারা জনব্যবস্থাপনায় দক্ষ, তারা দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে ক্যারিয়ারে শীর্ষে। জনব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। যে হারে দ্রুত জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে করে এর গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে।
৫. অন্যদের সঙ্গে কাজের সমন্বয়ঃ
দলভিত্তিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব মানুষ যে দিন থেকে সামাজিক জীবে পরিণত হলো সে দিন থেকে। অন্যের সঙ্গে কাজ ভাগাভাগি করে করতে পারাটা তাই সময়োপযোগী একটি দক্ষতা। অন্যদের সঙ্গে অভিযোজনের চর্চা শিখতে হবে ছোটকাল থেকে।
৬. আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাঃ
আবেগ আর বুদ্ধিমত্তা যেখানে মিলেমিশে কাজ করে। আবেগহীন বুদ্ধিমত্তা রসকষহীন মিষ্টান্নের মত। আবার বুদ্ধিমত্তাহীন আবেগ প্রতিষেধকহীন ব্যাধির মত। নিচে এটার বিস্তারিত আছে।
৭. বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ
পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির লোকজন কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। অনেককে দেখি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে অন্যের দেয়া পরামর্শকে সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করে। বিচার-বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গির প্র্যাকটিস করতে হবে।
৮. সেবা প্রদানের মানসিকতাঃ
মানুষের জন্য যে কয়টি পেশা রোবট নিতে পারবে না তার সবগুলোই সেবামূলক। যেমন ধরুন, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর্মী, উকিল, শিক্ষক, এমনকি বারটেন্ডারসহ বাগানের মালি, কেয়ারটেকার। যেসব কাজ ‘মানবিক’ সেগুলো টিকে যাবে। তা ছাড়া সম্পূর্ণ নতুন অনেক ক্ষেত্র তৈরি হবে, যাতে প্রয়োজন হবে ‘মানবিক মিথস্ক্রিয়ার’। এসবের জন্য সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
৯. দর-কষাকষিঃ
দর-কষাকষি জীবন-জগতের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দর-কষাকষি করতে পারাটাও একটি বিশেষ দক্ষতা। একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন দর-কষাকষিতে অনেকে অভ্যস্ত না। সেটা বেচাকেনা হোক বা মত-প্রকাশে হোক বা নিজের অবস্থান প্রমাণে হোক। দর-কষাকষি মানে এই নয় যে আপনি মানুষের সঙ্গে যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করবেন। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে দর-কষাকষিতে দক্ষ হতে হবে।
১০. চিন্তায় স্বচ্ছতাঃ
অপরিচ্ছন্ন চিন্তা-ভাবনার লোকজনে ছড়াছড়ি। তার কারণ তাদের চিন্তায় স্বচ্ছতা নেই। স্বচ্ছ চিন্তা ছাড়া কোন সুষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রহণ অসম্ভব। চিন্তার অস্বচ্ছতা জড়তা তৈরি করে এবং নিজেকে সঠিক ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় না। চিন্তায় স্বচ্ছতা আনতে নিজস্ব জানার পরিধি বিস্তৃতির জন্য জানার সুত্রগুলো চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
উল্লিখিত একটাও কিন্তু বিষয় বা জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতাকে নাকচ করে না, বরং ওটাকে জোরদার করে।
সারাবিশ্বে শিক্ষা এজন্য অ্যাকটিভিটিনির্ভর হয়ে উঠছে। মুখস্থের পরিবর্তে বিশ্লেষণ, সূত্রের চেয়ে প্রথম নীতির প্রয়োগ এবং সর্বোপরি শ্রেণিকক্ষে দলীয় কাজের পরিমাণ বাড়ানোই একমাত্র উপায়। এখন এখানে প্রাথমিক শিক্ষার মূল অংশই হচ্ছে তথ্য মুখস্থ করানোর চেষ্টা। এই বৃত্ত থেকে বের হওয়া সময়ের দাবী। শিক্ষকের আসন থেকে শিক্ষকদের হতে হবে ফ্যাসিলিটেটর। শৈশব থেকেই বাচ্চারা যেন উপাত্তের ভিজুয়ালাইজেশনে আগ্রহী হয়ে ওঠে, সে জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এছাড়া, আপনার ইমোশন এবং ইন্টেলিজেন্সকে একত্রিত করে কাজে লাগাতে হবে। যেটাকে শুদ্ধ ভাষায় বলে "ইমোশোনাল ইন্টেলিজেন্স" বা "আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা"। ইমোশোনাল ইন্টেলিজেন্স নিন্মোক্ত মোট চারটি বিষয়ে দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। যেটা জনৈক ট্র্যাভিস ব্র্যাডবেরি ও জিন গ্রিভসের লেখা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ২.০ বইটিতে লেখকদ্বয় বলেছেন, "ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স চারটি দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। দক্ষতা চারটি হলো-
১. সেলফ অ্যাওয়ারনেস বা নিজেকে জানাঃ
নিজের সম্পর্কে পূঙ্খানুপূঙ্খ ধারণা থাকতে হবে। এটা পৃথিবীর প্রথম জ্ঞান যে নিজেকে জানতে হবে। নিজের যুক্তিসঙ্গত ভালো লাগা, মন্দলাগা, নিজস্ব কর্মধারা, কোন পরিবেশ দ্বারা আপনি প্রভাবিত হচ্ছেন, নিজের চলাফেরা, গতিবিধি প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। এককথায় মনের পর্দায় নিজেকে দেখে সুস্পষ্ট ধারণা নেয়া। যেন চোখ বুজেও নিজেকে নিজে চেনা যায়।
২. সেলফ ম্যানেজমেন্ট বা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ
অনেকে আছে কঠিন পরিস্থিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা আবেগীয়-বুদ্ধিমত্তাকে ধ্বংস করে দেয়। রাগ, ক্ষোভ, হিংসা-বিদ্বেষ, অহং, শঠতা ইত্যাকার যত নেতিবাচক অবধারণ আছে এগুলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। সুতরাং, এগুলো থেকে যতদূরে থাকা যাবে ততই নিজেকে নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্রগুলো রপ্ত করতে পারবেন।
৩. সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস বা সামাজিক সচেতনতাঃ
সামাজিক সচেতনতা বলতে সমাজে আপনার অবস্থান কি এবং পরবর্তী সময়ে নিজেকে সমাজে কোন অবস্থানে দেখতে চাইছেন সেটা। তাছাড়া, সমাজে অনেক অনিষ্টকর কীট-পতঙ্গ জীব রূপ মানুষ আছে, যারা অযথা মানুষকে হয়রানি করে। সমাজে বসবাসকারী এ সকল মানুষের ব্যাপারে সচেতন থাকা। আমি মনে করি, এগুলোর পাশাপাশি সমাজকে ইতিবাচক কিছু প্রতিবিধান দিতে পারাটাও সামাজিক সচেতনার অঙ্গ।
৪. রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট বা সম্পর্ক ব্যবস্থাপনাঃ
এর মানে এই নয় যে, আপনাকে প্রেম-পিরিতিতে দক্ষ হতে বলা হচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক, কর্মস্থল এমনকি কর্পোরেট ওয়াল্ডের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ইতিবাচক যোগাযোগ দক্ষতায় যে যতবেশি দক্ষ, সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় সে তত এগিয়ে।
এছাড়া, {প্রয়োজন সফট স্কিল ও ফাংশনাল স্কিল। সফট স্কিল মূলত আচরণগত ও সামাজিক দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা, আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তার একটি সামগ্রিক রূপ। আর ফাংশনাল স্কিল হলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা প্রয়োগের বিষয়। অর্থাৎ, চমৎকারভাবে আলোচনা বা নেগোসিয়েশন করতে পারা, সাবলীলভাবে সবার সামনে কথা বলতে পারা হলো সফট স্কিল। আর কাজের ক্ষেত্রে যখন দক্ষতাগুলো আপনি কাজে লাগাবেন, তখন তা হয়ে উঠবে ফাংশনাল স্কিল। করপোরেট কোচের মুখ্য পরামর্শক ও মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ যিশু তরফদার বললেন, ‘সফট স্কিল ও ফাংশনাল স্কিলের গুরুত্ব সব সময়ই ছিল, আছে এবং থাকবে। এটি আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে, যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করে।’ (প্রথম আলো)}
ফেসবুকে চটকদার ছবি, ভিডিও পোস্ট করে ভাইরাল হলেও বিপদ আছে। এখন ধীরে ধীরে সব মানুষ বুঝতে শিখছে। প্রতিটা শিল্প বিপ্লবের সময়ের পার্থক্য ছিল কমছে কম ১০০ বছর সেখানে তৃতীয় শিল্প বিপ্লব আর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৫০ বছর। এত দ্রুত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবেন না। এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐ সব ভাইরাল-ফাইরাল দিয়ে কোন কাজ হবে না। আস্তাকূড়ে ফেলে দেবে পরবর্তী প্রজন্ম। প্রথমে তো একটা গল্প বললাম। ওখানকার অফিসার এর থেকে আরো জটিল দুটো ঘটনা শেয়ার করেছিলেন। খুবই করুন ছিলো সে দুটো। যাহোক, ফালতু সময় নষ্ট করলে কপালে শনি অপেক্ষা করছে। এসব বাদ দিয়ে সৎ-কর্মে নেমে পড়ুন।
সর্বশেষ একটা কথা বলি। সেটা হচ্ছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক বৈষম্য, সম্পদ বৈষম্য নিয়ে অনেক আন্দোলন, অনেক প্রচারণা হয়, হচ্ছে। কিন্তু, প্রযুক্তি বৈষম্য নিয়ে কেউ কিন্তু কোন কথা বলছেন না। এটা জাতি হিসেবে আগামীর বিশ্বে মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেবে। অলরেডি প্রযুক্তির হরেক ত্রুটি -বিচ্যূতি দেখা দিয়েছে। যা থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য অনেক উপায়ও বের করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু, টেকসই, উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী কোন সল্যূশন কেউ কিন্তু দিতে পারছেন না। এজন্য এর থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, প্রযুক্তি বৈষম্য কমিয়ে ফেলা। তাতে করে, একজনের মাথা থেকে যে আইডিওলজিগুলো আসতো তার চেয়ে দশগুণ সমাধান নিয়ে আসবে দশমাথা একত্রিত হলে। প্রযুক্তি বৈষম্য দূর করলে সামষ্টিক লাভের চেয়ে ব্যক্তিক লাভটা বেশি। এ রকম যে দু'জন প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তির লেনদেন, চলাফেরা নিঃসন্দেহে বৈধ ও ভালো হবে এবং সেটা সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে। এতে করে বাঁজে চিন্তা মাথায় ঢোকানোর উভয়েরই কোন সময় থাকবে না। তাতে করে উভয় ব্যক্তিই লাভবান হবেন। মাঝখান থেকে দেশটা সুন্দর হয়ে যাবে।
(অল্প কিছু তথ্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।)